আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
লাল-সাদা কেন বৈশাখী রং ?

লাল-সাদা কেন বৈশাখী রং ?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

বৈশাখ নিয়ে আপনার আয়োজন আর প্রস্তুতি কি, কি কেনাকাটা করলেন? তাহলে অবশ্যই আগে আসবে পোশাকের কথা। বাংলা নতুন বছরে বাঙালি সাধ্যের মধ্যে নতুন পোশাক কেনে। আর বৈশাখের পোশাক কি, এই প্রশ্ন করলে সবার আগে আসবে লাল-সাদা শাড়ি বা পাঞ্জাবি। পান্তা ইলিশ খাওয়া, বৈশাখি মেলা, রংবেরঙের মুখোশ পরার মতো লাল-সাদা পোশাকও একেবারে বৈশাখের নিজস্ব ট্রেন্ড। কিন্তু এতো রং থাকতে বৈশাখে এই লাল-সাদা কেন? তা নিয়েই থাকছে আজকের বিশ্লেষণ।

ফ্যাশন হাউসগুলো বৈশাখী উৎসবকে কেন্দ্র করেও প্রতি বছরই পোশাকে নানা পরিবর্তন নিয়ে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় এবছরও রঙে যেমন এসেছে বৈচিত্র্য তেমনি পরিবর্তন এসেছে কাটিং ও কাজে। বাঙালির বর্ষবরণ শুরু হয় লাল-সাদা দিয়ে। ফ্যাশনে এর কী কোন ব্যাখ্যা আছে?

তবে এর উত্তর কিছুটা দুরূহ হলেও পাওয়া যাবে বেশকিছু ধারণা। প্রকৃতিতে বৈশাখের নিজস্ব একটা রঙ আছে, তার প্রকাশ ঘটলে বদলে যায় বাঙালির রূপ। নতুন রঙে বাংলার জীবনকে রাঙাতে আসে বৈশাখ। বৈশাখের চিরায়ত রঙ লাল-সাদার চল কেন বা কবে থেকে, এ বিষয়ে রয়েছে মতভেদ। কেউ কেউ মনে করেন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বৈশাখের প্রধান আয়োজন হালখাতা। যার মোড়কের অংশ লাল এবং ভেতরের পাতার রঙ সাদা, সেখান থেকে লাল-সাদা পোশাকের ধারণা আসতে পারে। কিছু কিছু গবেষণা মতে, আগেকার দিনগুলোতে হিন্দু নারীরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে বিভিন্ন পূজা-পার্বণে অংশ নিত, সেখান থেকেও লাল-সাদার ধারণা আসতে পারে। যদিও এই কারণগুলোর পিছনে গ্রহণযোগ্য তেমন যুক্তি নেই। কেননা, অনেক সম্ভান্ত পরিবারে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি প্রচলন ছিল। ধীরে-ধীরে তা উৎসবের পোশাকে পরিণত হয়ে গেছে।

বৈশাখের রঙ লাল-সাদা হওয়ার কারণ যাই হোক, তা শুরু থেকেই সর্বজনীনভাবে মান্য হচ্ছে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের আনুষ্ঠানিক বর্ষবরণের মাধ্যমে এর বিস্তৃতি বেশি ঘটেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বৈশাখী আয়োজনে দেশীয় ফ্যাশন হাউজেগুলোতে লাল-সাদাকেই প্রেরণা হিসেবে বেছে নেওয়ার ধারাটি গতিশীল থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে বৈশাখের রঙ লাল-সাদাতেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় যেন।বৈশাখে লাল-সাদা প্রচলনের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও জড়িয়ে রয়েছে। মোগল আমলে বাদশাহকে খাজনা দেওয়ার সময় লাল সালু কাপড়ে বেঁধে দেওয়া হতো। আমার মনে হয় সেই থেকেই লাল রং আমাদের বৈশাখে চলে এসেছে। অন্যদিকে সাদা হচ্ছে শুভ্রতার প্রতীক। নতুন বছর নতুন আশা নিয়ে আসে। তাই লাল-সাদার সমন্বয় করা হয়। বৈশাখে লাল-সাদা রঙের সঙ্গে প্রকৃতি ও পরম্পরার ব্যাপার আছে। গ্রীষ্মে সাদার আবেদন সর্বজনীন। অতীতে খাজনা দেওয়ার সময় লাল সালু কাপড়ের ব্যবহার, ব্যবসা-বাণিজ্যে হালখাতার প্রচলন। এইসব কিছুর সমন্বয়ে লাল-সাদা চলে এসেছে।

সাদা রং ব্যবহারের কারণ ভৌগোলিক। বৈশাখে প্রচণ্ড গরম থাকে। তার জন্য সাদা রঙের ব্যবহার। অন্যদিকে এ উপমহাদেশে সবসময়ই উৎসবে লালের প্রাধান্য ছিল। সেখান থেকেও বৈশাখের রং লাল-সাদা। তবে এ সময়ের ডিজাইনাররা বৈশাখে লাল-সাদার বাইরেও কাজ করে থাকেন।হালখাতা ও সনাতন ধর্মের পূজার শাড়ির রং থেকেই বৈশাখে লাল-সাদার চল। হালখাতা অনুষ্ঠানের দিন ব্যবসায়ীরা সাদা ধুতি, সাদা পাঞ্জাবি পরত। নারীদের লাল পাড় সাদা শাড়ি পরার প্রচলন ছিল। সেখান থেকেই হয়তো অলিখিতভাবে বৈশাখে লাল-সাদা রঙের পোশাকের প্রচলন হয়। শুরুটা লাল-সাদা দিয়ে হলেও এই শতাব্দীতে বৈশাখের পোশাকের রঙে সংযোজন হয়েছে আরও বাহারি রঙ। যেমন- পেস্ট, কালো, হলুদ, মেরুন, গোল্ডেন, ম্যাজেন্টা ও সবুজের বিভিন্ন শেডের ব্যবহার হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। তবে লাল-সাদার চল আগের মতোই এখনো জনপ্রিয় আছে।তবে ফ্যাশন হাউজগুলো যখন থেকে বৈশাখের পোশাক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে তখন থেকেই সাদা-লালেই আটকে ছিল। পরবর্তীকালে অন্যান্য রঙ ব্যবহার করার চেষ্টা হলেও কোনো রঙই তেমন আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। বৈশাখ মানেই নির্ধারিত লাল-সাদায়।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply