লক্ষ্মীপুরে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩’শ কোটি টাকার সুপারী – Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কাউখালীতে ৪০ যাত্রীসহ খেয়া ট্রলার ডুবি, পিএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ পাকিস্তান থেকে এলো ৮২ টন পেঁয়াজ রহমতপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ড আ’লীগের সম্মেলন, সভাপতি সুলতান, সম্পাদক স্বপন তারেক রহমানের জন্মদিনে জাবি ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ আগৈলঝাড়ায় পেঁয়াজ, চাউল ও লবণ নিয়ে গুজব, ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাসের অভিযান অব্যাহত কাউখালীতে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ পিইসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার কবি সুফিয়া কামালের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীনের জাবির হল খুলে দেওয়াসহ ৭দফা দাবি শিক্ষার্থীদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শুরু হল বুড়ি তিস্তা খনন নলছিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩’শ কোটি টাকার সুপারী

লক্ষ্মীপুরে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩’শ কোটি টাকার সুপারী

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর:
সুপারিতে খ্যাত হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোর মধ্যে লক্ষ্মীপুর অন্যতম। অনুকূল আবহাওয়া ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের কারণে চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৩’শ কোটি টাকার সুপারী। অর্থকারী এ ফসলকে ঘিরে এ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। উৎপাদিত এ ফসলের বাজার দর ভালো থাকায় সুপারী চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে এই সুপারি। সরকারি বেসরকারি উদ্যোক্তরা এগিয়ে আসলে এখানকার উৎপাদিত সুপারী দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্র জানা যায়, এবার লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মুল্য সাড়ে ৩’শ কোটি টাকা। মৌসুমের শুরুতেি প্রতি (১২৮০ পিছ) এক ক্রাউন সুপারী প্রথম দিকে ১৫-১৬ ‘শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলায় সব চাইতে বেশী সুপারী উৎপাদন হয় রায়পুর ও সদর উপজেলায়। মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সুপারী বিক্রির বাজার বসলেও সদর উপজেলার দালাল বাজার বসে সুপারীর সবচেয়ে বড় হাট। একানকার উৎপাদিত সুপারী পানের সাথে খেতে বেশ মজাদার হওয়ায় জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে এখানকার সুপারি যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সুপারী চাষীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসের বৃষ্টির পানিতে সুপারি গাছে ফুল আসে। এরপর এ ফুল থেকে সৃষ্ট সুপারী। আর পুরোপুরি পাকা হয়ে হলুদ রং ধারন করে কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসে। মূলত কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসই সুপারীর ভরা মৌসুম। আর তখনই সুপারি বিক্রি শুরু করেন সুপারী চাষীরা। এখন সুপারীর হলুদ রং এর সমরাহ, মাইলের পর মাইল চেয়ে গেছে। এতে হাঁসি ফুটেছে সুপারীর বাগান মালিকদের মুখে। তবে গত বছরে তুলনায় এবার সুপারীর বাজার দাম কিছুটা কম হওয়া হতাশ তারা। গেলে বছর প্রতি ক্রাউন সুপারী বিক্রি হয়েছে ১৬-১৯‘শ টাকায় আর এবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৬‘শ টাকায়।

সুপারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এ জেলায় লক্ষাধিক মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়। মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে সুপারি ক্রয় করতে ভীড় জমান দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সুপারি ব্যবসায়ীরা ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সুষ্ঠ রক্ষণা-বেক্ষণ, বেশি বেশি সুপারি গাছ রোপন, কৃষক ও সংশি¬ষ্ট কৃষি বিভাগের লোকজনের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হতে পারে লক্ষ্মীপুরে সুপারির ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সুপারী।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, সুপারি চাষীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। চাষীদের দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সহায়তাও। জেলায় চলতি বছর প্রায় সাড়ে ৩’শ কোটি টাকার সুপারী উৎপাদন হয়েছে।


Leave a Reply