মিরপুরে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫ – Nobobarta

আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
রাজাপুরে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ রাজাপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ অনুষ্ঠিত মহিউদ্দিন সভাপতি, আবু বকর সম্পাদক উদয় সমাজ কল্যান সংস্থার ১২ তম ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন ১০ ডিসেম্বর উপাচার্যের দুর্নীতির ক্ষতিয়ান প্রকাশ করবে আন্দোলনকারীরা মার্শাল আর্ট ‘বিচ্ছু’ নিয়ে আসছেন সাঞ্জু জন আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন আটোয়ারীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত
মিরপুরে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫

মিরপুরে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫

রাজধানীর রূপনগরের মনিপুর এলাকায় বেলুনে গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চার শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ১৪ জন। আহতদের উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মনিপুরের ১১ রোডের মাথায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দুপুরে আমার ছোট বোনের সাথে ভাত খেয়ে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ছোট বোনটা বাইরে খেলছিল। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এসময় বস্তির ঘরগুলো কাপতে শুরু করে। বাইরে এসে দেখি কান্নাকাটির আওয়াজ। আর রক্তের স্রোত। আমার ছোট বোনটার মরহেদ রাস্তায় পড়ে আছে। তার সাথে আরও ৬-৭টি লাশ পড়ে আছে। কেউ কেউ আহত অবস্থায় কান্নাকাটি করছে। চারপাশে মানুষের ভিড় আর রক্তের স্রোত দেখে সামনে এগিয়ে দেখি আমার ছোট বোনের লাশ। পাশেই আহত অবস্থায় ছিল আমার আরেক ছোট বোন মরিয়ম (৭)।

কথাগুলো বলছিলেন বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকার শিয়ালবাড়ি বস্তিতে বেলুন ফোলানোর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ফারজানার ভাই শিহাব উদ্দিন। নিজত ফারজামার ভাই আরও বলেন, ‘লাশ সাথে সাথে আমি ঘরে নিয়ে আসি এরপর পুলিশ নিয়ে গেছে। লাশটা আমরা ভালোভাবে দেখতেও পারিনি। দুপুরে একসাথে ভাত খেয়েছি। আমি এই কষ্ট কিভাবে ভুলবো? এই ঘটনা কিভাবে ঘটলো জানি না। আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘আহত আরেক ছোট বোন মরিয়মকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার এখন কি অবস্থা আমরা তাও জানি না। বাসার সবাই কান্নাকাটি করছে। এখন আমরা কি করবো তাও বুঝতে পারছি না।’

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের লোমহর্ষক বর্ণনা দিচ্ছিলেন আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ নামের এক তরুণ। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে যখন ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে আসি দেখি-বাচ্চারা রাস্তায় ছিঁটাই রয়েছে। কেউ মরা, কেউ জীবিত, কেউ গোংড়াচ্ছে।’ সোহাগ বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ অনেক জোরে একটা শব্দ শুনে জেগে উঠি। ভাবছিলাম আমরা কারেন্টের চোরাই লাইন ব্যবহার করি। সেটার ট্রান্সমিটার বাস্ট করেছে। দেখি আমার ঘর কাঁপছে। পরে বাইরে আইস্যা দেখি রাস্তায় রক্ত আর মাংস ছিটিয়ে রয়েছে। চারদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়া।’ ‘বেঁচে থাকা বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করি। আমি নিজেই তিনটাকে উদ্ধার করে সুরক্ষা হাসপাতালে নিয়ে যায়। যারা মারা গেছে তারা সবাই বস্তির ছেলে-পেলে। এরা তো একজন কেনে আর বাকিরা দাঁড়িয়ে দেখে।’


Leave a Reply