পদত্যাগ না করলে লাল কার্ড প্রদর্শনীসহ আগামী দু’দিন সর্বাত্মক ধর্মঘট – Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

পদত্যাগ না করলে লাল কার্ড প্রদর্শনীসহ আগামী দু’দিন সর্বাত্মক ধর্মঘট

পদত্যাগ না করলে লাল কার্ড প্রদর্শনীসহ আগামী দু’দিন সর্বাত্মক ধর্মঘট

জোবায়ের কামাল, জাবি সংবাদদাতা : উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আজকের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আয়োজিত ‘উপাচার্যকে কালো পতাকা প্রদর্শন’ কর্মসূচীতে এ ঘোষণা দেন তারা। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১ পর্যন্ত শহীদ মিনারের পাদদেশে গণসঙ্গীতের আয়োজন করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচীতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের আল্টিমেটাম শেষ হতে চলেছে। কিন্তু উপাচার্য এখনো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেননি। আমরা উপাচার্যকে জানাতে চাই, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নের খেতাব নিয়ে এসেছেন তা আমাদের জন্য লজ্জার। আপনি আমাদেরকে এই লজ্জা থেকে মুক্তি দিন। আর মাত্র একদিন সময় আছে। তা না হলে আগামীকাল আপনাকে লাল কার্ড দেখানো হবে।

কর্মসূচিতে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপরিকল্পনার অভিযোগ এনে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ফলে চাপের মুখে গত ১২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে দুটি দাবি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিটি অমীমাংসিত রেখেই শেষ হয় সেদিনের আলোচনা সভা। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বরে আবারও আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আলোচনাসভা ফলপ্রসূ না হওয়ায় উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের দাবি জানান তারা।


Leave a Reply