বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এর সমাধান হিসেবে জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং এর কার্যকারিতা | Nobobarta

আজ সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এর সমাধান হিসেবে জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং এর কার্যকারিতা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এর সমাধান হিসেবে জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং এর কার্যকারিতা

Rudra Amin Books

খায়রুল কবির নিশান : শিল্প বিপ্লবের পর থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে,কারণ কার্বন-ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বেড়েছে। এই তাপমাত্রা যাতে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর বেশি না যায় তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে “প্যারিস এগ্রিমেন্ট” এ। তবুও উন্নত দেশগুলো তাদের কার্বন নিঃসরণ সীমিত রাখতে পারছেনা, যার কারনে তাপমাত্রা বেড়েই যাচ্ছে এবং দুই মেরুর বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও সমানতালে বেড়ে চলছে। বেড়ে চলা এই তাপমাত্রা কে রোধ করতে ক্ষণস্থায়ী একটি প্রক্রিয়া হল জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং, যেখানে জলবায়ুর কিছু উপাদান (মেঘ, বায়ুমন্ডল, পানি, সূর্যের আলো, ইত্যাদি) এর সাথে ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

একটি উদাহরণ দিলে জিনিস টা সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার হবে। আমাদের পৃথিবীর সব শক্তির উৎস হলো সূর্যের আলো। এই আলো বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে, যার কারণে পৃথিবী তাপশক্তি পায় কিন্তু প্রায় ৩০% সূর্যের আলো মেঘ বা বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন কণার কারণে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায় মহাশুন্যে। বাকি ৭০% পৃথিবীতে পৌছায়। কিন্তু বিভিন্ন গ্যাস (যেমন কার্বন-ডাইঅক্সাইড) ওজন স্তর এর ক্ষতি করায় এখন সূর্যের তাপ (আলো) কম পরিমাণে ফেরত যায়, ফলে সেটা বায়ুমণ্ডলের মধ্যেই অবস্থান করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

সূর্যের আলো কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এ একটি বড় ভুমিকা রাখে কারণ সকল তাপশক্তির উৎস এটাই। এখন আমরা যদি সূর্যের আলো আরো কম পরিমাণে প্রবেশ করতে দেই তাহলে তো পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় না!
এর জন্য আকাশে এরোসল (এক ধরণের কণা যা মেঘ জমতে সাহায্য করে) ছড়িয়ে দেওয়া যাতে আরো বেশি মেঘ জমে, ফলাফলস্বরুপ সূর্যের আলো বেশি প্রতিফলিত হয়ে মহাশুন্যে ফিরে যাবে, ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপ কম আসবে। এ তো গেলো একটি উদাহরণ, এরকম আরো অনেক অনেক প্রক্রিয়া আছে জি-ইঞ্জিনিয়ারিং এ ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বড় ধরনের কিছু জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট চলমান অবস্থায় আছে, যেমন Climeworks নামক একটি কোম্পানি ব্যবসায়িক ভাবে বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন-ডাইঅক্সাইড আটকিয়ে সেটা পুনরায় বিক্রয় করে।

২০১৮ সালে হাভার্ড ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী পরীক্ষামুলকভাবে বায়ুমন্ডলে এরোসল ছড়িয়ে দেয় স্বল্প আকারে, এই পদ্ধতির নির্ভরতা পরীক্ষা করতে। সমুদ্রে আয়রন (একটি মৌল) ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এর পরিমাণ বেড়ে যায়, যা বায়ুমন্ডল থেকে আরো বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাইঅক্সাইড শোষণ করে নেয়। আরেকটি মজার উদাহরণ হলো মহাশুন্যে অনেকগুলো ছোট ছোট আয়না স্থাপণ করে দেওয়া যাতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়, পৃথিবীতে আসতে না পারে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা কম থাকে। মেরুকরণ, খরা বা অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো সমস্যার সমাধানের জন্য এই প্রক্রিয়াগুলো তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে খুবই উপযুক্ত কারণ এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই। সমস্যা হচ্ছে এই প্রক্রিয়াগুলোর ফলাফল ভালোর চেয়ে মন্দ বেশি।

উদাহরণ স্বরুপ যদি কেউ যদি বায়ুমন্ডলে এরোসল ছিটিয়ে দেয়, বেশি মেঘ হবে ফলাফলে সূর্যের আলো তো প্রবেশ কম হবেই কিন্তু এমন ও হতে পারে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেশি কমে গেলো, অথবা যেসব পশুপাখি এই তাপমাত্রা তে অভ্যস্ত তারা হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন হলে টিকে থাকতে পারবেনা। উপরন্তু বেশি মেঘ মানে বেশি বৃষ্টি, এতে বন্যার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। মানে লাভ এর থেকে ক্ষতির পরিমাণ ই বেশি। তার ওপর অর্থনৈতিক বোঝা তো আছেই, জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়া গুলো প্রচুর খরচ সাপেক্ষ, এবং অনেক গুলো কাজ ও করে কিনা সন্দেহ থাকে। এমন অনিশ্চিত প্রক্রিয়া তে উন্নত দেশগুলো বিনিয়োগ করতে চায় না। একেক প্রক্রিয়ায় একেক রকম খরচ, একেক রকমের অনিশ্চয়তা, ফলাফল কি ভালো হবে না উলটো ক্ষতির দিকে যাবে তাতেও থাকে অনিশ্চয়তা। আপাতত শুধুমাত্র একটি প্রক্রিয়াই যথোপযুক্ত আছে বলে মনে করা হয় সেটা হলো বেশি বেশি কার্বন সিংক (গাছপালা, বনাঞ্চল) তৈরী করা। যতো বেশি গাছপালা হবে, তত বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড কমবে বায়ুমণ্ডল থেকে।

পরিশেষে একটি কথা বলবো। পৃথিবীটা আমাদের, টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব ও আমাদেরই। এনার্জি সেভিং টেকনোলজি, বনায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, এগুলোই বর্তমানে যথোপযুক্ত উপায় কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমিত করতে। জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়াগুলোর ব্যাবহার তখনি করা উচিত, যখন মানবজাতির কাছে আর কোনো উপায় থাকবেনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।

খায়রুল কবির নিশান
শিক্ষার্থী : পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta