ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা জরুরি নাকি ফ্যাশন! | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ০২ Jun ২০২০, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা জরুরি নাকি ফ্যাশন!

ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা জরুরি নাকি ফ্যাশন!

Rudra Amin Books

ছুটির দিনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে একা থাকাটা কতটা কষ্টকর তা সত্যিই যে থাকে সেই বুঝতে পারে। প্রয়োজনীয় দোকানগুলো বন্ধ থাকে, ডাইনিং বন্ধ থাকে বাহিরে খেলে অনেক বেশি খরচ, তাই রুমে ডাল ভাতই সম্বল হয় তাদের।

চলে আসি মূল ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেছে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে, রোজা, ঈদ এবং গ্রীস্মকালীন অবকাশ মিলে প্রায় ১ মাস ছুটি। সবাই বাড়ি যাচ্ছে সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস দিচ্ছে, দেখে ভালোই লাগে। “ভাই কবে বাড়ি যাবেন, এই কথা অবসান ঘটিয়ে বাড়ির পথে” “কারো স্ট্যাটাস ছিল প্যারাময় সময় শেষে একটু শান্তির খোঁজে মায়ের কোলে” “কারো ছিল স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার গানের কিছু কথা যা সত্যি মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো…

যাইহোক দিন শেষে রাতে হল গুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় কিছু রুমে লাইট জ্বলছে। বুঝতে বাকি থাকে না আমার মতো কিছু পাপী এখনো রয়ে গেছে ক্যাম্পাসে। তাদের ইচ্ছে থাকলেও বাড়ি যেতে পারছে না। হয়ত কারো টিউশনি, কারো কোচিং কারো আবার পার্টটাইম কোন কাজ যা না করলে হয়ত আগামী মাসে চাকরি অথবা টিউশনটা থাকবে না। তখন দেখা যাবে মাসের খরচ চালানো মুশকিল হয়ে যাবে।

এসবের সাথে আরেকটা গ্রুপ আছে তারাও বাড়ি যায়নি, তারা হচ্ছে আমার মতো রেজিস্ট্রার্ড বেকার। পরাশোনা শেষ, বসে আছে ভালো চাকরি হচ্ছে না। অথবা সামনে কোন পরীক্ষা আছে তাই বাসায় না গিয়ে বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডায় না মেতে টেবিল চেয়ারকে আপন করে নিয়েছে। কখনো কখনো মায়ের ফোন আসে ওপাশ থেকে মায়ের আকুতি বাবা কবে আসবি, বলেই তার মধুর কণ্ঠস্বর ভারী হয়, বোনের অভিমানের পাল্লা দৃঢ় হয়। ‘খুব শীঘ্রই আসব’ এই সান্ত্বনা বলে ফোন রাখা হয়। বাড়ির আশে পাশে সবাই চলে আসে মায়ের মন আর শান্ত হয় না বার বার ফোন দেয়।

ক্যাম্পাসের এক ছোটভাইয়ের আকুতি, বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু যেতে পারছি না। কারণ জিজ্ঞেস করতেই ছেলেটির চোখ ছল ছল করে উটলো বললো ভাই গত ৬ বছরে খুব কম ছুটিই আছে যে সময় বাড়ি যেতে পেরেছি। তিনটা টিউশন করাই একটা নিজের জন্য একটা ছোট ভাইটার জন্য আর একটা কখনো কখনো বাবাকে কিছু টাকা দেই। তাই ছেড়ে যেতে পারছি না জানেনইতো টিউশানি পাওয়া কতো কঠিন। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ছেলেটি বলছিল জানেন সবাই যখন বাড়ি যাই বলে স্ট্যাটাস দেয় তখন আমারো মন চায় কিন্তু পারি না যেতে।

একটা কথা বলে রাখি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞতা বা নিতান্তই বিলাসিতার বসে পার্ট টাইম জব কিংবা টিউশনি করায় এমনের সংখ্যা অতি নগন্য।

অফিসে বসের বকাঝকা, টিউশনে অভিভাবকদের কটু কথা, বন্ধুদের হেয়ালীপনা, রেজাল্ট খারাপসহ তিক্ত সব অভিজ্ঞতা মেনে নিতে হয়। আত্মসম্মানকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয়তাকে বড় করে দেখেই চলতে হয় তাদের।

টিউশন নেই বন্ধু, বড়ভাই, টিচারদের কাছে ধরনা দেওয়ার কারণ একটা টিউশন লাগবে, খুব দরকার। অনেকে আশ্বাস দেয়। অনেকেই জোগাড় করে দেয়। এদের কাছে জীবন মানে সাহিত্যের রসালো পার্ট নয়, জীবন মানে কঠিন সংগ্রাম। প্রতিদিন এ সংগ্রাম করতে হয় তাদের। এখানে জীবন মানে পরিবারে কষ্টের বোঝা কিছুটা নিজের কাঁধে নেওয়া। যাতে করে বাবার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। যখন পরিবারের কঠিন দায়িত্ব মাথায় চেপে বসে তখন না ভালো লাগে বকুল তলায় আড্ডা, না ভালো লাগে বন্ধুর বার্থডে সেলিব্রেশান না টিএসসিতে কফির কাপে ঝড়। সবকিছু এক সময় ফ্যাকাসে হয়ে যায়। জীবন এখানে আবেগ থেকে একটু বের হয়ে চিন্তা করে বাস্তবতার।

প্রতিদিন যুদ্ধ করে বাসে উঠে টিউশনে যাওয়া, সময় করে এসে রান্না করা খাওয়া আবার নিজের একাডেমিক পরাশোনা করা খুব সহজ নয়।
ভালো থাকুক জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ এই মানুষ গুলো…

লেখকঃ মো: তারিকুল ইসলাম
শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক 
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta