অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ইবি প্রক্টর ও ছাত্রের বাক-বিতণ্ডা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ | Nobobarta

আজ রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ইবি প্রক্টর ও ছাত্রের বাক-বিতণ্ডা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ইবি প্রক্টর ও ছাত্রের বাক-বিতণ্ডা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

Rudra Amin Books

আদিল সরকার, ইবি প্রতিনিধি : অনলাইন ক্লাস নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ও এক ছাত্রের মাঝে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পোস্টের কমেন্টে বাকবিতণ্ডা হওয়ার পর প্রক্টর ওই শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহিবুল ইসলামের সাথে এ ঘটনা ঘটে। তবে প্রক্টরের এমন আচরণে নিন্দা জানিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে উদ্বুদ্ধ করতে বুধবার রাতে নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থেকে ‘জলে নামার আগে নেংটি খোলা’ শিরোনামে একটি স্টাটস দেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ। সেখানে তিনি অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভ্রান্ত চিন্তার ব্যাখ্যা দিয়ে চিন্তার পরিবর্তন করার অনুরোধ জানান।

এদিকে প্রক্টরের ওই স্টাটাসে কমেন্ট করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহিবুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী। কমেন্টে ওই শিক্ষার্থী বলেন, মাননীয় প্রক্টর স্যার, আপনি অনেক সুন্দর ভাবে উপাস্থাপন করেছেন। স্যার আমাদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি। আর স্যার ইবির অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী গ্রামে থাকে, প্রত্যান্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে সকলের অনলাইনে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই এটি তাদের জন্য বিলাসিতা, স্যার অনলাইন ক্লাস বন্ধে আপনি যদি সহায়তা করতেন। তবে শিক্ষার্থীর ওই কমেন্টে ‘আপনাকে আলাদা ক্লাস নিয়ে বুঝাতে হবে’ বলে রিপ্লাই দেন প্রক্টর।

পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে ম্যাসেঞ্জারে কল দেয় প্রক্টর। এ সময় প্রক্টর তাকে ‘তুই ও বিয়াদব’ বলে সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী মুহিবুল। পরে মুহিবুল তার কমেন্ট ডিলেট করে দেয়। একই সাথে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি মাই ডে দেয়। সেখানে মুহিবুল লিখেন ‘মাননীয় প্রক্টর মহোদয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে একজন ছাত্রকে তুই ও বেয়াদপ বলে সম্বোধন করা কতটুক মার্জিত জানিনা’। পরে এই স্ট্যাটাস সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রক্টর ওই শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে আবারো কল করে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। সাথে মুহিবুলের কাছে মাইডে দেওয়ার কারণ জানতে চান তিনি। এ সময় তাদের মধ্য ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড কথা হয়।

পরবর্তীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুহিবুল সকল ঘটনার বর্ণণা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা জানি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানে গণতন্ত্রের চর্চার কেন্দ্র, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বাংলাদেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদরা অনলাইন ক্লাসের বিপক্ষে, সেখানে অনলাইন ক্লাসের বিরুদ্ধে বলে আমি কি অন্যায় করেছি জানি না। হয়ত ক্ষমতাই প্রক্টর স্যারের শক্তি। ইবির সম্মানিত শিক্ষক শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্র- ছাত্রী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের কাছে এ অপমান ও হুমকির বিচার চাই। এ ছাড়াও তিনি লেখেন, ৫ মিনিটের কল রেকর্ড যেন নিজ বিবেককে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে।

এদিকে মুহিবুলের এই স্ট্যাটাসে প্রক্টরে এমন কার্যকলাপ নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা লিখেন, ‘খুবই লজ্জ্বাজনক’ ‘একজন প্রক্টর স্যারের এমন ব্যবহারে আমরা স্তব্ধ’ ‘প্রক্টর স্যারের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়, তীব্র নীন্দা জানাচ্ছি’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুহিবুল ইসলাম বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসের বিরুদ্ধে বলে আমি কি অন্যায় করেছি জানিনা। তাছাড়া কারো মতের সাথে কারো মতের মিল না থাকতেই পারে। তাই বলে একজন শিক্ষক কল দিয়ে ঝাড়ি দিবেন এটা সমীচিন নয়। এছাড়াও মুহিবুল অপমান ও হুমকির বিচারের দাবি জানান।’

তবে এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি নই। আমি ওই শিক্ষার্থীর পোস্টের কমেন্টে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta