আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
পণ্য রফতানিতে রেকর্ড আয়

পণ্য রফতানিতে রেকর্ড আয়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

২০১৮-১৯ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) পণ্য রফতানি করে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। রফতানির এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। সোমবার (৮ জুলাই) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর মূল কারণ দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতেরও আয় ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। ফলে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ পণ্য রফতানি করে আয় করেছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ খাতে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের জুনে রফতানি আয় হয়েছে ২৭৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জুনে রফতানি আয় কমেছে ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া একক মাস হিসেবে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত বছরের জুনে এ আয় হয়েছিল ২৯৩ কোটি ডলার। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের মোট রফতানি আয়ে পোশাকের অবদান ছিল ৮৪ শতাংশের বেশি। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৯ শতাংশেরও বেশি হবে।

গত অর্থবছরের বড় খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৯০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আলোচিত সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় এসেছে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ ছাড়া আগের অর্থবছরের তুলনায় রফতানিতে এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৬১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের বড় খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৯০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এদিকে আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। অর্থবছর শেষে পাট ও পাটজাত খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ৮১ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে ১০১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ কমেছে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply