মুজিববর্ষে দেশের সব ঘরে আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী | Nobobarta

আজ সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

মুজিববর্ষে দেশের সব ঘরে আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী

মুজিববর্ষে দেশের সব ঘরে আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী

Rudra Amin Books

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ জ্বালিয়ে দেব। এই মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোনো ঘর অন্ধকারে থাকবে না। সবার ঘরে আলো জ্বলবে। আজ বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’; শতভাগ বিদ্যুতায়িত ৭টি জেলা; ফেনীতে ১১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১৮টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৬৪ জেলা আমাদের, যার মধ্যে ৪০টি জেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়ে গেল। ৪১০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো ইনশাল্লাহ মুজিববর্ষের মধ্যে আমরা বাংলাদেশের সব ঘরে আলো জ্বালব। প্রযুক্তি শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে এটা কখনো হতে পারে না। নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে শিক্ষিত করতে চাই যেন প্রতিযোগিতাময় এ বিশ্বের সঙ্গে তারা তালমিলিয়ে চলতে পারে। সে জন্য প্রযুক্তি শিক্ষাটা একান্তভাবে প্রয়োজন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর একটা জাতিগোষ্ঠী গড়ে তুলতে চাই। নতুন প্রজন্ম যেন আরও বেশি আগ্রহী হয় সেদিকে নজর রেখে আমার কম্পিউটার শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। রপ্তানি খাতেও ডিজিটাল ডিভাইস অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে। অনলাইনে ঘরে বসে অর্থ উপাজর্নের সুযোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে অনলাইনে আউটসোর্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। একেবারে গ্রামে বসে। সেই সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করেছি, এ সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। প্রত্যেকেই দুটি তিনটি করে সিম ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের মানুষ কথা বলতে পছন্দ করে। খুব সহজে তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মনে কথা আদান প্রদান করতে পারছে। যা এক সময় কঠিন ছিল। শেখ কামাল আইটি সেন্টার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর লোক আমাদের খুব একটা ভোট দেয় না। তারা ভোট দেয় অন্য জায়গায়। কিন্তু এ অঞ্চলের উন্নয়ন হয় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে। সেদিক লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রযুক্তি শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। সে জন্য এ সেন্টার গড়ে তুলছি। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে। অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’-এর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ট্রেনিং নেবে, ফলে দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, তারা নিজেরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, উদ্যোক্তা হতে হবে। চাকরি না করে চাকরি দেব এই চিন্তাটা থাকতে হবে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী, বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ জেলার সুবিধাভোগী মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।

গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী; প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম; সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব সুলতান আহমেদ নিজ নিজ বিভাগের উন্নয়ন তুলে ধরে তথ্যচিত্র তুলে ধরেন। উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, শতভাগ বিদ্যুতায়িত ৭টি জেলা, ১টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং ১৮টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta