ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে ধর্মঘট – Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে ধর্মঘট

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে ধর্মঘট

দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। এদিকে সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনে কোনো গাড়ি/বাস ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারেনি।

ধর্মঘটের অংশ হিসেবে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধরা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ অবরোধ কর্মসূচি। আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন তাদের এই ‘সর্বাত্মক ধর্মঘট’ চলবে। তবে পূর্ব নির্ধারিত ফাইনাল পরীক্ষা অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ আন্দোলনে সক্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এদিকে অবরোধের কারণে বুধবার অফিস কক্ষে ঢুকতে পারেননি প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কার্যালয়ে আসেননি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। আন্দোলনরতরা জানিয়েছেন উপাচার্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করায় এখন তার অপসারণে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে বেলা ১১টায় পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন উপাচার্যের সমর্থক শিক্ষকরা। তারা আন্দোলনকারীদের মিথ্যাচারের প্রতিবাদ ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীরের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত আগস্টে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর মধ্যেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উপাচার্য ফারজানার কাছে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরে ওই দুই ছাত্রনেতাকে ছাত্রলীগের পদ হারাতে হলেও তারা উল্টো অধ্যাপক ফারজানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ‘ঈদ সালামী’ হিসেবে উপাচার্যের কাছ থেকে এক কোটি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ফারজানা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ১৯ সেপ্টেম্বরের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা পদত্যাগের জন্য তাকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। ওই সময়ের শেষ দিনেও অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম পদ না ছাড়ায় মঙ্গলবার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী তাকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর কর্মসূচি পালন করেন।


Leave a Reply