মাহমুদ নোমান এর উপন্যাস “তামাশা” - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:১৫ অপরাহ্ন

মাহমুদ নোমান এর উপন্যাস “তামাশা”
পর্ব – ২

মাহমুদ নোমান এর উপন্যাস “তামাশা”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

যে সকল পাঠক গত পর্ব (পর্ব-১) পড়তে পারেনি তাদের জন্য লিঙ্ক দেয়া হলোঃ পর্ব-১ ।

সিয়ামের বুদ্ধির বয়স থেকে লেখার ঝোঁকটা পেয়ে বসে। কেমনে পেল সে কথাটা হয়তো কখনো বুঝিয়ে বলতে পারবে না। তখন সবেমাত্র ক্লাস ফোরে,একদিন কাজল স্যার ঘরে পড়াতে আসার আগেই আস্তরহীন ইটের দেয়ালে স্যারের মুখোমুখি বইয়ের কবিতাগুলোর উদ্দীপনে, কী খামখেয়ালে একটা কবিতা লিখে সেঁটে দেয়। স্যার চেয়ারে বসার পর থেকে স্যারের চোখের দিকে চেয়ে আছে স্যার কখন লেখাটির দিকে তাকায়। কী শিরশিরে ভাব, অজানা পুলক বা লজ্জার দারুণ মিশেল। অতঃপর স্যার একবার তাকাল,কবিতার শিরোনামের নিচে সিয়াম নামটি দেখে একটু মুচকি হাসলো পুরোটা খোলাসা না করে। কিন্তু সিয়ামের দিকে চোখ পরতে আর কিছু বললো না, তাকালো না আবার। এবং এটার কি কারণ তাও আবিষ্কার করতে পারেনি সিয়াম। তবে সন্ধ্যের পরপর স্যার চলে যাওয়ার পর স্যারকে দেওয়া প্লেটের বিস্কিটগুলো চাবাতে চাবাতে দারুণ উৎসাহ পেল। ভাবছে যদি খারাপ হতো,স্যার অন্তত নাক ছিটকাতোই!

দিনদিন লেখাটাকে আঁকড়ে ধরল। ছোট একটা ডায়েরীতে মনে যা আসে লিখতে থাকে। ক্লাস এইটে উঠে আস্ত একটা উপন্যাস লিখে ফেলে,টিফিনের পাঁচ দশ টাকা জমিয়ে কম্পোজের টাকা দেয়। একদিন রোজী ম্যাডাম সিয়ামের কাছ থেকে পড়া নিতে দাঁড় করায়- পড়া শিখেছো…?
– জ্বি,ম্যাডাম
সিয়ামের পড়াটা বলা শেষ হলে,ম্যাডাম বলে- ভালো তো,তুমিই একমাত্র পড়াটা পুরো শিখে বলতে পারলে।
ম্যাডামের কথাটা মুখ থেকে শেষ হতে না হতে পাশের বেঞ্চ থেকে শৈবাল বলে উঠল – ম্যাডাম,সিয়াম লেখালেখিও করে
রোজী ম্যাডাম সিয়ামের লজ্জানত মুখের দিকে ভরসা রেখে বলে – এটা তো দারুণ প্রতিভা। তো সিয়াম,কী লিখলে…?
সিয়াম আমতাআমতা করে বলে- না,ম্যাডাম। শুধু একটা উপন্যাস লিখলাম
– হুম,বেশ। কাল নিয়ে এসো। আমি পড়বো
ভেতরে দারুণ পুলকসঞ্চার, তবে মুখে নম্রস্বভাবে বলল- আচ্ছা, ম্যাডাম
বসো
সিয়াম সেদিন ঘরে এসে বেডের নিচে ডায়েরীটা অনেক খুঁজল। অতঃপর না পেয়ে নীরবে আড়ালে বিছানায় বসে কান্না জুড়ালো। সে জানে কে ডায়েরি সরাতে পারে। আগের ডায়েরিটাও ছুঁড়ে ফেলে দিল মা ও চাচা। মা সেদিন খুব জেদে বকা দিয়েছে – লেখাপড়া না করে এসব কি,এই…এসব কি ?
দুই হাতে দুই গালে ইচ্ছেমতোন থাপ্পড়ালো। তাই আজকের ডায়েরীটা হারানোর কথা কাউরে জিজ্ঞেস করার সাহস পেল না অথচ ডায়েরীটাতে লিখে লিখে বেডের নিচে লুকিয়ে রাখতো আর কেউ না দেখে মতো বের করতো। কিন্তু উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটা বইয়ের ভাঁজের মধ্যে থেকে কেউ পায় নি। সেটা ম্যাডামে পড়ে আহ্লাদিত,উৎফুল্ল হয়ে বললো- সিয়াম,তুমি তো দারুণ লিখো। চালিয়ে যাও,ঘষামাজা করো…

মুখ থেকে কানে আর এ জন থেকে আরেকজনে এমন করে এলাকায় প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে গেল সিয়ামের লেখালেখির খবর। সিয়ামের মফস্বলের অলি গলি,সবুজে ও ধুলোমাখা পথে একাকী হাঁটাহাঁটি আনমনে। কখনো হাতে দশটা টাকা এলে সমকাল পত্রিকা নয়তো চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক কিনে নির্জনে বসে মজিয়ে পড়তো নয়তো হাঁটতে হাঁটতে পথের মাঝে কাদা-বালি ও ধুলোমাখা কাগজের টুকরো তুলে নিতে একটু লজ্জা লাগলে এদিকওদিক চেয়ে টুক করে তুলে পড়তে পড়তে হাঁটতো আর পথচারীর মুখ, কথাবার্তা অনুসরণ করে চলতো। স্কুল জীবনের শেষের দিকে প্রায় পত্রিকার ঠিকানা বরাবর ডাকযোগে লেখা পাঠাতো,এরপরে এলো কুরিয়ারে।

হাতে একটু বাড়তি টাকা এলে বাসে উঠে টার্মিনাল চলে যাওয়া,সেখানের হকারের সাজানো পত্রিকা ম্যাগাজিনের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চেয়ে থাকা,কখনো ধরার সাহস হয় না। যদি মালিকেরা কিছু বলে? তবুও মাঝেমধ্যে সুযোগে উল্টায় কয়েক পাতা। এবং সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে আন্দরকিল্লা। যেখানে গেলে নিজেকে লেখক সমাজের কেউ মনে হয়,চারদিকে বই আর বই। হয়তো বইয়ের বন। উপোস পেটে এদিকওদিক চেয়ে অথচ কেউ পরিচিত না আর এভাবে সন্ধ্যে হলে বাড়ি ফিরে আসা ভাঙা শরীর নিয়ে। তবে টাকা না পেলে স্কুল মাঠে স্কুল থাকার আগে ও পরের সময়টাতে একরকম পড়ে থাকে,কোনো খাওয়াদাওয়ার হিসেব নেই। একদিন রান নিয়ে মাঠে বজলুর সাথে বাড়াবাড়ি লেগে গেল। হঠাৎ তা ঝগড়াতে নিয়ে গেল বজলু। স্ট্যাম্প তুলে আনতে যেতে একজনে পিছন থেকে ধরে ফেলল। আবার ব্যাট নিয়ে তেড়ে আসলো- এ মাগীর কবি,এহ্ কবি হয়ছে,বালের কবি। শালার কবি,আজ মেরে ফেলবো তোরে। সিয়াম বোলিং প্রান্তে বল হাতে হা – করে চেয়ে আছে। মাঠের প্রায় সবাই বজলুকে ধরে ঠাণ্ডা করালো তবুও গালিগালাজ করে যাচ্ছে কবির সাথে বাজে শব্দ জড়িয়ে। সে রাতে সিয়াম ভাত খায় নি। শুধু কাঁদলো আর ভাবছিলো,কবিতা লেখা কী তার অপরাধ ? আবার এও ভাবছে হয়তো নিজের দোষ আছে আর নিজে অপমানিত হয়েও শত্রুর মতো ব্যবহারের বজলুর প্রতি অস্বাভাবিকভাবে দরদ বাড়ছে,রাত বাড়ছে এবং চোখের জলও পড়ছে !

০৫.

স্কুলজীবন শেষে কলেজে উঠতে শহরের মেসে উঠলো কয়েকটা কারণের মধ্যে একটা- নিজেকে মুক্ত করবে; নিজের মতো করে লিখবে,পড়বে। এলাকা আর স্কুলের এক বন্ধুর সাথে এক রুমে আরো তিনজনের সাথে,বেশ ফুরফুরা ভাবে। তবে মেসে থাকবে বললে তো হয় না,খরচপাতি লাগে। ঘর থেকে একটা টাকাও নিবে না এ মর্মে বের হয়েছে। এখন টিউশনি খুঁজা ছাড়া উপায় নেই অথচ সে প্রাইমারীর পর থেকে নিজে কোনো স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে নি! বাবা বিদেশ থেকে বললো – আমি নিজে টাকা কামিয়ে নিজের সুন্নত করেছি,তোকে মেট্রিক পর্যন্ত দেখলাম আর পারবো না। নিজে যা খুশি কর গিয়ে…
সিয়ামের ইচ্ছে হলো বলতে কিছু, তবুও বলেনি যে – কি করলো,একটা তিনশ টাকায় স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তেও তো গেল না! আর মায়ের কাছে অজুহাত ছিল- কি লেখাপড়া করবি? সারাদিন তো খেলা আর খেলা,চায়ের দোকানে কাজ করতে যা…
একদিন এমন করে চেঁচাতে চেঁচাতে বইগুলো টেবিল থেকে উঠোনে ছুঁড়ে মারলো,সিয়ামের ভেতর বাহির সবটা ছাপিয়ে কান্না আসলো তবে মায়ের জেদি চোখে তাকিয়ে জল জমে থাকলো চোখে। একটা একটা বই কুড়িয়ে নিলো মাথা নিচু করে।

হঠাৎ এসব ভাবছে মেসে বালিশে মাথা রেখে এক পড়ন্ত বিকেলবেলায়। অন্ধকার দুই তলার একেবারে দখিনের রুমের দরোজার সামনে এসে গেলো,বালিশে টুপ করে জল গড়ালো নিজের অজান্তে। ভাবছে,মায়ের কী দোষ? বাবা বিদেশে মাসে ৫০ হাজার কামালেও ঘরে দেয় ১০ হাজার। দশ- বারো জনের সংসারের খরচ ও ঔষধের খরচপাতি কিভাবে সামলায় মা। হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছে। হঠাৎ মাকে খুব মনে পড়ছে,মেসে আসার পর থেকে মায়ের মুখ খুঁজছে এ গলি আর ও গলি। কোনোদিন মাকে ছেড়ে এক রাতও বাইরে থাকে নি! মায়ের চেঁচামেচিটা ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ এ দোয়াটার মতো অনর্গল বাজছে,অথচ তার ঘুরে দাঁড়ানো এ মুহূর্তে খুব প্রয়োজন। সন্ধ্যার পর পর বন্ধু শফিক বলল -চল বাইরে ঘুরতে যায়
-তোর টিউশনি নেই ?
– তোর হুঁশ আছে! আজ শুক্রবার না…?
– হুম
– চল
রুমমেট সরোয়ার উদোম বুকে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বলল- আমাকে নিবি তোরা…?
শফিক বলল- আয়
বেরুলো তিনজনে। রাস্তায় ঘন্টাখানিক আগে বৃষ্টি হয়েছে ছিমছাম। শীতটা ঝেঁকে বসতে চাচ্ছে প্রকৃতিতে। মসজিদ পেরিয়ে রোডের দোকানগুলোতে বউবাজার নাম দেখে সিয়াম একটু অবাক হওয়া দৃষ্টিতে শফিককে বলল- আচ্ছা দোস্ত, বউবাজার কেন…?
সারোয়ার শয়তানপনায় বলল- সেখানে বউ পাওয়া যায় তো…
শফিক কথা থামিয়ে বলল- না,দোস্ত। কেন এ নাম আমি জানি না,তবে এখানে ঘরের বউ-ঝিরাও বাজার করতে আসে। শহরে কি এসব ভাবনায় রাখে,সমাজে কে কি বলবে…
সিয়াম কথা মিলিয়ে বলল- তা ঠিক,এ কয়দিনে বুঝলাম। শহরে সবাই সবার ধান্ধায়। তবে এটা ভালো যে,বউরাতো রান্না করে,আর নিজেরা নিজেদের মতো বাজার করে নিলে অন্তত স্বামীদের গলার টাই টানাটানি হয় না।
তিনজনে এক রোলে হেসে উঠে। হাঁটতে হাঁটতে একসময় বাসায় ফেরার পথে ভ্যানগাড়িতে আঙ্গুর আপেলের পসরা সাজানো দেখে দাঁড়ায় শফিক। সিয়ামদের বলে- দাঁড়া একটু,কিছু আঙ্গুর নিই। শরীরের ভোল্টেজ ঠিক রাখতে হবে তো…
সিয়াম সারোয়ারের দুষ্টু হাসি না বুঝে কেবল মুচকি হাসিতে তাল মেলাল। সে রাতে ঘরে ফিরতে আরেকবার বৃষ্টি আসল। ফারুক দখিনের জানালাটা খুলতে খুলতে বলল- ভাগ্য ভালো,আমরা বাসায় এসে গেলাম। নয়তো হঠাৎ শীতবৃষ্টিতে অসুখ বেঁধে যাবে।

জানালায় দাড়িয়ে কি যেন খুঁজছে শফিক এসময়ে। রীতিমতো চিলিবিলি করছে। সিয়াম বলে উঠল- দোস্ত, কারে খুঁজস্ এমন করে…
সারোয়ার তার টেবিল থেকে বলে উঠল – বুঝবি,বুঝবি সিয়াম আর কয়েকদিন পর।জানালাটার বরাবরতো তোর টেবিল বসালি।
সারোয়ারের তুই তুকারি করে কথা বলা সিশামের মনে বিস্ময় আসার আগে খুব হালকা হালকা লাগলো অনুভব এলো এ ভেবে, অচেনা রুমমেট তাকে বন্ধু করে নিল এতো তাড়াতাড়ি। আর সারোয়ারের এমন কথায় একটু আনমনা হয়ে বলল- কি অমন আছে জানালার বাইরে…?
শফিক দৃষ্টি না ফিরিয়ে বলল- একটা পৃথিবী আছে,সুন্দর পৃথিবী…

সিয়াম চেয়ারে বসে জানালার দিকে তাকায়। শফিকও দাঁড়িয়ে এখনও কাউকে হয়তো দেখছে। হঠাৎ বিশ তিরিশ হাত দূরে দুই তলা বাড়ির লম্বা খোলামেলা বেলকনিতে একটা মেয়ে এসে দাঁড়াল। শফিক এইমাত্র একটু নড়েচড়ে উঠল যেন। তার চোখ নিবিড়তার ধ্যাণে মুখটাকে মোলায়েম করে তুলছে। যেন মেয়েটির একটু হাতছানি তার খুব প্রয়োজন,সিয়াম এসবের কূলকিনারা না পেলেও মেয়েটির দিকে তাকিয়ে এসবের মানে বুঝতে চাচ্ছে এমন সময় মেয়েটি দুলিয়ে হেসে একবার চলে গেল। শফিক বুকটাতে দুই হাত চেপে ও হো হো করে মুখ ফিরিয়ে নিলে সারোয়ার ঠেস্ মেরে বলল- তুই কখনো পারবি না,দেখিস্ আমাকে চেয়ে থাকবে,হাত নাড়াবে,ইশারায় ডাকবে কাছে
শফিক একটু চেঁতে গিয়ে বলল- ডাকবে তো তোরে,কুত্তার মতো আয় আয়
শফিক কুকুরের মতো দুটো হাত একটু বাঁকিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। সারোয়ার তো দ্বিগুণ জ্বলনে ফুঁসফাঁস করতে করতে দাঁড়িয়ে এক কদম বাড়িয়ে এদিকওদিক তাকিয়ে অবশেষে হাতের কাছে সরিষা তেলের বোতলটি ছুঁড়ে মারলো ফারুকের গায়ে। শফিক ত্বরিত শরীর বাঁকালে বোতলটি দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে মেঝে পড়ে তেল ছিঁটে পড়ল। শফিক বোতলের দিকে না তাকিয়ে চেঁচায়ে চেঁচায়ে বলল- দেখলি আমার গায়ে পড়ল না,আ হা হা
সারোয়ার স্মিত হেসে বলল- দেখ ওটা তোর সরিষার বোতল। তোর তলার বোতলের মতো ক্যাৎ হয়ে গেল। আবার,দমও দেখাস্
শফিক পিছন ফিরে তেলের বোতলের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে বলল- ঠিকাছে,এবার ঝালমুড়ি খেতে গেলে তেল আমি আনতে পারবো না বলে দিলাম। সিয়াম এতক্ষণ আওয়াজ ছাড়া হেসে এবার বলল- ঝগড়া করে কি লাভ হলো…? শেষে তো বোতল ক্যাৎ
সারোয়ার উল্লাসে হেসে বলল- শফিকের বোতল তো,তাই…
দুজনের হাসিতে অতঃপর শফিকও হেসে উঠল। যেন এতক্ষণ হাসার জন্য অপেক্ষা করছে।

এভাবে সপ্তাহখানিক চলে গেল। জানালায় এসে কখনো শফিক আর সারোয়ার এসে পাল্টাপাল্টি দেখাদেখি,মেয়েটির ইশারা পেতে চেষ্টা চালাতে থাকে। সারোয়ার তো গোলগাল শরীরের মাসল দেখায় কখনো কখনো শার্টের হাতা উল্টায়ে। সিয়াম জানালার সাথে নিজের চেয়ারে বসে এসব কাণ্ডে মুচকি মুচকি হাসে। কিন্তু সবাই চলে গেলে সিয়াম যখন পড়ায় ব্যস্ত থাকে তখন মেয়েটি তাকিয়ে থাকে জানালার দিকে। এভাবে আরো কয়েক সপ্তাহ জানালার কাছে লাফালাফি। একদিন বিকেলবেলায় শফিক দেখছিল,হঠাৎ সারোয়ার উদোম শরীরে সবচেয়ে নতুন সুন্দর শার্টটি পরে সিয়ামের ডানপাশে এসে সেও দেখাদেখি চালায় একযোগে। আহা,কী ইশারা! হাসাহাসি।

একসময় সারোয়ার সিয়ামের ডানহাত টেনে দাঁড় করায়- তুইও দাঁড়া,দেখি মেয়েটি কাকে তাকায়
এমন প্রস্তাবে শফিকও বামহাত ধরে তুলে সায় দেয়- আজ দেখি,মেয়েটি কাকে তাকায়,কি ভাবে…আজ ফয়সালা হয়ে যাবে।
তিনজনে দাঁড়িয়ে আছে ফুটবল খেলায় জাতীয় সংগীত গাইবার মতো বুক টানটান করে। সারোয়ার ইশারায় মেয়েটিকে তাকাতে বলে বারবার,মেয়েটি হাতের ইশারায় বলে- কি…?
শফিক আঙ্গুল দিয়ে তাকে এক,সিয়ামকে দুই,সারোয়ারকে তিন দেখিয়ে প্রত্যেকের বুক আঙ্গুলে স্পর্শ করে ইশারায় দুই হাতের দুটি শাহাদাত আঙ্গুল পেঁচিয়ে শিকলের আংটার মতো ভালোবাসার সম্পর্ক বুঝায়। আর ইশারায় বলে- এই তিনজন থেকে কাকে …?
মেয়েটি চুপচাপ কতক্ষণ তাকিয়ে থাকে স্থিরচোখে।কখনো নিজেদের রুমগুলোর দিকে দেখে- কেউ আসছে কি না। এবার সারোয়ারও একইভাবে শফিকের মতো আঙ্গুল দিয়ে প্রতিটা বুক স্পর্শ করে বলে- কাকে ভালোবাসো…?
মেয়েটি হাসতেই থাকে, বিকেলের চিকচিক আলোয় দাঁতগুলোতে ঝিলিক মারছে। ফারুক ও সারোয়ার ক্রমাগত ইশারায় ইঙ্গিতে বলছে -কাকে ভালোবাসো…?
মেয়েটির হাসিতে দুজনের একটু জ্বলন হয় উত্তেজিত ভাবে। তারা করতেই থাকে মূখাভিনয়।
অতঃপর মেয়েটি সে কাঙ্ক্ষিত ইশারায় হুট করে বলল- এ কে…
দুজনের প্রত্যেকে বলল- আমাকে…?
মেয়েটি ইশারায় বলল- না
দুজনে দরাত করে ঢলে পড়ল। সিয়াম হা – করে দাঁড়িয়ে,নিজের বুকে আঙ্গুল রেখে ইশারায় বলল- আমি…?
মেয়েটি আশ্বস্ত করে চোখ চাপিয়ে বলল- হ্যাঁ,তুমিই।

[বিঃদ্রঃ মাহমুদ নোমান এর উপন্যাস “তামাশা” প্রকাশিত হবে প্রতি বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যে ছয়টা। নববার্তা.কম এর পাঠকদের অনুরোধ করছি উপন্যাসটি পড়ুন এবং মন্তব্য করুন]

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply