ভুতের সাথে দিন যাপন : পর্ব-২ – Nobobarta

আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫০ অপরাহ্ন

ভুতের সাথে দিন যাপন : পর্ব-২

ভুতের সাথে দিন যাপন : পর্ব-২

প্রথম পর্ব যারা পড়তে পারেননি তাদের জন্য – ভুতের সাথে দিনযাপন-১

নাভিদ আমিন : অনেকদিন হল বিপিন নামের ভুতের কোন খবর পাচ্ছিনা হঠাত করে উধাও হয়ে গেল। এমনিতে তো তার আমার ঘাড় থেকে নামার কোন কথায় ছিল না। তবে সে সত্যিই বলেছিল মরে যাবার পরেও সে সব কাজ করতে পারে দায়িত্ববোধ থেকে। আমার ঘর দোর রান্না বান্না থেকে শুরু করে কাপড় চোপড় পরিষ্কার করা ইত্যাদি। আমি যেখানেই যাইনা কেন বিপিন আমার সঙ্গ ছাড়েনি। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে ঘটতো অমায়িক মজার ঘটনা। খাবার অর্ডার করতাম দুজনের জন্য। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে আমি একা খেতাম বিপিন কে দেখতে পাইনি কখনো তবুও দুজনের খাবার এক সাথেই খাওয়া হয়ে যেত এই দেখে ওয়েটার দের হত বেহাল দশা ভয়ে মুখ কাচুমাচু হয়ে যেত।

একদিন কাজ শেষে বিপিন বায়না ধরল ঝাল ফ্রাই খাবে, বেচে থাকার সময় তার খুব ইচ্ছে ছিল খাওয়ার কিন্তু তখন যথেষ্ট টাকা ছিলনা আর এখন মৃত্যুর পরেও তার ইচ্ছেটা রয়ে গেছে।বিপিন বলল আজ্ঞে বাবু অভয় দিলে একটা আবদার করতে পারি। আমি মুচকি হাসি হেসে বললাম তোমার আবদার টা কি কারো ঘাড় মটকাবার জন্য।বিপিন বলল আজ্ঞে বাবু নাহ।আমার সেই সাহস নেই আমি খুব ভীত একটা ভুত তবে অনেক সময় সাহসী হয়ে যাই।

বাবু আমি আজ রেস্টুরেন্টে খেতে চাই। আমি হাসব না কাদব ভেবে পেলাম না। ভুতদের কি মরার পর আহারের কোন প্রয়োজন আছে আর তারা খাবে কি করে তারা তো অদৃশ্য।বিপিন বলল আজ্ঞে বাবু ভুতের আহার করার প্রয়োজন হয়না ঠিকই তবে তারা পছন্দনীয় খাবার খেতে পারে। কি আর করা ভুতের আবদার না মিটালে চলে কি করে।ওয়েটার কে ডেকে ঝাল ফ্রাইয়ের অর্ডার করলাম। সেদিন বাসায় ফিরে আসার সময় রিক্সায় কথা হচ্ছিল বিপিনের সাথে তার ভাষ্যমতে সে আমার পাশেই বসে ছিল।মাঝ রাস্তায় এসে বিপিন জানালো বাবু সামনে তাকিয়ে দেখুন নুরু ডাকাতের দল শহর পরিষ্কার করা নিয়ে ব্যস্ত। ব্যটা আমাকে দেখলে নির্ঘাত কাজে লাগিয়ে দিবে। আমি বললাম কোথায় নুরু ডাকাত দেখতে পাচ্ছিনাতো। বিপিন বলল আজ্ঞে বাবু আপনি মানুষ তো তাই দেখতে পাচ্ছেন না তবে আমাকে এবার পালাতে হবে।বজ্জাৎ লোকটা আমাকে দেখে নিয়েছে। এরপর থেকে আর বিপিনের কোন হদিস পাইনি আমি।বেশ কিছুদিন পর একদিন রাতে রান্না ঘরে কেউ শব্দ করছিল। আমার ঘুম ভেঙ্গে যেতেই হাক ছাড়লাম কে? মিহি গলায় আওয়াজ এল বাবুর ঘুম ভেঙ্গেছে তাহলে।আমি আবারও বললাম কে? বাবু ভয় পাবেন না যেনো আমি বিপিন। আমি জিজ্ঞাস করে জানতে চাইলাম এতদিন কোথায় ছিলে?

বিপিন বলল আজ্ঞে বাবু খরেশ বাবুর ফ্রিজে বন্দী ছিলাম।
সেখানে তুমি কি করে গেলে সেদিন তুমি নুরু ডাকাতের ভয়ে পালিয়েছিলে ।
বিপিন মিহি গলায় জবাব দিল আজ্ঞে বাবু ভুত হলেও তো ডর ভয় আছে নাকি!
আমি বললাম মানুষ মরে গেলে তার আবার কিসের ভয়?

বিপিন বলল বাবু ভুত হলে যে কি যন্ত্রণা আপনি বুঝবেন না ভুতেরাও বাবু আজকাল হট্টগোল পাকাতে শুরু করেছে জায়গায় জায়গায় ভুতেরা এখন মিটিং মিছিল করে। দৌড়াতে দৌড়াতে আমার বড্ড তেষ্টা পেয়েছিল পথেই খরেশ বাবুর মুদি দোকান দেখে তার ফ্রিজে ঢুকে পড়লাম তেষ্টা মেটাবার জন্য। তারপর বাবু সেই যে ফ্রিজে বন্দী হলাম আর বের হতে পারছিলাম না খরেশ বাবুও শান্তি পাচ্ছিল না।কারণ তার ফ্রিজ থেকে তখন ঘু ঘু ঘের ঘের শব্দ বেরুতে শুরু করেছে। একদিন রাতে হল কি বাবু জানেন? খরেশ বাব ফ্রিজ খুলতেই প্রচন্ড ভয় পেতে শুরু করলেন কেননা ফ্রিজে তখন ঘু ঘু ঘের ঘের শব্দ হচ্ছিল মাঝে মাঝে বিড়াল ডাকা শব্দও শুনতে পেলেন তিনি। প্রথমত খরেশ বাবু বুঝতেই পারলেন না এই বিড়ালের ডাকটা কোথায় থেকে আসছে। দিনদিন ফ্রিজে ঘের ঘের ডাকা শব্দ বাড়তেই থাকলো খরেশ বাবুর ভয় ভীতিও বেড়ে গেল।খরেশ বাবু ভাবলেন নিশ্চয় কোন মানুষের কাজ এটা সেজন্য তিনি লোক ডেকে বললেন কে ওখানে কে? ফ্রিজের শব্দ আরোও বেড়ে গেল লোকের মনেও সন্দেহ হতে লাগলো যে খরেশ বাবুর দোকানে ভুতে আস্তানা করেছে। খরেশ বাবু সেদিন পুরো দোকান খুজেও কাউকে পেলেন না অবশেষে ধরেই নিলেন যে এটা ফ্রিজের যান্ত্রিক সমস্যা। কিন্তু ক্রেতাদের আগমন খরেশ বাবুর দোকানে কমে গেল সবাই ভাবলো ভুতে আছর করেছে খরেশ বাবুর উপর। অবশেষে ফ্রিজের কারিগর কে খবর দেয়া হলে তিনি সমস্তই দেখে বললেন যে ফ্রিজ তো ভালই আছে তাহলে এই ঘু ঘু ঘের ঘের শব্দ কোথা থেকে হচ্ছে।ফ্রিজের মিস্ত্রির মাথা ঘেমে কপাল বেয়ে পানি ঝরতে লাগলো কোন সমাধান আর খুঁজে পেলনা।

বুঝলেন খরেশ বাবু আপনার এই ফ্রিজটিতে কোন যান্ত্রিকতার ত্রুটি নেই অথচ ভয়ংকর শব্দ হতে কোন রেহায় মিলছে না। আর এভাবে চলতে থাকলে একদিন আপনার ব্যবসা নাটে উঠে যাবে তাই বলছি কি শুনুন ফ্রিজটি কারো কাছে বিক্রি করে দিন তারপর যে কিনবে সেই এই ঝামেলা পোহাবে আপনি মুক্তি পেয়ে যাবেন। খরেশ বাবু অতিষ্ঠ হয়ে তার ক’দিন পরেই ফ্রিজটি বিক্রি করে দিল একটি রেফ্রিজারেটর সারানোর দোকানে। তবে মানুষ আর তেমন খরেশ বাবুর দোকান মাড়ায় না সকলের মনেই ভুতের ভয় বাসা বেধেছে।এদিকে ফ্রিজ কিনে বিপদে পড়েছে জয়নুল মিয়া, তার দোকানের কর্মী সব ভয় পেতে শুরু করেছে সবাই অভিযোগ করতে লাগলো যে এই ফ্রিজের মধ্যে সারাক্ষণ ঘু ঘু ঘের ঘের শব্দ হয়। মাঝরাতে মনে হয় কোন শিয়াল অথবা সিংহ ডাকছে।সেদিন সারাদিন ধরে ফ্রিজ খুলে ভালমতো মেরামত করা হল। জয়নুল মিয়া ভাবলেন এবার বুঝি সব সমস্যার সমাধান হল কিন্তু ঘটনা ঘটলো তার উল্টো। জয়নুল মিয়া ফ্রিজ সারিয়ে বেচে দিয়েছিলেন একজন পুলিশ অফিসারের কাছে নাম আক্কাশ আলী। ভদ্র লোকের বহুদিনের ইচ্ছে ভাল মানের কোন সেকেন্ড হ্যান্ড ফ্রিজ পেলে কিনে নিবেন। জয়নুল মিয়া কেও খবর টা দেয়া ছিল তাই আর দেরী করেন নি বেচে দিলেন আক্কাশ আলী সাহেবের কাছে। প্রথমত দুই একদিন ভালই চলল বিপত্তি দেখা দিল তার কদিন পর থেকে। একদিন রাতে খরেশ বাবুর স্ত্রী ঠান্ডা পানির জন্য ফ্রিজের কাছে গেলেন। ফ্রিজের মধ্যে তখন প্রচন্ড রকমের ঘের ঘের শব্দ হচ্ছিল এই শুনে ভদ্রমহিলা জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন ভয়ে। আক্কাশ আলী সাহেব সেদিন অবিশ্বাস করলেও পরের দিন বুঝতে পারলেন যখন শব্দ হচ্ছিল।

আক্কাশ আলী সাহেব ধমকের সুরে বললেন কে?কে ওখানে ফ্রিজের মধ্যে?
হঠাৎ করে আওয়াজ হল মুক্তি চাই আমি এই ফ্রিজ থেকে মুক্তি চাই।
পুলিশের লোক হলেও সেদিন আক্কাশ সাহেব ভড়কে গেলেন ভীষণ।এরপর থেকেই ফ্রিজে যা কিছু রাখা হত সব উধাও হয়ে যেত। মাছ মাংস ফল মুল মিষ্টি। বাসার সবাই তখন ভয়ে অস্থির কেউ ফ্রিজ খুলতে সাহস করে না।আক্কাশ আলী সাহেব খবর পাঠিয়েছেন জয়নুল মিয়ার কাছে সাথে কড়া করে কথাও শুনিয়ে দিয়েছে। জয়নুল মিয়া তার লোকজন নিয়ে ফ্রিজ ফেরত আনতে গেলেন কিন্তু ঘটনা ঘটলো অন্যরকম কোন শব্দ হচ্ছে না ফ্রিজে। বাসার সবার কাছে আক্কাশ সাহেব জানতে চাইলেন কেউ ফ্রিজ খুলেছিল কিনা। তখন তার দশ বছরের ছোট মেয়ে নিরা বলল বাবা আমি খুলেছিলাম ফ্রিজ। একটা লোক ফ্রিজ থেকে আমাকে ডাকছিল বলছিল আমাকে বাইরে বের করে দে আমি মুক্তি চাই। আমি বুঝতে পারিনি বাবা খুলে দিতেই দেখলাম একটা বিড়াল ফ্রিজ থেকে বেড়িয়ে পালিয়ে গেল জানালা দিয়ে।জয়নুল মিয়া সব কিছু ভাল করে পরীক্ষা করে দেখে বললেন না এখন আর কোনই সমস্যা নেই যা ছিল মিটে গেছে।তবে খরেশ বাবুর দোকানে এখন আরও শব্দ বেড়েছে। ক্রেতাসাধারণ আর সেভাবে আসছে না কেউ ভয়ে কে শুনতে চায় এমন ঘর ঘর আওয়াজ।বিপিনের ধারনা ওখানে নুরু ডাকাতের দল আস্তানা করেছে।আমি বললাম যাক ভালই হয়েছে শেষ পর্যন্ত তুমি মুক্তি পেয়েছো তবে ফেসে গেলেন খরেশ বাবু।

তৃতীয় পর্ব আসছে সঙ্গে থাকুন


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family
Design & Developed BY Nobobarta.com