আরো বিধ্বংসী রূপ নিয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত আম্পান | Nobobarta

আজ সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

আরো বিধ্বংসী রূপ নিয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত আম্পান

আরো বিধ্বংসী রূপ নিয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত আম্পান

Rudra Amin Books

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ‘বিধ্বংসী’ শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ওঠে যাচ্ছে ২৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

বঙ্গোপসাগরে কোনো ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের ওপরে ওঠে গেলে তাকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়। আর প্রাক বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া এ শতাব্দির প্রথম সুপার সাইক্লোনের জায়গা দখল করে নিল আম্পান।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এটি পশ্চিমবঙ্গের দীঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মাঝামাঝি কোনো স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা নাগাদ। ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেটের প্রধান মহেশ পালাওয়াট বলেন, এই শতাব্দীতে প্রাক-মনসুন পর্বে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটাই কিন্তু প্রথম সুপার সাইক্লোন। এর আগে ২০০৭ সালের জুনে আরব সাগরে সুপার সাইক্লোন গোনু তৈরি হয়েছিল। যেটা পরে ওমানের দিকে সরে যায়।

তিনি বলেন, আম্ফান এর মধ্যেই ঘণ্টায় দেড়শো কিলোমিটারেরও বেশি গতিবেগসম্পন্ন ঝড়ো বাতাস সঙ্গে ‘প্যাক’ করে নিয়েছে। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এটা একটা ঘূর্ণিঝড় থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, সেটাও একটা রেকর্ড। পালাওয়াট বলেন, উপকূলের কাছাকাছি এলে এই ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা সামান্য কমবে। তবে তার পরও এর বিধ্বংসী ক্ষমতাকে খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। স্থলভূমি থেকে শুকনো বাতাস এসে সিস্টেমটাকে কিছুটা দুর্বল করে দেয়; এই আম্ফানের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটবে।

‘কিন্তু তার পরও এটা একটা প্রচন্ড সাঙ্ঘাতিক ঘূর্ণিঝড়; যার তাণ্ডব আর ক্ষয়ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা মারাত্মক। ফলে পুরো উপকূলীয় এলাকা জুড়েই মানুষকে সাবধান থাকতে হবে।’ ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞানী সুনিতা দেবী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৯ মে) সারাদিন ও রাতে সুপার সাইক্লোনের (সর্বোচ্চ গতিবেগ ২৫৫ থেকে ২৬৫ কিমি) তীব্রতা থাকবে। তবে শেষরাতের দিকে উপকূলে আছড়ে পড়লে এটির তীব্রতা কিছুটা কমে অতি প্রবল (সর্বোচ্চ ২১০ থেকে ২৩০ কিমি) ঘূর্ণিঝড় হিসেবে তাণ্ডব চালাবে। এরপর আরও শক্তি ক্ষয় করে উপকূল অতিক্রম করে সমতলে ওঠে আসার সময় বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যার দিকে এটির গতি নেমে আসবে ১৭০ কিমিতে (খুব প্রবল ঘূর্ণিঝড়)। বৃহস্পতিবার (২১ মে) নাগাদ ঝড়টি শান্ত হয়ে নিন্মচাপে পরিণত হবে।

বর্তমানে ঝড়টির যে অভিমুখ রয়েছে তা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ-কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে সীমান্তের ওপারে আসাম পর্যন্ত নির্দেশ করছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে এটি তাণ্ডব না চালালেও বজ্রসহ ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর ক্ষয়ক্ষতিরও একটি সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এতে ঘরবাড়ি, রেল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ, গাছপালা, পশুপাশি এবং শস্যের ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে উড়িশার ৭শ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এলেও রাজ্যটিতে এবার তেমন ক্ষতির শঙ্কা করা হচ্ছে না। বরং পশ্চিমবঙ্গ নিয়েই ভাবছে দেশটি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার বিকেলে সুপার সাইক্লোন মোকাবিলায় উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেছেন, পশ্চিমবঙ্গেও রাজ্য সরকার উপকূলীয় এলাকার সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে বিপর্যয় মোকাবেলা দল পাঠাতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরও ইতোমধ্যে বিপদ সংকেত দিয়েছে সমুদ্রবন্দরগুলোতে। পায়রা ও মোংলা বন্দর অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি থাকায় বন্দর দুটিতে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta