রাজধানীতে মাছ-সবজির দাম চড়া, কমেছে পেঁয়াজের – Nobobarta

আজ সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

রাজধানীতে মাছ-সবজির দাম চড়া, কমেছে পেঁয়াজের

রাজধানীতে মাছ-সবজির দাম চড়া, কমেছে পেঁয়াজের

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। তৃতীয় ধাপে আরও ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রয় হচ্ছে ৪০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা। পেঁয়াজের কিছুটা দাম কমলেও এখনো দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে রসুন, কাঁচা মরিচ ও সবজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি-বন্যা ও স্থানীয় বাজারে মজুত সংকটের কারণে কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম বেড়েছে। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, মোহাম্মদপুর, হাতিরপুল অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমনটা গেছে।

কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মান ভেদে দেশি পেঁয়াজের পাল্লা ২০০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১৭৫ টকায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ২১৫ টাকা থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা ।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ ৫৪ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তিন দফায় দাম কমে সোমবার তা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এ হিসাবে প্রতিকেজিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৫ টাকা। এদিকে পেঁয়াজের দাম কমলেও চরা দামেই বিক্রি হচ্ছে সকল সবজি। দ্বিগুণ হওয়া কাঁচা মরিচের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে আরও বেড়েছে । প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বাজার ভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ৭০ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা । পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। এছাড়া ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স, উসি ও ধুন্দুলের কেজি ১০- ২০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

সবজি ও কাঁচামরিচের দামের বিষয়ে হাতিরপুলের ব্যবসায়ী বলেন, সারা দেশে এখন প্রচুর বৃষ্টি আবার কোন কোন অঞ্চলে বন্যা হচ্ছে। আমরা সঠিক সময়ে মালামাল পাচ্ছি না। মৌসম না থাকায় কিছু সবজি বাড়তি দামে বিক্রয় হচ্ছে। বৃষ্টি- বন্যা কমে আসলে সবজির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন তিনি। ইস্কাটনের খুচরা সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, সারা দেশে বন্যার কারণে পাইকারি আড়তে সব সবজির দাম বাড়তি। তাছাড়া দাম বাড়লেও আমাদের কোন লাভ নাই কমলেও আমাদের লাভ নাই। যেমন কেনা তেমন বেচা।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির আগের সপ্তাহের মতো ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। এদিকে রমজান মাস থেকে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় রুই মাছ প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, ছোট ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা বিক্রয় হচ্ছে। কাতলা বড় ৪৫০, ছোট ৩৬০ টাকা। তেলাপিয়া আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৮০, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০, ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৮০০, শিং ৫০০ থেকে ৬০০, চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।


Leave a Reply