‘রোহিঙ্গা’ একটি জনগোষ্ঠির নাম, গালি নয়! – Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
‘রোহিঙ্গা’ একটি জনগোষ্ঠির নাম, গালি নয়!

‘রোহিঙ্গা’ একটি জনগোষ্ঠির নাম, গালি নয়!

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় ”বিশ্বের অন্যতম সংখ্যালঘু নিগৃহিত দেশ” সেই দেশে করা ১৯৮২ সালের আইন অনুযায়ী তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন এবং বিভিন্ন কঠোর আইনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েন, এবং রোহিঙ্গাদের তাদের আদিবাসী বলে মানতে নারাজ দেশটি,তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করে থাকেন, সবচেয়ে অবহেলিত মুসলিম জাতি রোহিঙ্গা যার অধিকাংশ এখন আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের আরাকানী ভারতীয় বলা হয়ে থাকে, পশ্চিম- মায়ানমার রাজ্যের একটি জাতী যারা রাষ্টবিহীন একটি ইন্দো-আরিয়ান জনগোষ্ঠী, মায়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজের দেশের নাগরিকত্ব দিতে বার বার অস্বীকার করে আসছে, মায়ানমারে তাদের বসবাস ৮ম শতাব্দী থেকে, একটি জাতী নিজেদের অধিকার, নিজেদের স্থায়িত্ব সম্পর্কে অজানা, পাননি কোন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা বরং নির্যাতিত এবং অবহেলিত হয়ে আসছে তারা যুগ যুগ ধরে। তাদের জমি দখল, নির্যাতন ,ধর্ষণ ইত্যাদি ছাড়াও নির্মম ভাবে মেরে ফেলার মতো ঘটনাও তাদের সাথে ঘটেছে।

২০১৫ সালে শুরু হয় রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং এর পরবর্তীতে ২০১৬ এবং ২০১৭ সেনাবাহিনীর অভিযানের পূর্বে দেশে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল ১.১ থেকে ১.৩ মিলিয়ন। যাদের অধিকাংশ বসবাস করত রাখাইন রাজ্যে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত হন মায়ানমারের নিযুক্ত ১২ নিরাপত্তা কর্মী এবং এর পরেই মায়ানমার সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে নামেন ”ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে” যেখানে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং অনেক রোহিঙ্গা আহত, নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হয়। তখন অধিকাংশ রোহিঙ্গা বাঁচার জন্য দেশছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে।রোহিঙ্গা মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ শতাংশ(৪ লক্ষ্য) রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এবং বাংলাদেশে তারা আশ্রয় নেয়। তারা তাদের সীমান্ত দিয়ে টেকনাফের নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং আশ্রয় গ্রহণ করে। প্রথমে অল্পসংখ্যক কিছু রোহিঙ্গা আসলেও আস্তে আস্তে মিছিলের মতো করে বাংলাদেশে তারা প্রবেশ করে।

নির্যাতিত এবং অবহেলিত একটি জাতী তাদের জীবন বাঁচাতেই দেশ ছেড়ে চলে এসেছিল অজানা এক গন্তব্যে, যেখানে তাদের চোখে মুখে ছিল ভয়ংকর এক ভয়াবহতার ছাপ,
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সাহায্য তাদের থাকা এবং যথাসম্ভব খাদ্যের এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা। বাংলাদেশে বসবাস শুরু করার পর তারা এখন সবচেয়ে অসহায় জাতী যাদের নিজস্ব কোন পরিচয় নেই।

আমরা ” রোহিঙ্গা ” কথাটা এখন ব্যবহার করি গালি হিসেবে, কাউকে ছোট করে কথা বলতে চাইলে, কাউকে নিন্ম মানের বুঝাতে চাইলে কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় কাউকে নিয়ে উপহাস করতে চাইলে তাকে ছুড়ে দেই রোহিঙ্গা নামক এক নাম, ” তুই রোহিঙ্গা ””এই রোহিঙ্গা ” এসব ধরনের কথা ব্যবহার করে অন্যকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে, যদিও এটি কোন প্রকার বড় উদ্দেশ্যে নিয়ে বলা হয়না তারপরও একটি জাতীর নাম বা একটি সম্প্রদায়ের নাম কি কখনো গালি হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে?? শুরু থেকেই অবহেলিত এই জাতীর কথা গোড়া থেকে জানলে হয়তো কারো মুখে এমন ধরনের বাক্যে উচ্চারিত নাও হতে পারতো। প্রত্যেক জাতীর কিছু কালো অধ্যায় আছে, আমাদের বাংলাদেশেরও তার চেয়ে কম নয় কোন অংশে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাক-সেনাদের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ থেকে অনেক নাগরিক পালিয়ে যায় ভারতে আশ্রয়ের জন্য , তখনকার বাংলাদেশ এবং এখনকার বাংলাদেশের তফাত আকাশ পাতাল। ”বাঙালী” নামটি যেমন কেউ বিকৃত করলে আমাদের বুকে লাগবে ঠিক তেমন ”রোহিঙ্গা” একটি সম্প্রদায়ের নাম, যা তাদের কিছু না পাওয়ার এবং না থাকার মধ্যেও একটি ছোট্ট পরিচয়।
এটি কোন জাতী বা কেউ গালি হিসেবে ব্যবহার করার কোন অধিকার রাখেনা,
একটি জাতীর নাম কখনো গালি হিসেবে ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই,
এটি একটি জাতীর পরিচয়। অবহেলিত জাতীকে আর অবহেলা না করি।


কাওছার আহমেদ রোহান
শিক্ষার্থী, ইউল্যাব


Leave a Reply