২৭ বছরে জেএনইউডিএস, সভাপতির শুভেচ্ছা | Nobobarta

আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

২৭ বছরে জেএনইউডিএস, সভাপতির শুভেচ্ছা

২৭ বছরে জেএনইউডিএস, সভাপতির শুভেচ্ছা

Rudra Amin Books

শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সমন্বয়ে গঠিত জগতের একটি ব্যাপক অংশজুড়ে রয়েছে বাকশিল্প। বাকশিল্পের সাথে ন্যায়শাস্ত্রের সমন্বয়ে যুক্তি, তত্ত্ব এবং তথ্যের মাধ্যমে পরিশীলিত ভাষায় নিজস্ব মতামত উপস্থান করার নামই বিতর্ক। বিতর্ক এমনই একটি গুণ, যা মানুষকে যৌক্তিক চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং মেধা ও বক্তব্যকে শাণিত করতে সাহায্য করে। বিতর্ক এমনই একটি চর্চা যেটি ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন এবং প্রকাশকে একটি মোহনায় এনে সম্মীলন ঘটায়। বিতর্ক এমনই একটি মাধ্যম যেটি সমাজ বিনির্মাণ, সংস্কার এবং চিন্তার দারিদ্র‍্য দূর করে, অজ্ঞতার দেয়াল ভেঙ্গে আলোকিত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের হাত ধরেই বিতর্ক চর্চা শুরু হয়। সক্রেটিস শিখিয়েছিলেন প্রশ্ন করতে। প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় উত্তর, নানান রকম উত্তর। সেখান থেকেই মূলত যুক্তি- পাল্টা যুক্তির আরম্ভ। শুরু হয় বিতর্ক। সেই থেকে চলে আসা বিতর্কের শৈল্পিক পাঠ যদি আধুনিককালে প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতায় চর্চা হয়, তাহলে মানব সমাজের উৎকর্ষ সাধনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিক রাখতে পারবে । বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে সমাজকে পরিশীলিত এবং যুক্তিবাদী মানুষ তৈরীর মানসে ” বিতর্কে শাণিত চৈতন্য ” শ্লোগানকে ধারণ করে ১৯৯২ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় জগন্নাথ কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি।

বাস্তবিতার তাগিদে এবং সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ” জগন্নাথ কলেজ” যখন “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে” রূপ নেয়, তখন এই বিতর্ক ক্লাবের নাম হয়, “জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি।” সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে, নতুন পরিচয়ে, নতুন কার্যক্রম নিয়ে যুক্তিচর্চার এই ক্লাবের আবার পুণ:জন্ম হয়, যার সংক্ষিপ্ত রূপ “জেএনইউডিএস”। বর্তমান সারা বাংলাদেশের বিতর্ক অঙ্গনে “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি” একটি জনপ্রিয় নাম, যেটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানান্বেষণ-স্পৃহকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যেম যুক্তিবাদী চিন্তাচেতনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য কাজ করে যাচ্ছে।

জেইএনইউডিসের তত্ত্ববধানে বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ টি ইন্সটিটিউটসহ ৩৬ বিভাগ নিয়ে মোট ৩৮ টি ক্লাব পরিচালিত হয়। জাতীয় পর্যায়ের বিতার্কিকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবছর ” একটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন” করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরাও সারা বছর সরকারী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়িত্ত্বশাসিত বা আধা-স্বায়িত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক, এটিএনবাংলা বিতর্ক, বিডিএফ কর্তৃক আয়োজতি চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রতিবছর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় কমিটির ভোটের মাধ্যমে এ সংগঠনের কার্যকরী কমিটি নির্বাচিত হয়। উল্লেখ্য ভোটার সংখ্যা এবং প্রতিযোগিতার দিক থেকে এটি বাংলাদেশের বিতর্ক সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মহোদর এটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের স্বনামধন্য এই বিতর্ক ক্লাবটি বিতর্কের মান উন্নয়নের জন্য সারাবছর নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে। বছরের শুরুতেই নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়। সদস্য ফরম পূরণ করার পর একজন শিক্ষার্থীকে কমর্শালায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তারপর লিখিত পরীক্ষা, এবং পরবর্তীতে ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়ে তাকে জেএনইউডিএসের অফিসিয়ালি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিতার্কিকের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রতিমাসে একটি করে পাঠচক্র, বিতর্কের প্রশিক্ষণ, প্রতিসপ্তাহের রবিবার এবং বৃহস্পতিবার বাংলা বিতর্কের সেশন এবং প্রতি মঙ্গলবার ইংরেজি বিতর্কের সেশন অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক শিখতে ইচ্ছুক এমন যেকোন শিক্ষার্থী এই বিতর্ক সেশনে অংশগ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও প্রতিবছর একটি আন্ত:বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ডিবেট প্রিমিয়ারলীগ, জুনিয়র ডিবেট প্রিমিয়ারলীগসহ উন্মুক্ত বক্তব্য প্রতিযোগিতা এবং পাবলিক স্পীকিং এর আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি জাতীয় পর্যায়ে বহু অর্জনের সাক্ষী। এই সোসাইটির বিতার্কিকরা বহুবার জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, স্ট্যামর্ফোড আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, বিডিএস আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ১ ম জুডো নারী বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন, এটিএন বাংলা বিতর্ক প্রতিযোগিতা রানার আপ, ১০ ম জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার আপ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার আপ, ২য় বিডিএস জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার আপ, ৩য় জুড়ো নারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার আপ সহ সর্বশেষ ২০১৯ সালে ব্যাংক এশিয়া কর্তৃক আয়োজিত আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও এ সংগঠনের বিতার্কিকদের বিভিন্ন জাতীয় বারোয়ারী বিতর্ক ও পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতায় রয়েছে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হওয়ার অসংখ্য পুরস্কার।

হাটি হাটি পা পা করে জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ২৬ বছর পেরিয়ে ২৭ পা রেখেছে। শুধু বিতর্ক ও যুক্তির চর্চাই নয়, দুই যুগের বেশি বয়সী এ সংগঠনটি কয়েক প্রজন্মের সেতুবন্ধন। সংগঠনটির বিভিন্ন আয়োজনে নবীন প্রবীনদের মিলনমেলায় ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। আর এটিই এ সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি। মুক্তবুদ্ধি আর যুক্তিচর্চার এই শৈল্পিক প্ল্যাটফর্মের বিতার্কিকরা জাতীয় অঙ্গনের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করুক, এই আমার প্রত্যাশা। জেএইনইউডিএসের হাত ধরেই তৈরী হোক কিছু বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী মানুষ। বিতর্কের মাধ্যমেই উন্মুক্ত হোক প্রগতির নব দুয়ার আর সূর্যালোকের মতই শান্তি নেমে আসুক এই ধরায়। জেএনইউডিএস প্রতিটি বিতার্কিকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়ে যুক্তির দৃপ্তিতায় আকুঁক নিজস্ব অবস্থান।

শুভ জন্মদিন,
জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta