বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক বহিষ্কারে আর্টিকেল নাইনটিনের তীব্র নিন্দা - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক বহিষ্কারে আর্টিকেল নাইনটিনের তীব্র নিন্দা
ফেসবুক পোস্টের জন্য

বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক বহিষ্কারে আর্টিকেল নাইনটিনের তীব্র নিন্দা

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    5
    Shares

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের জের ধরে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একটি জাতীয় দৈনিকের ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মত প্রকাশের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন। শিক্ষার্থীদের ক্ষমার আবেদন ও শিক্ষকদের দুঃখপ্রকাশের কথিত আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের যে নোটিশ গত ১৮ সেপ্টেম্বর দিয়েছে সেটি যথেষ্ট নয় বলে আর্টিকেল নাইনটিন মনে করে।

জিনিয়ার বহিষ্কারের আদেশ নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে জিনিয়ার পদ ফিরিয়ে দেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করা এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অপর একটি জাতীয় দৈনিকের ক্যাম্পাস প্রতিবেদক শামস জেবিনের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে মত প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘনের এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য আর্টিকেল নাইনটিন সরকার ও দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়র প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কেবল স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং দেশের সংবিধান প্রদত্ত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অন্য সাংবাদিক এবং সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বত:স্ফূর্ত মত প্রকাশের অধিকার চর্চা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকা-ের বিষয়ে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনাও বন্ধ হয়ে যাবে।

জিনিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) আর্টিকলে নাইনটিনকে বলেন, ‘বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। কিন্তু এটি যথেষ্ট নয়। কারণ নোটিশে আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আমি তো অপরাধ করিনি, তাই ক্ষমা চাইতে যাবো কেন। তাছাড়া আমার পক্ষে ক্ষমা চাইতে আমি কাউকে অনুরোধও করিনি। ফোনে ও নানা মাধ্যমে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর বহিষ্কারের নোটিশ পান জিনিয়া। ওই নোটিশে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রের সাথে প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি করেছেন। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনকে নিয়ে আপনার দেয়া স্ট্যাটাস এবং কমেন্টসমূহে বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এ ব্যাপারে আপনাকে সাবধান হতে বলার পরেও আপনি সাবধান হননি। এছাড়াও উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টির হুমকি প্রদান করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে আপনাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হলো।’

নোটিশে উল্লেখিত সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করে জিনিয়া বলেন, ‘‘কীভাবে ফেসবুক আইডি হ্যাক করতে হয়, আমি তো সেটাই জানি না। তা ছাড়া উপাচার্য স্যারের ফেসবুক হ্যাক করতে যাব কেন? আমি কোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিয়ে তো প্রশ্নই ওঠে না।’’

জিনিয়া বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে নানা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। এসব সংবাদের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এসবের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট একটি সংবাদের জন্য উপাচার্যের বক্তব্য নিতে গেলে, উপাচার্য একটি ফেসবুক পোস্টের জের ধরে তাকে গালিগালাজ করেন বলে জিনিয়া অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়েছে, যেখানে উপাচার্যকে অশালীন এবং হয়রানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে জিনিয়াকে ধমক দিতে শোনা গেছে। এক লাইনের যে ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে উপাচার্যের ক্ষোভ, সেটিতে জিনিয়া লিখেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী হওয়া উচিত?’ জিনিয়া জানান, এক পর্যায়ে তার সংবাদের একজন সোর্স, যিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষার্থী, তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যেদিন ওই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, ওইদিন রাতে তার মেসেও হামলা চালানো হয় বলে জিনিয়া অভিযোগ করেন।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া আর্টিকেল নাইনটিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারেরর পর কর্তৃপক্ষ চাপ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি থেকেও তাকে বহিষ্কার করায়। তার ব্যাপারে নেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর অপর একটি জাতীয় দৈনিকের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি শামস জেবিনের ওপর সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায় বলেও জানান জিনিয়া। আহত জেবিন স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জিনিয়া বলেন, ‘‘আমার এবং আমার পরিবারের ওপর প্রচন্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি এর আগেও প্রশাসনের রোষানলে পড়েছি। এখন আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করায় এবং ক্ষমা চাইতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টির সুরাহা করতে আমার বিভাগের শিক্ষকরা গত ১৭ সেপ্টেম্বর আমার প্রতি লিখিত নির্দেশনা জারি করেছেন।’’ এমন পরিস্থিতিতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় গোপালগঞ্জ সদর থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান জিনিয়া ও জেবিন।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply