বাংলাদেশ থেকে পুতিনের দেশ রাশিয়াতে - Nobobarta

আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ থেকে পুতিনের দেশ রাশিয়াতে

বাংলাদেশ থেকে পুতিনের দেশ রাশিয়াতে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

মোঃ শফিকুল ইসলাম,মস্কোর পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি থেকে।স্কুলে যাওয়ার সময় সাদা এপ্রোন পড়া মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের দেখেই মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছে করলে পরিবার এতে সম্মতি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১২০০০ মাইল দূরে লেলিন, পুতিনের দেশ রাশিয়াতে আগমন। পরিবার আর বন্ধুদের ছেড়ে আসতে সত্যি একটু বেশি কষ্ট লাগছিল। তখন ভাবিনি বরফ আর শীতের এই শহরের প্রেমে পরে যাব।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে
পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, আমার স্বপ্ন বুনার প্রথম কারখানা । এটির রাশিয়ান নাম ‘রুদেন ইউনিভার্সিটি’। বাংলায় বলা হয় গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৬০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে মস্কো নগরে গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠাকালে নাম ছিল প্যাট্রিস লুমুম্বা গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের ১৬৩ দেশের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আর বাংলাদেশের ৭৩ জন ছাত্রছাত্রী। মেডিকেল অনুষদ ছাড়াও রয়েছে
প্রকৌশল অনুষদ, ইতিহাস ও দর্শনবিজ্ঞান অনুষদ, কৃষি অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, আইন ও অর্থনীতি অনুষদ। ফরেন শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪ টি হোস্টেল আছে।
রাশিয়ানরা মিশুক আর আতিথ্য দিতে জানে তার প্রমাণ ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপ। শিক্ষার্থীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই পড়াশোনায়ও তাদের থেকে অনেক সাহায্য পাওয়া যায়।
ইউনিভার্সিটি হোস্টেলের পাশে ছোট্ট একটা বন আর বনের ভিতর লেক। লেকের অপরুপ সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। গ্রীষ্মের সময় সবুজের সমারোহ আর শীতের সময় বকের পালকের ন্যায় সাদা। এমনকি লেকের পানিও বরফ হয়ে  যায়। যা শিক্ষার্থীদের সব থেকে পছন্দের জায়গার অন্যতম। গ্রীষ্মের সময় যেনো মাইকেল মধুসুধনের সেই কপোতাক্ষ নদ। আমরা এশিয়ানরা যে ক্রিকেটপ্রেমী সেটা রাশিয়ানরাও জানে। প্রতি বছর শীতের বিদায় বেলা ,গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা শুরু হয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট দিয়ে। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান,শ্রীলংকা ,নেপাল, আফগানিস্তান অংশগ্রহন করে। এ যেন সত্যিই এশিয়ানদের মিলন মেলা।
 বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্য জানার এর থেকে ভাল পন্থা অদ্বিতীয় আছে বলে য়ামার মনে হয় না।
এছাড়াও বছরের পুরোটা সময় ধরে নিজ নিজ দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উৎসব উদযাপন করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিজয় দিবস, এবং সকল জাতীয় দিবস। সবচেয়ে বেশি মর্যাদায় পালন করা হয় “আন্তর্জাতিক নারি দিবস” এবং বিজয় দিবস। গতবছর বাংলদেশ ছাত্র সংঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশের বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। মস্কোতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের  অংশগ্রহণএ মুখরোত হয়ে উঠে। সবচেয়ে বেশি গর্বে বুকটা ভরে উঠে যখন দেখি দামিদামি জামা কাপড়ে মেড ইন বাংলাদেশ লেখা।
লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply