ভালুকায় পেটে বাচ্চাসহ গাভী জবাই – Nobobarta

আজ রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ভালুকায় পেটে বাচ্চাসহ গাভী জবাই

ভালুকায় পেটে বাচ্চাসহ গাভী জবাই

সফিউল্লাহ আনসারী, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকা বাজারের কসাইখানায় পেটে বাচ্চাসহ গাভী জবাইয়ের ঘটনায় প্রশাসনের নির্দেশে মাইকিং করে অনির্দিষ্টকালের জন্য পৌর শহরে পশু জবাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও কয়েকজন কসাইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার সকালে কসাই কামাল, ইমরান, এয়াকুব ও সিদ্দিক কসাইখানায় একটি গাভী গরু জবাই করে। পরে চামড়া ছাড়ানোর সময় বাজারের লোকজন ওই গাভীর পেটে প্রায় ৭ মাস বয়সী বাচ্চা দেখতে পান।

এসময় তারা পুলিশকে জানালে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই কসাইরা পালিয়ে যান। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বাছুরসহ জবাইকৃত গাভীটি মাটিতে পুতে ফেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামালের নির্দেশে মাইকিং করে ভালুকা বাজারে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ধরনের পশু জবাই বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে বাচ্চাসহ গাভী জবাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নির্দেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য উপজেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র পৌর শহরে পশু জবাই বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোক্তরা মাংস ক্রয় করতে গিয়ে বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। এর আগেও ভালুকা পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে পেটে বাচ্চাসহ গাভী ও রোগাক্রান্ত পশু জবাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তিমুলক ব্যবস্থা না নেয়ায় কসাইখানাগুলোতে অহরহ এ জাতীয় ঘটনা ঘটছে। ভালুকা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হেলাল আহম্মেদ বলেন, নিয়ম মেনে পশু জবাইয়ের ব্যাপারে কসাইদের একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা নির্দেশ মানছে না। পৌরসদরের কসাইদের লাইসেন্স দেয় পৌরকর্তৃপক্ষ। আর বাইরের এলাকার কসাইদের লাইসেন্স দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। এ বিষয়ে ভালুকা পৌরসভার মেয়র একেএম মেজবাহ উদ্দিন জানান, পৌরসভার নীতিমালায় আছে, পশু জবাইয়ের আগে মাংস বিক্রেতাদের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। এঘটনায় ওই কসাইয়ের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

এদিকে এর আগেও বাজারের কসাই খানায় গত বছরের ২৫ আগষ্ট মাংস বিক্রেতা সবুজ মিয়া ও কালাম বাচ্চাসহ একটি গাভী জবাই করেন। বিষয়টি জানার পর ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ওই মাংস ব্যবসায়ীদের সহযোগী লিটন ও মাহবুব নামে দুই কসাইকে আটক করেন।পরে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করে ওই দুই কসাইকে ছেড়ে দেয়া হয়। ৪ দিন দোকান বন্ধ থাকার ওই ব্যবসায়ীরা আবার গরুর মাংস বিক্রি শুরু করেন। এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল বলেন, দায়ী কসাইদের বিরুদ্ধে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্ত বাদী হয়ে মামলা করবেন।


Leave a Reply