পাপনের চেয়ার দুলছে : কামরুল হাসান নাসিম – Nobobarta

আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

পাপনের চেয়ার দুলছে : কামরুল হাসান নাসিম

পাপনের চেয়ার দুলছে : কামরুল হাসান নাসিম

চলো, আকাশকে বুঝি। কখনই তো দেখতে চাইলে না ! তুমি মনে করো যে, মাথার উপরে শ্বাশত প্রথাগত প্রকৃতি সমাচারের উপলক্ষ ঘিরে অন্তরীক্ষের উপস্থিতি। মাঝে মাঝে দেখছো—- যখন যন্ত্রের রঙ ধুয়ে ফিরে আসো শুভ্র আত্মায়! আচ্ছা, ধরে নিলাম, সমাজ নামক শয়তানের আলয় ঘিরে জীবন পরিক্রমা সাজাতে বাধ্য হয়েছ বলেই সময় নেই তোমার। অনন্ত আকাশের ঠিকানায় ভেসে যাবে তা বলছিও না। কিন্তু আকাশের রঙ বদলানোর মতোই এই তোমার আমার জীবন, আকাশের দীর্ঘময় ব্যপ্তির মতো তোমার পথচলায় মসৃণতা, বন্ধুর এবং গতিরোধকের আগমন। সব কিছুর নেপথ্যেই আকাশের ওই মেঘ, রোদ্দুর এর খেলার মতো। তাইতো রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের উপর প্রকৃতির প্রভাব বিস্তারের সাথেই রয়েছে সভ্য ও অসভ্য মনুষ্য প্রাণগুলোর দৌড় ! মাস্টারমাইন্ড ! বিষয়ভিত্তিক একটি রচনার মাধ্যমে চলো সাধারণ পর্যায়ের একটা গদ্য পড়ে নিই।

নাজমুল আহসান পাপন খুব সম্ভবত বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। সব্বাই যখন এমন শংকা সাকিব আল হাসানকে নিয়ে করছেন, আমি তখন বলছি, না, বিপদ জনাব পাপনেরই দেখছি। সব কিছুর মাঝেই স্বার্থ আর অর্থের দাবানল— তাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ছে আশপাশের মানুষগুলো। আগুন লাগার স্পষ্ট কারণ সম্যক সাধারণদের আর জানার সুযোগ থাকছে না। নেপথ্যে তোমার আমার মতোই মানুষের চাতুরতায় ঘটে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত ঘটনা প্রবাহ। মানুষ সৃষ্ট চিত্রনাট্যের কুদরতে সারাবিশ্বের রাজনীতি, মানচিত্র ভিত্তিক রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক জনপ্রিয়তার আলোকে সাংস্কৃতিক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হয়েও ক্রীড়াঙ্গনে চলছে স্ক্রিপ্ট নির্ভর খেলার আয়োজন। কারা জিতবে, কারা হারবে, কার জনপ্রিয়তা বাড়বে, কমবে, নিজ দেশকে বড় করে রাখা যাচ্ছে কিনা— ইত্যাদি ইত্যাদি। যৌক্তিক কারণেই তাই ডব্লিউ ডব্লিউ ই ম্যানেজমেন্ট যেমন, ফিফাও তেমন, অতি অবশ্যই আইসিসিও তেমন। আজকের আলোচ্য বিষয় যেহেতু ক্রিকেট ঘিরে, তাই এক কথায় বলে নেয়া ভাল, আইসিসি সেদিন হতেই ‘দুষ্টু’ হয়ে পড়ে যেদিন থেকে ‘শারজাহ’ নামক ভেন্যুতে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করবার নিমিত্তে আইসিসি দুবাই ভিত্তিক ডন ডাউদ ইব্রাহিম এর ইচ্ছেমত চলে আপস করতে উদ্যুত ছিল। গ্যালারিতে আঞ্জু মাহেন্দ্রু, অমৃতা সিং দের রেখে ক্রিকেট’ সেদিন হতে আজ অব্দি ফলত স্ক্রিপ্ট নির্ভর বিনোদন, খেলা হতে পারেনি। হ্যাঁ, খেলা হতে পেরেছে ওই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ নামের দর্শকদের কাছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’, ক্রীড়া মন্ত্রানলয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কারণেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক সময়ে দেশিয় ‘ফুটবল’ এর সংবাদকে খর্ব করে উপস্থাপন করবার প্রয়াসে গিয়েছিল। ‘ক্রিকেট’ বন্দনায় থেকে কার্যত সাচীন টেনডুল্কারকে ঈশ্বর বানানোর অপচেষ্টায় ছিল, ছিল ক্রিকেটিয় নেশন হিসাবে ভারতকে একদিন ১ নম্বর দেশ হিসাবে পরিচিত করানোর মন্দ অভিযাত্রা। ফল এতে একটা হয়েছে। বাংলাদেশে ক্রিকেট গেল ২০ বছরে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে যে, আমরা শুধু দারুণ ভাল দর্শক নই, হালে বিশ্বের মধ্যে আমরাও খুবই শক্তিশালী একটা ক্রিকেট দল হয়ে পড়েছি। এখানে সাকিব- তামিমেরা এমন পর্যায়ের খেলোয়াড় যে, বাংলাদেশ যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এতে করে আকাশী শিবিরের তাঁবুর উপর লাল সবুজের অবিরাম দীর্ঘশ্বাস ভাবিয়ে তুলেছে। তাঁরা এখন বলছে, ক্রিকেটে যা অর্জন হবার হয়ে গেছে। আমরা তো ১২০ কোটি জনসংখ্যার দেশে ‘ক্রিকেট’ নিয়ে মিশনে থেকে কেবল এই খেলাটাতেই শ্রেষ্ঠত্ব চেয়েছিলাম, তা এখন অর্জিত—– কাজেই চলো যে খেলাটা বিশ্বময় জনপ্রিয়, ওই ফুটবলেই প্রতিষ্ঠা নেয়ার চেষ্টা করি। কত কি সব আই লীগ, অমুক লীগ, তমুক লীগ ! কিন্তু জামাল ভুঁইয়াদের গোবরের মধ্যে ‘লোটাস জামাল’ হয়ে পড়াটাকে কী তাঁরা ভাল ভাবে দেখতে পারছে ? কখন আবার মাসিক চুক্তিতে যেয়ে বাংলাদেশের সম্পাদকদের কাছে পুনরায় তাঁদের আসতে হয় ! উপমহাদেশীয় তথা সারা বিশ্বের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত। আর এমন ভারতের জন্য তাঁদের দরকার পাপনের মত এতিমকে— যে এতিমকে দারুণ এক নেতা শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ঋণ শোধের পরিণত ও যোগ্য সিদ্ধান্তে গিয়েছিলেন। কিন্তু জনাব পাপন তাঁর বাবা কিংবা মায়ের মত কি হতে পেরেছেন? যোগ্য উত্তরসূরী হতে পেরেছেন? বিসিবি প্রধান হিসাবে তো কম সময় পার করেন নি তিনি। কিন্তু একজন সাবের হোসেন চৌধুরী পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ধারণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। খুব সম্ভবত ক্রিকেট জাতে উঠবার পর হতে সাবের হোসেন, আলী আজগর লবীর মতো তিনি হতে পারেন নি। খুবই অজনপ্রিয় সংগঠক হিসাবে তিনি এত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন— বহাল রয়েছেন।

তোমার( জনাব পাপন) ব্যক্তিসত্তা এমন কোনো অনুকরনীয় ইমেজে দর্পণের দুই পাশে বিধৃত নয় যে, তোমার রাগ, জিদ, ক্ষোভ, অভিমানকে আমলে নিয়ে বিশ্বখ্যাত সাকিবকে বলি দিতে হবে। তুমি কত বড় সৎ সত্তা হয়ে পড়েছো যে ‘ক্যাসিনো লোকমান’ এর পক্ষ নিয়ে বিবৃতি দাও ? এদিকে একজন ‘পাপন’কে( বিসিবি প্রধানের চেয়ার) সৃষ্টি করা যাবে ন্যানো সেকেন্ডে— কিন্তু একজন সাকিবকে পেতে দুই যুগ অপেক্ষা করতে হতে পারে বাংলাদেশকে। আমরা জানি যে, ক্রিকেটে কি হচ্ছে ! আগেই বলেছি এটি আর খেলা নেই। বড় ম্যাচ মানেই ফিক্সিং। আর তুমি নিজেও সব কিছুই জানো, আমরাও জানি। কথিত আছে, তুমি নিজেও বহু অপকর্মের মহাখলনায়ক ! অযুতবার একটি বিশেষ দেশের কাছে বারংবার হেরে যাওয়া—- তোমার দিকেই সন্দেহের তীর বিদ্ধ হয়েছে। ক্রিকেট খুব বেশী পবিত্রতায় নেই যে, আইন দেখতে হবে। মোড়লদের কাছে সব কিছু। মাস্টারমাইন্ড আছে, জানি, বুঝি। টাকাওয়ালাদেরকে জিতিয়ে এই তোমরাই দেশের সেরা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে শাস্তি দিয়েছো। তাঁকে ফিরতে দাওনি আর। আশরাফুলকে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে কেন জাতীয় দলে আসতে হবে?

এই প্রসঙ্গেই একটা উদাহরণ দেয়া যাক। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ডমেস্টিক লিগে শিব নারায়ন চনদরপল ছিলেন সেরা কিন্তু সমসাময়িক ব্রায়ান লারা সেরাটা তুলে রাখতেন আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য। অথচ তিনি ঘরোয়া লীগে তেমন কিছু করতে পারতেন না। পাপনদের বুঝতে হবে, আশরাফুলেরা জন্মগত প্রতিভা, প্রতিপক্ষ যত বড়, হাত খুলবে তত ! এমন গবেষণা কখনো করতে পেরেছো ?

প্রাসঙ্গিক কথামালায় ফিরে আসি। বিনোদন নির্ভর ছলচাতুরীর ক্রিকেট ঘিরে বাংলাদেশের জনশ্রেণির মধ্যে উচ্ছ্বাস আছে, আছে প্রবল ঐক্য— এই একটা জায়গায় বাংলাদেশের সবাই এককাট্টা। তীব্র আবেগের যে জল , সে জলে এতটাই জোয়ার, কোনকিছুতেই বাঁধ মানে না ! তোমাকে কে এই ক্ষমতা দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে খেলা করবার ? ক্রিকেট চুরির খেলা — ডাকাতদের সাথে তোমার একান্ত সম্পর্ক রয়েছে। নিয়ন্ত্রণে আনো সব কিছু। ওই ডাকাতগুলো ঠিক, সব ঠিক। যা তোমরা অতীতে করে এসেছো , সেভাবেই চলুক সব কিছু। আমরা কখনো হেরে যাবো ডাকাত-চোর আর তোমাদের জন্য। আবার জিতেও যাবো। সাধারণ মানুষ খুশী থাক। যেভাবে ১৯৯৯ সালের ২০ মে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তান বধে সাবের হোসেন চৌধুরী ভুমিকা রেখেছিল— তাঁর মত করে ভাবো। এই সাকিব কম অর্থ উপার্জন করেননি—- আমেরিকায় যেয়ে সেকেন্ড হোমে বসবাস করার ঘোষণায় চলে যেতে পারে আসন্ন এক বিকেলে। তাঁর তো দেশকে আরো কিছু দেয়ার আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট যেন পিছিয়ে না পড়ে পাপন সাহেব। তুমি ব্যর্থ হলেই তোমার চেয়ারটা থাকছে না, তা আমি নিশ্চিত।


Leave a Reply