ফুটপাতে হাঁটা পথচারির নাগরিক অধীকার - Nobobarta

আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

ফুটপাতে হাঁটা পথচারির নাগরিক অধীকার

ফুটপাতে হাঁটা পথচারির নাগরিক অধীকার

  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    35
    Shares

সফিউল্লাহ আনসারী : জনসাধারনের চলাচলের জন্য রাস্তার দু‘ধারে রয়েছে ফুটপাত। অথচ পথচারির নাগরিক অধীকার ফুটপাতে হাঁটাও কেড়ে নিয়েছে অবৈধ দখলদার। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, নগর-মহানগরে এই ফুটপাত তৈরী হয় জনগনের নির্বিগ্নে চলাচলের জন্য। অথচ সচেতনদের ছত্রছায়ায় অসচেতন কম পুঁজির কিছু মানুষ এই ফুটপাতের হাটার জায়গায় দোকান বসিয়ে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাশাসনের নাগের ডগায় এইসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে কোন রকম তোয়াক্কা না করেই ফুটপাত বন্ধ করে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের মহানগরগুলোতে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানো যেনো একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে হকারদের দখলে থাকা ফুটপাতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা।

রাজধানীর প্রায় সব এলাকার সড়কের ফুটপাতই ভ্রাম্যমান হকারদের হাঁকডাকে সরগরম থাকে। ইচ্ছেমত যে যার মতো করে বিভিন্ন পণ্যের দোকান-পাট বসিয়ে জনগনের চলাচলে সমস্যাতো করছেই তার সাথে সৃষ্টি হচ্ছে বিশাল যানজটের। আর দখলদারদের এই দখলে স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রভাবশালীদের হাত থাকায় সহজেই কেউ কিছু বলতে পারছেনা। অনেক সময় প্রশাসনের কতিপয় ব্যাক্তির আইন প্রয়োগে অনীহা ও অব্যাবস্থাপনার কারনে স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞ মহলের ধারনা। তীব্র যানজটের শহর ঢাকায় যানজট থেকে রেহাই পেতে অফিসগামী চাকুরে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেও এই ফুটপাত বন্ধ করে রাখায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বেদখল হওয়া পথে পথচারীরা ফুটপাত সহজভাবে ব্যবহার করতে না পেরে অস্বস্তিতে পড়ছেন প্রায়শই।

গরীব কম পুঁজির মানুষগুলো প্রতি আমাদের সহানুভুতি তখনই উবে যায় যখন দেখা যায় ফুটপাতের জন্য দৈনিক, মাসিক হারে ভাড়া দিয়ে তারা দোকান চালাচ্ছে। কোন কোন এলাকায় ফুটপাতের ঐ জায়গার জন্য লাখ টাকা জামানতও গুনতে হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকারী জায়গা, রাস্তার ফুটপাত কে বাড়া দেয়? দেশে কি আইন বলতে কিছু নেই? কিন্তু আমরাতো জানি সড়ক ব্যাবস্থপনায়, নগর-মহানগর পরিচালনায় আইন রয়েছে। তবে প্রয়োগ হচ্ছে না কেনো? সাধারন মানুষের এমন প্রশ্ন শোনারও কেউ নেই, আবার বললেও কাজ হচ্ছে না। কারন এসব দখলে পেছনে রয়েছে লম্বা হাতের মানুষ। স্বার্থন্বেসী মহল। তাদের কে ঠেকাবে? ফুটপাতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় স্থবির হচ্ছে চলাচল, যানজটে নাকাল হচ্ছে নগরবাসী আর এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির ওপর। চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের ব্যাক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা ও জাতীয় অর্থনীতি।

বেদখল সড়ক-ফুটপাতে পথ চলতে পথচারির যন্ত্রনাময়-নাভিশ্বাস যেনো নিত্যসঙ্গী। যে যার ইচ্ছামতো ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যাবহার করছে, কেউ আবার অনেক এলাকায় নির্মাণ সামগ্রী মাসের পর মাস ফেলে রেখে সমস্যার সৃষ্টি করছে। ইট ভাঙ্গার মেশিন, রড ট্রাক, বাস, প্রাইভেট গাড়ীসহ বিভিন্ন যানবাহনও এই সড়ক-মহাসড়কের একটা অংশ বন্ধ করে ফেলে রাখা হয়। শহরে যানজটের একটা বড় কারন এই যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং আর ফুটপাত দখল করে স্থায়ী- অস্থায়ী দোকান নির্মান। বিভিন্ন সময় সিটি কর্পোরেশন রাস্তা ও ফুটপাতের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত করে থাকে। কয়েকদিন পর আবার যেইসেই অবস্থা। আমাদের বিবেকবোধ জাগ্রত না হলে মনে হচ্ছে এর থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না। বর্তমানে ওভারব্রীজগুলোর অবস্থা আরও সুচনীয়। এমনিতেই নিদিষ্ট জায়গা, তার উপর দুই পাশে বসে থাকে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। সাথে ভিক্ষুকদের শুয়ে-বসে ভিক্ষা করার দৃশ্য। যতো যন্ত্রনা পথচারিদের। ফুটপাত বেদখল থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হতাহত হচ্ছে সাধারন মানুষ।

নগর-মহানগর জুড়ে ভ্রাম্যমাণ দোকান আর ফুটপাতে হকারদের পণ্যের পসরাতো আছেই এর সাথে নতুন করে আরেক যন্ত্রনা স¤প্রতি শুরু হয়েছে তার নাম ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। সময় বাাঁচাতে অনেকেই এখন মোটর সাইকেলে চলাচল করছেন। মোটর সাইকেলের আরেক সমস্যা হচ্ছে জ্যাম এড়াতে ফুটপাতের ওপর দিয়ে বেপরোয়া ছুটে চলা। এতে আরও বেশী আতংকিত পথচারি। যেকোন সময় দুর্ঘটনার আশংকাতো থাকছেই। গবেষকদের মতে, ‘প্রায় পৌনে দুই কোটি জনসংখ্যার ঢাকা মহানগরে সড়ক ব্যবহারকারী মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশই পথচারী। সমস্যা বাড়ছে পথচারীদের চলাচলের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সড়ক অবকাঠামোর বিন্যাস না করা।” সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক ফুটপাত ব্যাবস্থাপনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং অবৈধ দখলদারদের খুঁটির জোড় খুঁজে বের করে আইনের প্রয়োগ দরকার। সাথে সাথে হকারদের জন্য আরও নতুন জায়গা করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করা।

জনসচেতনতা বাড়াতে সিটি কর্রোপোরেশকে আরও নতুন পন্থা গ্রহন করে নিয়মিত ফুটপাত থেকে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করাও সময়ের দাবি। পুলিশ প্রশাসন এ ক্ষেত্রে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করলে বেশী কাজে আসতে পারে। অনিয়ম-দুর্নীতি মুক্ত সড়ক ব্যাবস্থাপনা ও হকারদের আলাদা জায়গায় স্থানান্তর পথচারিদের কিছুটা স্বস্থি দিতে পারে। শহরগুলোতে সড়ক অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনা দুর করে যানজট কমানোর সাথেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীর বিড়ম্বনা লাঘবে সিটি কর্পোরেশন বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারে। এবং তাদেরকেই সুন্দর ও আদর্শ মহানগর উপহার দিতে হবে। ফুটপাত যেহেতু পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্যেই তাহলে শুধু তা পথচারীরাই ব্যবহার করবে, আর এটা তাদের নাগরিক অধীকার- এই মানুষিকতা গড়ে তোলাও জরুরী। জনগনের দাবি দখলমুক্ত ফুটপাত, যানজটমুক্ত শহর, পরিচ্ছন নগরী।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply