শিশু নাটকের উদ্ভব ও বিকাশ : ১ম পর্ব – Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কাউখালীতে ৪০ যাত্রীসহ খেয়া ট্রলার ডুবি, পিএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ পাকিস্তান থেকে এলো ৮২ টন পেঁয়াজ রহমতপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ড আ’লীগের সম্মেলন, সভাপতি সুলতান, সম্পাদক স্বপন তারেক রহমানের জন্মদিনে জাবি ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ আগৈলঝাড়ায় পেঁয়াজ, চাউল ও লবণ নিয়ে গুজব, ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাসের অভিযান অব্যাহত কাউখালীতে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ পিইসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার কবি সুফিয়া কামালের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীনের জাবির হল খুলে দেওয়াসহ ৭দফা দাবি শিক্ষার্থীদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শুরু হল বুড়ি তিস্তা খনন নলছিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
শিশু নাটকের উদ্ভব ও বিকাশ : ১ম পর্ব

শিশু নাটকের উদ্ভব ও বিকাশ : ১ম পর্ব

মোনালিসা দাস : যাকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ, সেখানে শিশুদের জন্য রচিত ছড়া, গল্প, ধাঁধা, রূপকথা, লোকগাথা, লোকগীতিকা ইত্যাদি ছিল ঠিকই, কিন্তু তা ছিল মৌখিক এবং শ্রম্নতিবাহিত। তখন শিশুকে ভোলানোর জন্য রচিত হয়েছে ছড়া ও গান। ছোটরা, বিশেষ করে, বালক-বালিকারা ঘরে ও বাইরে খেলা করার সময় এক ধরনের খেলার ছড়া গড়ে উঠেছে মুখে-মুখে।

এভাবে যে শিশু-কিশোর সাহিত্যের সৃষ্টি তা যখন মুদ্রণের যুগে এসে পৌঁছল তখন সেগুলো মুদ্রিত হলো বিভিন্নজনের চেষ্টায়। চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর ইউরোপীয় সাহিত্যে যা কিছু মুদ্রিত হয়েছে সবই বড়দের জন্য। ছোটদের জন্যও যে আলাদা করে কিছু লেখার প্রয়োজন আছে – এত মূল্য দেয়নি ছোটদের। প্রাপ্তবয়স্কের পৃথিবীতে শিশুদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে মনোযোগ দেওয়ার চেতনা তৈরি হয়নি।

ইউরোপে সপ্তদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম নিও-ক্লাসিক্যাল যুগের দর্শনবিদরা ছোটদের কথা একটু ভাবতে শুরু করেন। এই যুগেই প্রথম ছোটদের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা ও আনন্দের ব্যবস্থা করা উচিত, এই ভাবনা দেখা দিলো। ইংরেজ দর্শনবিদ জন লক (John Locke, 1632-1704) ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশ করলেন তাঁর বই অ্যান এসে কনসার্নিং হিউম্যান আন্ডারস্ট্যান্ডিং। এই গ্রন্থেই আছে তাঁর তত্ত্ব ‘ট্যাবুলা রাসা’ অর্থাৎ শূন্য পাতা (বস্ন্যাংক সেস্নট)। তিনি বললেন, জন্মের পরই মানুষ অর্থাৎ শিশুদের মন থাকে সাদা পাতার মতো। অভিভাবকদের কর্তব্য হলো সেই পাতায় যথার্থ ধারণাগুলোকে উৎকীর্ণ করে দেওয়া, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ ভালো হয়। তিনি লিখেছিলেন সেই অমোঘ বাক্য – ছোটদের শেখাতে হবে জোর না করে, আনন্দের মধ্য দিয়ে –

‘Children may be cozened into a knowledge of the letters; be taught to read, without perceiving it to be anything but a sport, and play themselves into that which others are whipped for.’১

আরো আশ্চর্য যে, তিনি ছোটদের জন্য ছবিসহ বই তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ছোটদের বইয়ের সঙ্গে ছবির ধারণার সেই বোধহয় সূত্রপাত।

উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে ইউরোপে শুরু হয় শিশুসাহিত্যের স্বর্ণযুগ। তার প্রধান কারণ প্রকৃতপক্ষেই শিশুদের স্বতন্ত্র ব্যক্তিরূপে অনুভব করার মানসিকতা দেখা দেয় এই সময়ে। সেইসঙ্গে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব, সর্বশিক্ষার প্রসার, কাগজ এবং মুদ্রণব্যবস্থার উন্নতি, ছবির সঙ্গে রং ব্যবহার করার প্রযুক্তি ইত্যাদি পরিস্থিতিও ছিল।

এই ধারাবাহিকতায় এক আশ্চর্য সংযোজন হল লিউইস্ ক্যারলের (Lewis Carroll; প্রকৃত নাম Charles Lutwidge Dodgson, 1832-98) অ্যালিসের কাহিনি। বইটির প্রকাশ ইংল্যান্ডে ১৮৮৫-তে। ইতালীয় লেখক কার্লো কালোদি (Carlo Callodi, প্রকৃত নাম Carlo Loresurize, 1826-90)-রচিত ফ্যান্টাসি-উপন্যাস দি অ্যাডভেঞ্চার অব পিনোক্কিও প্রকাশিত হয় ১৮৮৩-তে। রাডইয়ার্ড কিপলিং (1885-1936) তাঁর জঙ্গল বুক প্রকাশ করেন ১৮৯৪-তে এবং জেমস ব্যারির (James Barrie, 1860-1937) লেখা পিটার অ্যান্ড ওয়েনডি প্রকাশিত হয় ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে। ছবি দেওয়া হতো এই বইগুলোর সঙ্গে প্রায়ই। শিশুমনের উপযোগী লেখা ও ছবি-সংবলিত এই বইগুলোর মাধ্যমেই সমৃদ্ধ শিশুসাহিত্যের প্রকাশ ঘটতে থাকে। উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে শিশুসাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

মোনালিসা দাস
অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, আসানসোল, ভারত।


Leave a Reply