প্রতিবাদই কাল হলো আমার বোনের : রাফির ভাই - Nobobarta

আজ সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

প্রতিবাদই কাল হলো আমার বোনের : রাফির ভাই

প্রতিবাদই কাল হলো আমার বোনের : রাফির ভাই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

টানা পাঁচদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) হার মেনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন নুসরাত জাহান রাফি। ফেনীর সোনাগাজীর এই মাদরাসা ছাত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, নুসরাতকে হত্যার বিচার দাবিতে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন লাখো জনতা। এ ঘটনার জন্য দায়ী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ওই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন তারা।

নুসরাতকে হত্যার প্রতিবাদে যে ভাষা উচ্চারিত হচ্ছে চারদিকে; এ ভাষা ছিল নুসরাতেরই। সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যথসম্ভব প্রতিবাদ করতেন এই ছাত্রী। নুসরাতের মৃত্যুর দিন বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউয়ের সামনে কথা হয় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নুসরাতের লেখালেখির অভ্যেস ছিল। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করার সৎ সাহস ছিল। আর সেই প্রতিবাদের ভাষাই নুসরাতের কাল হলো।

নুসরাতের মামা সৈয়দ সেলিম বলেন, নুসরাত বড় হয়ে বাবার মতো শিক্ষক হতে চেয়েছিল। তার এই স্বপ্নকে যারা কেরোসিন ঢেলে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা ক্ষমা পাবেন না। পাওয়ার যোগ্যও না।গত ২৭ মার্চ সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা পিয়নকে দিয়ে নিজের কক্ষে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে কু-প্রস্তাব দেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদী নুসরাত ওইদিনই মায়ের সঙ্গে সোনাগাজী থানায় গিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে আটক করে নিয়ে যায়।

ওই দিনের পর থেকেই মামলা তুলে নিতে অধ্যক্ষের লোকজন হুমকি দিয়ে আসছিল নুসরাত ও তার পরিবারকে। কিন্তু কোন কিছুতেই দমে যাননি তিনি। নিজের প্রতিবাদী মনোভাব অক্ষুন্ন রেখেই মাদরাসায় গিয়েছেন নুসরাত। সহপাঠীদের অনেকে নুসরাতকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিতে বললে নুসরাত তাদের উদ্দেশ্য করে একটি চিঠিও লেখেন। দুই বান্ধবী তামান্না ও সাথীকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে নুসরাত গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করেন। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলাহ গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply