শিশুর দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধের উপায় - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিশুর দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধের উপায়

শিশুর দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধের উপায়

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    21
    Shares

ডাঃ  জয়প্রকাশ সরকার : দাঁতের ক্ষয় বা গর্ত হওয়াকে অনেকেই দাঁতের পোকা বলে থাকেন। যদিও বিজ্ঞানীরা শত চেষ্টায়ও দাঁতের পোকার অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।

সাধারণত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য মুখের ভেতরে এক ধরনের অ্যাসিড (লেকটিক অ্যাসিড) তৈরি করে,তবে এখানে ল্যাকটোবেসিলাস নামক জীবানুর উপস্থিতিও পাওয়া যায়। এই অ্যাসিড দাঁতের ওপরের শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করে গর্তের সৃষ্টি করে।

এই রোগের নাম ডেন্টাল ক্যারিজ। দাঁতের বাইরের আবরণ এনামেল, ভিতরের আবরণের তুলনায় শক্ত হওয়ায় আমরা যেকোন দাঁতের গর্তকে বাহির হতে ছোট মনে হলেও বস্তুত ভিতরে বড় হয়ে যায়। চিনি মিশ্রিত দুধ বা অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণের পর দাঁতের বহিরাবরণ এনামেলের ওপর যে আবরণ সৃষ্টি হয়, তাকে আমরা পেলিক্যাল বা ডেন্টাল প্ল্যাক বলি। লাখ লাখ জীবাণুযুক্ত ডেন্টাল প্লাক শিশুদের দাঁতের ক্ষয় রোগের প্রধান কারণ। শিশুদের দাঁত ওঠার পর যেকোনো সময় দাঁত ক্ষয় হতে পারে। এ থেকে ঘন ঘন জ্বর, দাঁতব্যথা, টনসিলের প্রদাহ ইত্যাদি হতে পারে। এটা সত্যিই শিশুদের জন্য একটি বড় সমস্যা।

রক্ষা পাওয়ার উপায় : দাঁত শক্ত ব্রাশ দিয়ে জোরে জোরে ঘষলেই প্লাক পরিষ্কার হয় না। এর জন্য সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ও মাড়ি ব্রাশ নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ, দাঁত ও মাড়ির ওপর-নিচে ও চারপাশে সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত দুবেলা পরিষ্কার করতে হবে যেন খাদ্যদ্রব্য এর গায়ে বা মাড়ির ফাঁকে লেগে না থাকে।

দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার না থাকলে বহুদিন জমে থাকা প্লাক নরম মাড়িতেও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে ক্যালকুলাসে রূপান্তরিত হয়ে এবং সামান্য আঘাতেই রক্তপাত হতে পারে। কোনো কিছু দেখা বা বোঝার আগেই এই প্রদাহ শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই হঠাৎ একদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় শিশু দাঁতব্যথায় কাঁদতে শুরু করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যেসব শিশু ফিডার দিয়ে দুধ খায় বা ঘুমের মধ্যেও ফিডার মুখে দিয়ে রাখে, তাদের দাঁত ক্ষয় বেশি হয়।

প্রতিরোধের উপায় : শিশুদের চিনি জাতীয় বা মিষ্টি খাদ্য খাওয়ার পর কুলকুচি করা বা প্রয়োজনে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করাবেন। সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করতে শেখাবেন। ব্যথা শুরু হলেই চিকিৎসক দেখানো বাদ দিয়ে নিয়মিত মুখ ও দাঁত পরীক্ষা করানো উচিত, বছরে অন্তত দুবার। এক্ষেত্রে অবশ্যই কোন বি ডি এস ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন, আমাদের জেলা শহরগুলোর যত্রতত্র হাতুড়েদের চকচকে ডেন্টাল চেম্বার অনেক! দুধ দাঁত পড়ে যাবে বলে অনেকের ধারণা, এর বেশি যত্ন নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু দুধ দাঁত সুস্থ ভাবে না পড়লে স্থায়ী দাঁত সঠিক অবস্থানে আসে না।

ডাঃ জয়প্রকাশ সরকার, ডেন্টাল সার্জন,জয় ডেন্টাল ক্লিনিক, বরংগাইল বাসষ্ট্যান্ড,মানিকগঞ্জ।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply