বেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের করোনা প্রটোকলের বাইরে রাখা হটকারি সিদ্ধান্ত | Nobobarta

আজ সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ০২:২৮ অপরাহ্ন

বেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের করোনা প্রটোকলের বাইরে রাখা হটকারি সিদ্ধান্ত

বেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের করোনা প্রটোকলের বাইরে রাখা হটকারি সিদ্ধান্ত

Rudra Amin Books

ডা.জয়প্রকাশ সরকার : একের পর এক উচ্চ পর্যায়ের হটকারি সিদ্ধান্তে চিকিৎসাহীন হয়ে পড়েছে দেশের সকল জনগন।একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে এই সমস্যা সহজেই এড়ানো যেতো। আজকের এই লেখায় মূলত চিকিৎসকদের বিষয়ই তুলে ধরবো, পরোক্ষভাবে সাথে রাখছি নার্স,ওয়ার্ড বয়দের।

বিএমডিসি’র তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে এমবিবিএস’দের সংখ্যা লক্ষাধিক এবং বিডিএস’দের সংখ্যা দশ হাজারের কিছু বেশী। দেশের সতের কোটি জনগনের বিপরীতে এই সংখ্যাটা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই কম।

মোট চিকিৎসকদের মধ্যে মাত্র ১০% হয়তো সরকারি চাকুরি করেন। ইতোপূর্বেও দেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চরম বেহালই ছিলো,এখনও আছে। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি জনগনের আস্থা না থাকার কারণে দেশের প্রায় ৯৫% জনগন বেসরকারি চিকিৎসা নির্ভর। এতেও যে জনগন প্রতারণার স্বীকার হন না তা নয়; কারণ এসব প্রতিষ্ঠানেও সরকারের কোন কন্ট্রোল নাই।তবুও মন্দের ভালো আরকি!

করোনার মতো ভয়ঙ্কর মহামারি কালীন সময়ে কিভাবে বেসরকারি সেক্টর বাদ দিয়ে জনগণকে সরকারি চিকিৎসা নির্ভর হতে বলা হলো বুঝি না! আজকে কার্ডিওলোজি, নিউরোলজি, কিডনি, মেডিসিন, ডেন্টাল সহ অন্যান্য চিকিৎসার যে দূরাবস্থা বিরাজ করেছে তা যেকোন বিবেকবান ডাক্তারের ক্ষেত্রেই সহ্য করা দূরহ ব্যাপার।

সরকারি চাকুরি করে না বলে একজন ডাক্তার কিংবা নার্স অথবা স্বাস্থ্য কর্মীকে এরকম আপদকালীন সময়ে সরকার চিকিৎসা সেক্টরের বাইরে রাখতে পারে না।এখন বলতে পারেন চিকিৎসকদের তো গতানুগতিকভাবে রোগী দেখতেই বলা হয়েছে। এরকম দায়সারা বলাটা যতো সহজ,বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা।

সরকারি বেতনভোগীরাও অনেকেই কিন্তু করোনাকালীন সময়ে চিকিৎসায় আসবেন না! এটাই সত্য, খাতাকলমে যাই লেখা থাক। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো মূলত কিছু জুনিয়র ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা না আসলে কখনই ভালো চিকিৎসা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র সরকারি সেক্টরের উপর নির্ভর করলে এভাবেই দেশের মানুষ বিনা চিকিৎসায় মরবে।

স্বেচ্ছাসেবক ডাক্তার, নার্সের শক্তিশালী বাহিনী তৈরী করুন এবং যারা শুধু স্বেচ্ছায় জনসেবায় জীবন ঝুঁকি নিতে চান তাদের আলাদা করুন। এই সংখ্যাটা অনেক বেশীই হবে। এভাবেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো করেছে। তাহলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কিছুটা দাড় করানো সম্ভব। জোর করে কাউকে স্বেচ্ছাসেবক বানানো যায় না, হোক সে সরকারি চাকরিজীবী ডাক্তার, নার্স কিংবা ওয়ার্ডবয়।

প্রতিটা চিকিৎসকের রেজিষ্ট্রেশন সনদ দেয় বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। এক প্রজ্ঞাপনেই এরকম লিস্ট দু দিনে তৈরী করা সম্ভব। করোনা ছাড়াও আজ দেশের আনাচে কানাচে সাধারণ রোগে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছে; এমন মৃত্যু বন্ধ করুন। চিকিৎসা পাওয়াটা নাগরিক অধিকার। আর অনলাইনে চিকিৎসার আলটিমেট কিছুই সম্ভব হয় না। এরকম পরামর্শ প্রদানের জন্য দেশের আনাচে কানাচে অনেক পল্লী চিকিৎসক আছেন।

সরকার নিজেই যদি শুধু সরকারি সেক্টরে বীমার ঘোষণা দেয় তবে,প্রাইভেট প্রাকটিশনারদের রোগী দেখা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকে না। জেনেভা ডিক্লেয়ারেশন অনুসারে যদি চিকিৎসকদের রোগীর পাশে থাকতে হয় তবে এও মনে রাখতে হবে নিশ্চিত মহামারি তার বাইরে পরে এবং চলমান করোনা মহামারিতে চিকিৎসায় বের হতে গেলে নিজের স্ত্রী, সন্তান, বাবা মাকে অকুল পাথুরী ভবিষ্যতে ফেলে আসাও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

বীমার কথা বলতে গেলে সেটাও হতে হবে সরকারি কিংবা বেসরকারি হিসেব করে নয় বরং করেনাকালীন যারাই চিকিৎসা সেবা নিয়মিত রাখবেন তাদের ক্ষেত্রে। সরকারিভাবে এই লিস্টটাই জরুরী। আক্রান্ত হলে ডেমারেজ পাবে,এরকম হটকারি বিষয়ও বন্ধ করুন।বাড়ীতে বসে থেকেও অনেকে আক্রান্ত হতে পারে আর স্বেচ্ছাসেবকেরা আক্রান্তের ডেমারেজের ধার ধারার কথা নয়। বীমার ঐ অপশনটা বাদ দিয়ে সহজ মৃত্যুবীমা প্রণয়ন করুন।জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার হবে তাহলে।

ডা.জয়প্রকাশ সরকার
কবি,লেখক ও চিকিৎসক।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta