শিক্ষা বিস্তারে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও আর পি সাহার অবদান অনস্বীকার্য : মোস্তফা - Nobobarta

আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০১ অপরাহ্ন

শিক্ষা বিস্তারে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও আর পি সাহার অবদান অনস্বীকার্য : মোস্তফা

শিক্ষা বিস্তারে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও আর পি সাহার অবদান অনস্বীকার্য : মোস্তফা

তৎকালীন পূর্ব বাংলার পশ্চাতপদ জনগোষ্টির শিক্ষা বিস্তারে মহাত্ম অশ্বিনী কুমার দত্ত ও রণদা প্রসাদ সাহা’র অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আমাদের সমাজ ও মানবগোষ্টির কল্যাণে যারা অবদান রেখেছেন তাদের শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করা উচিত। যে সমাজ গুনি মানুষকে সম্মান করে না, সে সমাজের গুনি মানুষ জন্ম গ্রহন করে না। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের উর্ধ্বে উঠে গুনি মানুষদের সম্মান করা উচিত।

শনিবার ( ৯ নভেম্বর) তোপখানার নির্মল সেন মিলনায়তনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বরিশাল বিএম স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মানবতাবাদী মনিষী মহাত্ম অশ্বিনী কুমার দত্তের’র ৮৬তম ও ভারতেশ্বরী হোম স্কুল এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহা’র ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম নেতা অশ্বিনী কুমার দত্তকে আধুনিক বরিশালের নির্মাতাও বলা হয়। বঙ্গভঙ্গ হতে স্বদেশী আন্দোলন এরপর স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন যে কজন তাদের মধ্যে অশ্বিনী কুমার অন্যতম। জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কাজকর্মের জন্যে তাকে মহাত্মা অশ্বিনীকুমার বা আধুনিক বরিশালের রূপকার বলে অভিহিত করা হতো। দুর্নীতি, সামাজিক গোঁড়ামি, কুসংস্কার ইত্যাদির বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিবেদিত প্রান ছিলেন তিনি। দুর্ভিক্ষে অতুলনীয় সেবাকাজে, চা বাগান শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রান, ক্লান্তিহীন নেতা।

আর পি সাহার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ধনকুবের রণদা প্রসাদ সাহা মানবসেবায় অনন্য এক নাম। তার শুরুটা হয়েছিল দরিদ্র পরিবারে। জীবিকানির্বাহের জন্য কোনো কাজই ছোট মনে করেননি। কয়লা ও পাট ব্যবসায় অভাবনীয় আর্থিক সাফল্যের দেখা পান তিনি। বিলাসিতায় নয়, জীবনে অর্জিত সব সম্পদ দিয়ে গড়েছেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টটির অধীনে মির্জাপুরে রয়েছে কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, নার্সিং স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইমেন্স মেডিকেল কলেজসহ নানা শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া দেশজুড়ে বহু স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মন্দির, মসজিদ নির্মাণে অকাতরে দান করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন এনডিপি’র মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগে নেতা আ স ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার, সাংবাদিক মিজান শাহজাহান, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, মহানগর সভাপতি মো. শহীদুন্নবী ডাবলু, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীরঞ্জন দাস ও দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। সেই কারণেই ১৯১৭ সালে মহাত্মা মোহন দাস করমচাদগান্ধী ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ অশ্বিনী কুমার দত্তের সাথে দেখা করেন এবং এক পর্যায়ে মহাত্ম গান্ধী বলেছিলেন সারা ভাতর যখন ঘুমায় তখন থাকে জাগ্রত। কারণ অশ্বিনী কুমার দত্ত যা ভাবতেন এবং মানুষের কাছে বলতেন তাহাই পরবর্তীতে ফলতো। অশ্বিনী কুমার দত্ত ইংরেজ শাসনামলে ১৮৮৬ সালে বিএম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৮৯ সালে বিএম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই কারণেই প্রতিষ্ঠা করেছেন যে উপমহাদেশকে সম্প্রতির উপমহাদেশ গড়ার লক্ষ্যে। তিনি আধুনিক বরিশালের রূপকার। মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত তার আইন পেশার সময় বরিশালে একটি আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলেন সত্য প্রেম পবিত্রতা। এই শব্দ তিনটি এখনো বিএম কলেজে আছে। আমরা যদি এই তিনটি শব্দকে অনুসরণ করতে পারি, তবেই বাংলাদেশ হবে জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র সবার বাস উপযোগী দেশ।

বক্তারা আরো বলেন, রণদা প্রসাদ সাহার লক্ষ ছিল মানুষকে শিক্ষিত করা, নারীদের জাগরণ সৃষ্টি করা এই লক্ষ্যেই তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ^রী হোম ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মানুসের স্বাস্থ্যসেবার জন্য মির্জাপুর হাসপাতাল করেন। এইসব গুনের অধিকারী থাকার পরও আমরা দেখতে পাই ৭১ এর ঘাতক জামায়তরা রণদাপ্রসাদ সাহাকে মেনে নিতে পারে নাই। তাই তারা ৭ই মে ১৯৭১ সালে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমরা তার হত্যার বিচার চাই এবং আজকের আলোচনা সভা থেকে ঘোষণা করতে চাই, রণদাপ্রসাদ সাহা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বাঙালিদের বাংলা হবে সুশিক্ষাই শিক্ষিত মানব কল্যাণের মানব জাতি।

বক্তরা আরো বলেন, অশ্বিনী কুমার দত্তের নামানুসারে বরিশাল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নামকরণের দাবী ও টাঙ্গাইলে রণদা প্রসাদ সাহার নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার জোর দাবী জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। বক্তারা আরো বলেন বিএম কলেজের ছাত্র যারা স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন সাংবাদিক নির্মলসেন, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও ইতিহাসবিদ সিরাজউদ্দীন আহমেদ। এই নেতাদের তৈয়ারের কারখানা যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি হলেন মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত। তাকেও রণদাপ্রসাদ সাহাকে শিক্ষার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য একুশে পদক দেওয়ার দাবী জানান সভা থেকে।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family
Design & Developed BY Nobobarta.com