শহীদ বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

শহীদ বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শহীদ বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    3
    Shares

আজ ২৪শে সেপ্টেম্বর, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম আত্মাহুতি দেয়া মহান বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। মাস্টারদা’র নেতৃত্বে ১৯৩২ সালের ২৩ মতান্তরে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণে সফল হন প্রীতিলতাসহ বিপ্লবীরা। আক্রমণ শেষে পটাশিয়াম সায়ানাইড বিষ খেয়ে স্বদেশের মুক্তির জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দেন।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ই মে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরানী জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার এবং মাতা প্রতিভাদেবী। তাঁদের ছয় সন্তানঃ মধুসূদন, প্রীতিলতা, কনকলতা, শান্তিলতা, আশালতা ও সন্তোষ। তাঁদের পরিবারের আদি পদবী ছিল দাশগুপ্ত। পরিবারের কোন এক পূর্বপুরুষ নবাবী আমলে “ওয়াহেদেদার” উপাধি পেয়েছিলেন, এই ওয়াহেদেদার থেকে ওয়াদ্দেদার বা ওয়াদ্দার। শৈশবে পিতার মৃত্যুর পর জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার তার পৈতৃক বাড়ি ডেঙ্গাপাড়া সপরিবারে ত্যাগ করেন। তিনি পটিয়া থানার ধলঘাট গ্রামে মামার বাড়িতে বড় হয়েছেন। এই বাড়িতেই প্রীতিলতার জন্ম হয়। আদর করে মা প্রতিভাদেবী তাকে “রাণী” ডাকতেন। পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম শহরের আসকার খানের দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে টিনের ছাউনি দেয়া মাটির একটা দোতলা বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকতেন ওয়াদ্দেদার পরিবার। অন্তর্মুখী, লাজুক এবং মুখচোরা স্বভাবের প্রীতিলতা ছেলেবেলায় ঘর ঝাঁট দেওয়া, বাসন মাজা ইত্যাদি কাজে মা-কে সাহায্য করতেন।

অস্ত্র এবং স্ট্রাটেজিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রীতি এবং অন্যান্য বিপ্লবীদের নিয়ে আসা হয় সাগরপারের গ্রাম কাট্টলীতে। আক্রমণ যাতে নিখুঁত হয়, সে জন্য প্রশিক্ষণ তত্ত্বাবধানের জন্য সূর্য সেন নিজেও চলে আসেন কাট্টলী গ্রামে। এখানেই তিনি ঘোষণা করেন যে, এই আক্রমণের নেতৃত্ব দেবে প্রীতিলতা। বিস্মিত প্রীতিলতা আপত্তি জানিয়ে বললেন যে, একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে আমি এই অভিযানে যেতে চাই। আমার চেয়ে অনেক যোগ্য লোক রয়েছে নেতৃত্ব দেবার। তখন সূর্য সেন বলেন,

“বাংলার ঘরে রে বীর যুবকেরদের আজ অভাব নাই। বালেশ্বর থেকে কালারপুর পর্যন্ত এঁদের দীপ্ত অভিযানে দেশের মাটি বারে বারে তাজা রক্তে সিক্ত হয়েছে, কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে মায়ের জাতিও এবার যে শক্তির খেলায় মেতেছে সেই অধ্যায় আজও অলিখিত রয়ে গেছে। তোমার সাফল্যে বা তোমার আত্মদানে সে অধ্যায় রচিত হয়ে উঠুক – এই-ই আমি চাই। ইংরেজ জানুক, বিশ্বজগৎ অবলোকন করুক যে, এদেশের মেয়েরাও আজ আর পিছিয়ে নাই।”

এই বক্তব্যের পরে আর কোনো আপত্তি থাকে না প্রীতিলতার। চব্বিশ তারিখে আক্রমণ করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয় বিপ্লবী দলকে। সেদিন ২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সাল পাহাড়তলী, চট্টগ্রামের রেলস্টেশনের পাশেই পাহাড়তলী রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব। কিছুদিন ধরে এই ক্লাবটিই ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে। নিরাপত্তার খাতিরে চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়া থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে এখানে। প্রতি শনিবার রাতে ব্রিটিশ অফিসার এবং তাঁদের স্ত্রীরা আসেন। চলে অপরিমিত পানাহার এবং বল ড্যান্স। আজকেও তেমনি এক শনিবারের রাত। সন্ধ্যার পর থেকেই সমবেত হয়েছেন সকলেই। আনন্দপিয়াসী, উৎফুল্ল মেজাজ সবার। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য চিন্তার কারণে সতর্কও সকলেই। প্রায় সবার কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বাইরেই সশস্ত্র পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। চট্টগ্রাম ইউরোপিয়ান ক্লাবের বাইরে যে সাইনবোর্ড লাগানো থাকতো, এখানেও সেই একই সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, ভারতীয় এবং কুকুরদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

রাত প্রায় নটা। পানীয়ের প্রভাবে তরল হয়ে এসেছে প্রায় সবাই। সতর্কতায় ঢিল পড়েছে। লঘু হাস্য এবং কৌতুক শোনা যাচ্ছে নাচের ফাঁকে ফাঁকে। ঠিক এসময়ই ক্লাবের পিছনের রান্নাঘরের ছোট্ট জানালার পাশে এসে দাঁড়ায় এক গ্রাম্য যুবক। হাতে একটা টর্চলাইট। ক্লাবেরই বাবুর্চি সে। সতর্কভাবে আশেপাশে তাকায়। তারপর হাতের টর্চটাকে বাইরের দিকে নিশানা করে। যুবকের হাতে জ্বলে উঠেই নিভে যায় টর্চলাইটটা। এরকম করে ঠিক তিনবার করে সে অতি দ্রুত। অন্ধকার আকাশ থেকে নরক ভেঙে পড়ে যেন ক্লাবের উপর। খাকি সামরিক পোশাক পরা আটজন সশস্ত্র তরুণ হামলে পড়ে বঙ্গোপসাগরের প্রবল ঝড়ের মত। মুহূর্তের মধ্যে গান, নাচ এবং হাসি বন্ধ হয়ে যায় ইউরোপিয়ান ক্লাবের। এর পরিবর্তে শোনা যেতে থাকে বোমার ভয়ংকর আওয়াজ, মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। চারিদিকে শুধু নরনারীদের গগনবিদারী আর্তনাদ, ভয়ার্ত চিৎকার। প্রাণভয়ে জানালা ভেঙে অনেকেই পালিয়ে যেতে থাকে অন্ধকারে। মাত্র পনের মিনিটের মধ্যে থেমে যায় গুলি এবং বোমার শব্দ। মৃত্যুর হাহাকার এবং ধ্বংসলীলার মধ্যে শুধু শোনা যেতে থাকে আহতদের যন্ত্রণাকাতর ভয়ার্ত গোঙানি।

কোথাও বেজে উঠে একটা হুইসেলের শব্দ। সেই শব্দে আক্রমণকারী যুবকেরা সারি বেঁধে ফিরে যেতে থাকে। সামরিক প্রথামতে তাঁদের নেতা সবার পিছনে। জানালা ভেঙে পালানো একজন ইংরেজ যুবক লুকিয়ে ছিল নালার ভিতরে। পাগড়ি মাথার নেতাকে চোখে পড়ে তাঁর। খুব সন্তর্পণে নিজের কাছে রাখা অস্ত্র দিয়ে গুলি করে সে। বুকে গুলি লাগে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অধিনায়ক। ঘন্টাখানেক পরে পুলিশ, মিলিটারি ও গোয়েন্দাদের দিয়ে ভরে যায় আশপাশ। রাস্তার উপরে পড়ে থাকা অধিনায়কের মৃতদেহ তুলে নিয়ে পোস্ট মর্টেমের জন্য পাঠানো হয়। পোস্ট মর্টেম করতে গিয়ে খোলা হয় মাথার পাগড়ি। সাথে সাথেই একরাশ দীর্ঘ কালো চুল বের হয়ে আসে পাগড়ির ভিতর থেকে। হতভম্ব সবাই আবিষ্কার করে কোনো পুরুষ নয়, শ্যামল বরণ এক তরুণীর মৃতদেহ এটি। বিহ্বল এবং বিমূঢ় সকলের সামনে পোস্ট মর্টেম টেবিলে নিথর শুয়ে থাকেন মাতৃভমির জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে জীবন আত্মোৎসর্গকারী, বাংলার প্রথম নারী শহীদ, বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

ভারত উপমহাদেশের অগ্নিযুগের বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনা থেকেই অনেক নারী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ‘অনুশীলন’, ‘যুগান্তর’ প্রভৃতি বিপ্লবী দলের সঙ্গে ঘরে ঘরে মা, বোন, মাসিমা, কাকিমা, দিদি, বৌদিরা যুক্ত ছিলেন। যেমন ছিলেন অগ্নিযুগের প্রথম পর্বে স্বর্ণ কুমারী দেবী, সরলা দেবী, আশালতা সেন, সরোজিনী নাইডু, ননী বালা, দুকড়ি বালা, পরবর্তীকালে ইন্দুমতি দেবী, লীলা রায়, পটিয়া ধলঘাটের সাবিত্রী দেবী প্রমুখ দেশপ্রেমিক নারী। তারই ধারাবাহিকতায় সেই অগ্নিযুগের অগ্নিকন্যা, বীর কন্যা প্রীতিলতার আবির্ভাব।

প্রীতিলতার পড়াশুনার হাতেখড়ি বাবা, মায়ের কাছে। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। যে কারণে জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার মেয়েকে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে ভর্তি না করিয়ে ডা. খাস্তগীর উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করান । এটি ওই সময়ের অন্যতম নারী শিক্ষালয় ছিল। এই নামকরা স্কুলে প্রতিটি শ্রেণীতে তিনি প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ছিলেন। ৮ম শ্রেণীতে প্রীতিলতা বৃত্তি পান। ওই স্কুল থেকে প্রীতিলতা ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করার পর ভর্তি হন ঢাকার ইডেন কলেজে। থাকেন কলেজের ছাত্রীনিবাসে। এ সময় প্রীতিলতা বিপ্লবী লীলা নাগের সংস্পর্শে আসেন। তখন বিপ্লবী লীলা নাগের নেতৃত্বে ‘দীপালী সংঘ’ সংগঠনটি পরিচালিত হত। দীপালী সংঘ ছিল ‘শ্রীসংঘ’-এর মহিলা শাখা সংগঠন। ‘শ্রীসংঘ’ ছিল তখনকার ঢাকার একটি বিপ্লবী দল। লীলা নাগের সাথে প্রীতিলতার ‘দীপালী সংঘ’ নিয়ে কথা হল। কথাবার্তার মাধ্যমে লীলা নাগ বুঝে নিলেন প্রীতিলতাকে দিয়ে দেশের কাজ হবে। তাই লীলা নাগ তাঁকে ‘দীপালী সংঘে’র সদস্য হওয়ার জন্য একটি ফর্ম দিয়ে বললেন, ‘তুমি এর উদ্দেশ্য ও আদর্শের সাথে একমত পোষণ করলে বাড়ী থেকে এসে ফর্মটি পূরণ করে দিও।’ বাড়ী আসার পরের দিন তিনি ওই ফর্মটি পূর্ণেন্দু দস্তিদারকে দেখিয়ে বললেন, “দাদা, আমি এই সংঘের সাথে কাজ করবো। তোমরা তো আর আমাকে তোমাদের দলে নিবে না, তাই এখানে যুক্ত হয়ে আমি দেশের জন্য কাজ করব। পূর্ণেন্দু দস্তিদার ওই ফর্মটি প্রীতিলতার কাছ থেকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, দলনেতাকে দেখিয়ে তোমাকে এটি ফেরত দিব”। ১৯২৯ সাল। তখন সূর্যসেন চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক। পূর্ণেন্দু দস্তিদার প্রীতিলতার কাছ থেকে ফর্মটি নেয়ার পরের দিন বিকেল বেলা বিপ্লবীদের গোপন বৈঠকে উপস্থিত হলেন। বৈঠক শেষে জেলা কংগ্রেসের কার্যালয়ে তিনি মাষ্টারদা সূর্যসেনকে ওই ফর্মটি দেখালেন এবং প্রীতিলতার মনের কথাগুলো বললেন। মাষ্টারদা সূর্যসেন সবকিছু শুনে পূর্ণেন্দু দস্তিদারকে বললেন, আজ থেকে আমরা প্রীতিলতাকে আমাদের দলের সদস্য করে নিলাম। কিন্তু এই কথা আপাতত আমরা তিনজন ছাড়া অন্য কাউকে জানানো যাবে না। প্রীতিলতাকে একদিন আমার কাছে নিয়ে এসো।

আই.এ. পরীক্ষা শেষ করে প্রীতিলতা চট্টগ্রামে চলে আসেন। সূর্যসেনের সাথে প্রীতিলতার ভবিষৎ কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়। কিছুদিন পর প্রীতিলতার আই.এ. পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। মাসিক ২০ টাকা বৃত্তি পাবেন তিনি। ঠিক হলো কলকাতার বেথুন কলেজে পড়াশুনা করবেন। ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে বি.এ. ভর্তি হলেন প্রীতিলতা। থাকেন ছাত্রীনিবাসে। এখানে মাষ্টারদার নির্দেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করলেন তিনি। গড়ে তুললেন এক বিপ্লবী চক্র। এই বিপ্লবী চক্রে অনেক মেয়ে সদস্য যোগ দিলেন। তাঁদের মূল কাজই হলো অর্থ সংগ্রহ। অর্থ সংগ্রহ করে প্রীতিলতা চট্টগ্রামে পাঠাতে লাগলেন। কলকাতার এক গোপন কারখানায় তখন তৈরি হয় বোমার খোল। মাষ্টারদার নির্দেশ অনুযায়ী সেই বোমার খোল সংগ্রহ করতেন প্রীতিলতা।

মৃত্যুর আগে তিনি তার আত্মহননের স্বীকারোক্তি দিয়ে এক বিবৃতি লিখে যান। এই বিবৃতিতে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তি আন্দোলনের জন্য আত্মদানে অগ্রসর হন বলে উল্লেখ করেন। প্রীতিলতা মারা যাওয়ার আগে মায়ের কাছে লিখেছিলেন, ‘মাগো, অমন করে কেঁদোনা! আমি যে সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কী করব মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী বিদেশির অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভাবে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা! তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?’ পরদিন পুলিশ ক্লাব থেকে ১০০ গজ দূরে প্রীতিলতার মৃতদেহ পড়ে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ তার মৃতদেহ শনাক্ত করে ময়নতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। গুলির আঘাতে নয়, পটাশিয়াম সায়ানাইড ছিল প্রীতিলতার মৃত্যুর কারণ এমনটি উল্লেখ করা হয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে।

প্রীতিলতার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের অবস্থা নিয়ে কল্পনা দত্ত লিখেছেনঃ “প্রীতির বাবা শোকে দুঃখে পাগলের মত হয়ে গেলেন, কিন্তু প্রীতির মা গর্ব করে বলতেন, ‘আমার মেয়ে দেশের কাজে প্রাণ দিয়েছে’। তাঁদের দুঃখের পরিসীমা ছিল না, তবু তিনি সে দুঃখেকে দুঃখ মনে করেননি। ধাত্রীর কাজ নিয়ে তিনি সংসার চালিয়ে নিয়েছেন, আজো তাঁদের সেভাবে চলছে। প্রীতির বাবা প্রীতির দুঃখ ভুলতে পারেননি। আমাকে দেখলেই তাঁর প্রীতির কথা মনে পড়ে যায়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলেন”।

প্রীতিলতা একবার নিজে ডায়েরিতে লিখেছিলেনঃ “কোনপথে আমি জীবনকে ভাসিয়ে দিলাম? এই তো আমার টেবিলের সামনে রাধাকৃষ্ণের ছবি। এই প্রেম স্বর্গীয়। এমনভাবেই মাতৃভূমিকে আমাকে ভালবাসতে হবে। অন্য কোন প্রেম ভালবাসা আমার হৃদয়ে স্থান পাবে না। রাধার মতই আমার দেশপ্রেম আমি উজাড় করে দেব, নিজেকে নিঃশেষে আমি দান করে যাব।”

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply