আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
রাজারহাটে আট বছর ধরে কুকুরের সাথে এক নারী সংসার!

রাজারহাটে আট বছর ধরে কুকুরের সাথে এক নারী সংসার!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

এ.এস.লিমন রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : আট বছর ধরে কুকুরের সাথে সংসার করছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের এক নারী। যদিও মানুষ তাকে পাগলী ভাবছে তবুও তিনি বলেছেন, কুকুরটা তার জন্য সঠিক জীবন সঙ্গী আর তা যেকোন পুরুষের থেকে ভালো।

রাজারহাট উপজেলার সদর ইউপির ফুলবাড়ি (দালালী পাড়া) এলাকার কচিম উদ্দিনের মেয়ে ৩৫ বছরের নারী সখিনা রাজারহাট রেলস্টেশনে প্রায় আট বছর ধরে ২টি কুকুরের সঙ্গে জিবন-যাপন করে আচ্ছে। সখিনা কুকুরকে বেঁচে নিয়েছে জিবন সঙ্গী হিসাবে ও কুকুরের বাঁচ্চাকে নিয়েছে সন্তান হিসাবে। সখিনা শখ করে তার কুকুর ২টির নাম রেখেছে টমি ও অনি।

সুএে জানা যায়, যখন সখিনার বয়স ১২ তখন তার মা ফুলবাসী মার যায়। পরে তার বাবা ছালেকা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে। তার বাবা বিয়ে করায়, সখিনার জিবনে খুব দুঃসময় নেমে আসে। তার বাবা সখিনাকে বিয়ে দেয় কুড়িগ্রামের নয়েজ উদ্দিন নামক এক ছেলের সঙ্গে।পরে তার বাবা মারা যায়। তার বাবার মৃত্যুতে নয়েজ উদ্দিন ২ বছর সংসার করে সখিনাকে মাতৃকালীন অবস্হায় রেখে পালিয়ে যায়। পরে সখিনা ১টি কন্যা সন্তান জম্ম দেয়। সখিনা তার কন্যা সন্তানের নাম রাখেন মাজেদা।কিন্তু তার সৎ মা ছালেকা মাএ ৩০০টাকায় তার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়।

সখিনার সৎ মা ছালেকা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সখিনার স্বামী পালিয়ে যাওয়ার পর সখিনা ১টি কন্যা সন্তান জম্ম দেয়। আমরা গরীব মানুষ তাই আমি তার সন্তানকে একজন লোককে পোষানী দিয়েছি। সখিনা জানায়, আমার সন্তান না থাকায় পাগলী হয়ে গেছি তাই সৎ মা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।স্বামী-সন্তান হারার কষ্ট বেদনায় আমার খুব দুঃসময় আসে আর এই খারাপ সময় আমি ভিক্ষা করি সেই সময় এই টমি ও অনি আমার অনুগত থেকেছে।তাই আমি কুকুর টমিকে ও কুকুরের বাচ্চাগুলোকে নিজের সন্তান মনে করি।

যদিও টমি ও অনি তার একমাত্র পোষা কুকুর নয় তার আরও ৬ টি কুকুর ছিল। ৪টি মারা গেছে এখনও ২টি কুকুর ও ৫টি কুকুরে বাচ্চা আছে। তাদের সাথে তিনি বেশির ভাগ সময় কাটান। সখিনার ধারণা কিছু পুরুষের থেকে কুকুরা ভালো।কারণ কুকুরগুলো সখিনার সাথে ঘুমায়,একসঙ্গে খায়,একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। সখিনাকে পাহারা দেয় সেই কুকুরা। আস্তে আস্তে সখিনা কুকুরকে বেঁচে নেয় জিবন সঙ্গী হিসাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে,সখিনা ভিক্ষা করে রেলস্টেশনে ভাত রান্না করে নিজে খায় এবং কুকুরগুলোকে খাইয়ে দেয়।। আবার ১টি পাউরুটি অর্ধেক খায়,অর্ধেক কুকুরগুলোকে খাইয়ে দেয়। কেউ তার কুকুরকে মার,ধর করলে সখিনা কেঁদে কেঁদে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে বিচার দিয়ে বেড়ায়।আবার সখিনাকে কেউ কিছু করলে কুকুরগুলো সখিনার জন্য প্রতিবাদ করে। এভাবে সখিনার ৭ জনের সংসার।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply