পৃথিবীর কোন দেশেই সংখ্যালঘুরা ভালো নেই – Nobobarta

আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
উদয় সমাজ কল্যান সংস্থার ১২ তম ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন ১০ ডিসেম্বর উপাচার্যের দুর্নীতির ক্ষতিয়ান প্রকাশ করবে আন্দোলনকারীরা মার্শাল আর্ট ‘বিচ্ছু’ নিয়ে আসছেন সাঞ্জু জন আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন আটোয়ারীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত জবি রোভার দলের হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণের উদ্বোধন মারুফ-তানহার ‘দখল’ লক্ষ্মীপুরে রামগতি পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগ
পৃথিবীর কোন দেশেই সংখ্যালঘুরা ভালো নেই

পৃথিবীর কোন দেশেই সংখ্যালঘুরা ভালো নেই

পৃথিবীর কোন দেশেই সংখ্যালঘুরা ভালো নেই। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকাসহ অনেক দেশের আদিবাসীদের কথা ভাবুন। যেই দেশটি একসময় কেবলই তাদের ছিল সেই দেশেই ইমিগ্রান্টসরা এসে সংখ্যা বিচারে বেশি হয়ে এক সময় ইমিগ্রান্টসরাই দেশের মালিক বনে যায় আর মূল আদিবাসীরা বাঁচে ইমিগ্রান্টসদের কৃপায়। ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংঘ্যার ২১-১৩%! সেটি ১৯৭১ সালে এসে দাঁড়ায় ১৩-১৪% আর বর্তমানে সেটি ৯%-এর কম। সংখ্যা ম্যাটার্স। এই সংখ্যাই মানুষের আচরণ নির্ধারনে প্রভাব ফেলে। ধরুন একই সময়ে দুটো শিশু দুটো ভিন্ন পরিবারে জন্মালো একজন মুসলিম পরিবারে আর অন্যজন হিন্দু পরিবারে। এটি যদি বাংলাদেশে হয় তাহলে শিশু দুটি বেড়ে উঠবে একভাবে। ঠিক তার বিপরীত ভাবে বেড়ে উঠবে যদি এটি হয় ভারতে। আর এটি যদি ইউরোপ আমেরিকায় হয় তাহলে আবার দুটি শিশুই প্রায় একই ইনিশিয়াল কন্ডিশন নিয়ে বেড়ে উঠবে। এই ইনিশিয়াল কন্ডিশনের প্রভাব বড় মারাত্মক।

গত দুইদিন যাবৎ প্রিয়া সাহাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অনেকভাবে বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করছেন। মোটা দাগে এইসব প্রতিক্রিয়াকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানরা একভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আর হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষরা আরেকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এই দুই প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ একই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছে দুই ভিন্ন ধর্মের কমিউনিটির মানুষ। তার মানে দাঁড়ালো আমাদের চিন্তা ও বিচারবোধ জন্ম থেকে পাওয়া আমাদের ধর্ম দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত। আসলে এখানকার মুসলমানরা কখনোই বুঝবে না সংখ্যালঘু হয়ে জীবন যাপন কেমন? কেন হিন্দুরা তাদের আপন মাতৃভূমি ছেড়ে সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গে যেতে শুরু করেছেন। যারা তখন গিয়েছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন বাংলাদেশে বিত্তশালী, শিক্ষিত এবং প্রভাশালী। তখন নিরাপত্তাহীনতা ও নির্যাতনের ভয়ের চেয়েও বড় কারণ ছিল তারা চাইতেন তাদের সন্তানরা যেন অন্তত সংখ্যালঘুর মনস্তত্ত্ব নিয়ে না জন্মায়।

আমরা মুসলমানরা যতই বলি হিন্দুরা এই দেশে ভালো আছে কোন লাভ নেই। আমাদেরকে তাদের জুতা পরে হেটে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। আপন দেশ ভিটামাটি ছেড়ে শখ করে কেউ চলে যায় না। এই মায়া বড় মায়া। সমস্যা হলো এই দেশের সরকারে যারাই এসেছে তারা কখনোই কোন গবেষণা করে দেখে না

প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


Leave a Reply