যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ – Nobobarta

আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ

Zakat-Nobobarta

ইসলামের ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। যাকাতের আভিধানিক অর্থ পরিশুদ্ধ হওয়া,বৃদ্ধি পাওয়া। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে ৮২ স্থানে নামাজের সাথে সাথে যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দৈহিক ইবাদত হিসেবে নামাজ যেমন খুবই জরুরি, তেমনি আর্থিক ইবাদত হিসেবে যাকাতও খুবই জরুরি।

ইসলামে প্রতিটি অবস্থাপন্ন মুমিনের জন্য যাকাত আদায় একটি অবশ্য কর্তব্য বা ফরজ বলে বিবেচিত। যাকাত আদায় যাদের জন্য ফরজ তারা তা আদায় না করলে পরকালে তাদের কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। ইসলামী বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সঞ্চয় থাকলে যাকাত আদায় বাধ্যতামূলক। সাধারণত দরিদ্র আত্দীয় স্বজন, দুস্থজন যাকাতের প্রধান দাবিদার।

যাকাতের হক্বদার প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ করেন: “এ সদকা (যাকাত) তো ফকির-মিসকিনদের জন্য, যারা সদকার কাজে নিয়োজিত তাদের জন্য, যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্থদের জন্যে, আল্লাহর পথে এবং মুসাফেরদের জন্যে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ফরয বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবাহ-৬০)। যাকাত ফরজ হবার কিছু শর্ত রয়েছে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ :
১. নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া। অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা,কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক হওয়া।
২. মুসলমান হওয়া। কাফেরের উপর যাকাত ফরজ নয়।
৩. বালেগ হওয়া। নাবালেগের উপর যাকাত ফরজ নয়।
৪. জ্ঞানী ও বিবেক সম্পন্ন হওয়া। সর্বদা যে পাগল থাকে তার নেসাব পরিমাণ মাল থাকলেও তার উপর যাকাত ফরজ নয়।
৫. স্বাধীন বা মুক্ত হওয়া। দাস-দাসীর উপর যাকাত ফরজ নয়।
৬. মালের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকা। অসম্পূর্ণ মালিকানার উপর যাকাত ফরজ হয় না।
৭. নেসাব পরিমাণ মাল নিত্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অতিরিক্ত হওয়া।
৮. নেসাব পরিমাণ মালের উপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া।
৯. মাল বর্ধনশীল হওয়া। যাকাতের ফজিলত, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যা কিছু (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দান করবেন। আর তিনিই উত্তম রিজিকদাতা। (সুরা সাবা,আয়াত:৩৯)


Leave a Reply