তবে করোনা কি আমাদের জন্য আশীর্বাদ! | Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২০, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
এস,এম, জাকির হোসেন সবুজের বাবা মৃত্যুতে ইব্ররাহিম খলিল বাদলের শোক প্রকাশ সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য সহায়তা করে আটোয়ারীতে এক ব্যবসায়ী প্রশংসীত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আব্দুল মান্নান করোনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে : সেতুমন্ত্রী বগুড়ায় নতুন আরও ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র উপ-পরিচালক এর মৃত্যুতে প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলামের শোক প্রকাশ দেশে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২৪২৩, মৃত্যু ৩৫ ঘিওরের ইউএনও আইরিন আক্তারের করোনা জয়ের গল্প “আমি নিত্য পাগল ক্ষিপ্ত”–দিলপিয়ারা খানম আটপাড়ায় গণপরিবহনে সচেতনতা নিশ্চিতে আনসার ভিডিপি’র তৎপরতা
তবে করোনা কি আমাদের জন্য আশীর্বাদ!

তবে করোনা কি আমাদের জন্য আশীর্বাদ!

Rudra Amin Books

মোঃ মাহবুবুর রহমান

বর্তমান পৃথিবী থমথমে এবং স্থবির হয়ে আছে, আতঙ্ক বিরাজ করছে প্রতিটি মানব মনে। এই বুঝি প্রাণ গেলো। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও করোনার(COVID-19) প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকহারে আই,ই,ডি,সি,আরের(IEDCR) তথ্য অনুযায়ী দেশে ৮-ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩,১৩৪ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে । আর মৃত্যুবরণ করেছে মোট ২০৬ জন। বর্তমানে প্রতিটি সংবাদ ও গণমাধ্যমগুলার প্রধান খবর হচ্ছে, প্রতিদিন দেশে এবং বিশ্বে কতজন COVID-19 এ আক্রান্ত হলো এবং কতজন মৃত্যুবরণ করলো তার পরিসংখ্যান।

করোনা পূর্ববর্তী সময়ের গণমাধ্যমগুলোর চিত্রগুলো একটু স্বরণ করি তাহলে দেখা যাবে,তখন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে হরহামেশাই যে নিউজ গুলা হেড লাইনে দেখা যেতো, যেমন- সড়কদুর্ঘনাতে মৃত্যু, হত্যা, খুন, ছিনতাই ও ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনা ।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালে শুধুমাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২৭৭জনের অর্থাৎ প্রতিদিন প্রাণ যেতো গড়ে ১৫ জন মানুষের এছাড়াও ধর্ষণের মত ঘটনা এবং ধর্ষণের পর মৃত্যুর সংখ্যাটাও উল্লেখযোগ্য।

গত বছর সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬জনকে৷ আর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১০জন নারী৷ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালে রাজধানীতে ১৫৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। চুরির ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৫১৭টি। ডাকাতি হয়েছে ২১টি। এ বছরের জানুয়ারি মাসে চুরির ঘটনা ঘটেছে ১২৭টি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ১০টি

এখন IEDCR এর করোনা মৃত্যুর সংখ্যাটা আরেক বার উল্লেখ করি তাদের তথ্য মতে, ২৬শে মার্চ করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে করোনাতে মৃত্যুবরণ করেছে ২০৬ জন। ধরে নিলাম শনাক্তের অভাবে আরো অনেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে তাহলে অনুমান নির্ভর সংখ্যা মোট ৩০০ জন। ধরি, তাহলে দেশে প্রতিদিন করোনাতে গড়ে মারা যাচ্ছে ৭ জন। অর্থাৎ দেশের সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যু চেয়ে প্রায় দ্বীগুণ কম। এছাড়া ধর্ষণ,ছিনতাই, রাহাজানি,সড়কদুর্ঘটনা কমেছে ব্যাপকহারে।

এখন আর কোথাও তেমন শোনা যাচ্ছে না, ধর্ষণ কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা। তাহলে এগুলো করোনার আশ্বীর্বাদ হিসাবে ধরে নিবো?
হয়তো করোনা আমাদের জন্য আশীর্বাদ-ই। জানিনা ভবিষ্যতে করোনাতে কত সংখ্যক মানুষ দেশে মারা যাবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত যে করোনা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে সর্বোপরী মৃতুহার কম সেটা মেনে নিতেই হয়। আমরা কামনা করি মৃত্যু হার আরো কমে যাক।

তবে করোনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে স্বাভাবিক সময়ে দেশের চিত্র যে কতো যে কত ভয়াবহ পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হয়।

তবে আমরা আশা রাখি করোনা পরবর্তী এমন একটি দেশ পাবো,যেখানে থাকবে নিরাপদ সড়ক, থাকবে না খুন,রাহাজানি, হত্যা কিংবা ধর্ষণ। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরীতে সরকার,প্রশাসন এবং জনগন সকলকে একসাথে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।

লেখক:
শিক্ষার্থী,শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিউট,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta