বালিয়াতলী ঘাটে ফেরি বন্ধ, নেই চালুর কোন উদ্যোগ – Nobobarta

আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

বালিয়াতলী ঘাটে ফেরি বন্ধ, নেই চালুর কোন উদ্যোগ

বালিয়াতলী ঘাটে ফেরি বন্ধ, নেই চালুর কোন উদ্যোগ

বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে আছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া-কুয়াকাটা বিকল্প সড়কের বালিয়াতলী ঘাটের ফেরিটি। দীর্ঘদিন বিকল থাকায় চুরি হয়ে গেছে এর অধিকাংশ যন্ত্রপাতি। ফেরি, পল্টুন, গ্যাংওয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে খেয়াঘাটের ইজারাদারদের ব্যবসায়িক স্বার্থে। বন্ধ হয়ে পড়েছে বিকল্প পথে কুয়াকাটার সঙ্গে যোগাযোগসহ পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের নিরাপদ যোগাযোগ। খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ ছোট যানবাহন।

বিকল্প পথে কুয়াকাটায় যাতায়াতসহ লালুয়া, মিঠাগঞ্জ, বালিয়াতলী, ডাবলুগঞ্জ ও ধুলাসার ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ লাঘবে মেকানাইসড ফেরিটি আন্ধারমানিক নদীর বালিয়াতলী পয়েন্টে স্থাপন করা হয়। এলজিইডির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২৫ এর আওতায় দেশীয় কারিগরি সহযোগিতায় তৈরি এ ফেরিটি ২০০৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের কাছে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। ১৪১৬ বঙ্গাব্দে উপজেলা পরিষদ ২৬ হাজার টাকায় এর ইজারাও প্রদান করে।

কিন্তু কিছুদিন যেতেই ফেরিটির ইঞ্জিন হয়ে পড়ে। ইঞ্জিনের একটি পাখা ভেঙে প্রায় তিন বছর পারাপার বন্ধ থাকে। কয়েকদিনের জন্য চালু হলেও ফের বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। এরপর আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় সাত বছর ফেরিটি নদীর চরে কাদায় আটকা থাকায় পল্টুন, গ্যাংওয়ে নষ্ট হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ‘ফেরির টন পাইপ ও পাখার সঙ্গে রড বেঁধে দেওয়ায় পাখা ভেঙে গেছে। চুরি হয়ে গেছে বহু যন্ত্রাংশ। স্থানীয়দের দাবি, মেরামত করে ফেরিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ না নেওয়ায় পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ সাধারণ মানুষ হচ্ছে দুর্ভোগের শিকার। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত খেয়া নৌকায় পারাপার করতে হয় মানুষকে। এ সুযোগে খেয়া ইজারাদার যানবাহন ও মানুষ পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

তৎকালীন ফেরির চালক মাসুম বিল্লাহ জানান, এ ফেরিটি যখন সচল ছিল তখন প্রতিদিন বহু গাড়ি পারাপার হতো। পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিকল্প এই সড়কে গাড়ি নিয়ে কুয়াকাটা ছাড়াও গঙ্গামতি কাউয়ারচরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট দেখার সুযোগ পেত। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিবুল আহসান দেশ রূপান্তরকে জানান, যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে সম্প্রতি ফেরির গ্যাংওয়ে ও পল্টুন মেরামত করা হয়েছে। ফেরির ওই পয়েন্টে নির্মাণাধীন সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুটি খুব শিগগিরই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ফেরিটি চালু করার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।


Leave a Reply