‘শ্রদ্ধা জানাতে চাও বেঁচে থাকতেই জানাও’ – Nobobarta

আজ শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন আটোয়ারীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত জবি রোভার দলের হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণের উদ্বোধন মারুফ-তানহার ‘দখল’ লক্ষ্মীপুরে রামগতি পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগ নলছিটিতে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সভাপতি সরফরাজ, সম্পাদক লিটন রাজাপুরে আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠিত সহকারী পরিচালক সমিতির নির্বাচন আগামীকাল!!
‘শ্রদ্ধা জানাতে চাও বেঁচে থাকতেই জানাও’

‘শ্রদ্ধা জানাতে চাও বেঁচে থাকতেই জানাও’

বহুমাত্রিক লেখক ও অধ্যাপক রতনতনু মৃত্যুবরণ করেছেন সোমবার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি তেজগাঁও শমরিতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমিতে। তবে অনুমতি না নেওয়ার কারণ দেখিয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষ লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে অস্বীকৃতি জানায়। একাডেমির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি তার শবদেহ।

বহুমাত্রিক এই সাহিত্যিকের প্রতি বাংলা একাডেমির এ ধরণের আচরণে ক্ষুব্ধ আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। শ্রদ্ধা জানাতে না দেওয়ার ঘটনাকে সাহিত্যিকের ‘অপমান’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার রাত নয়টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ভালো যে সাহিত্যিক রতনতনু ঘোষ জেনে যাননি যে তাঁর মৃতদেহটিকে বাংলা একাডেমির ভেতর ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভালো যে তিনি তখন কিছু বোঝেননি, কিছু শুনতে পাননি, দেখতে পাননি। ভালো যে তিনি তখন মৃত ছিলেন। তাঁকে দেখতে হয়নি তাঁর অপমান। তাও আবার বাংলা একাডেমির কাছ থেকে, যে বাংলা একাডেমির দায়িত্ব সাহিত্যিকদের অপমান থেকে বাঁচানো।’

সাহিত্যিক রতনতনু সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রতনতনু ঘোষ নাকি পত্রিকা অফিসে গিয়ে গিয়ে নিজের লেখা পৌঁছে দিতেন। নিজের লেখা নিজের হাতে যদি পৌঁছে দিতে হয় পত্রিকা অফিসে, তবে বেঁচে থাকাকালীনও তিনি যে খুব সম্মান পেয়েছেন তা মনে হয় না। মানুষটা বোকা ছিলেন, তাই নিজের নামের আগে কায়দা করে কালজয়ী ঔপন্যাসিক, জগৎশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, বিপ্লবী কবি, সব্যসাচী লেখক ইত্যাদি বিশেষণ জুড়ে দেননি। ওরকম বিশেষণ সর্বস্ব কেউ না হলে একাডেমি তার দ্বার সম্ভবত খোলে না।’

তিনি আরও বলেন, সাহিত্যিকদের মৃতদেহ বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়ার চলটা বন্ধ হওয়া উচিত। সাহিত্যিকদের সম্মান জানাতে চাইলে পাঠকরাই জানাবে, জীবিত থাকাকালীন জানাবে। মৃত মুখ দেখার ইচ্ছে কেন হয় মানুষের জানি না। কাউকে ভালো লাগলে তার মুখখানা যখন সে বেঁচে আছে তখন দেখে নেওয়াই ভালো। পুরস্কার দিতে চাও, প্রশংসা করতে চাও, শ্রদ্ধা জানাতে চাও বেঁচে থাকতেই জানাও। মরে গেলে একটা মানুষ যেমন তাকে অপমান করা হচ্ছে বোঝে না, তাকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে এটাও বোঝে না।


Leave a Reply