দুমকিতে একদিকে চলে মৎস্য বিভাগের অভিযান অন্যদিকে ইলিশ শিকার - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আটোয়ারীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলায় ২ আসামীকে আদালতে হাজির, জামিন না মঞ্জুর হামদর্দ এমডির বিরুদ্ধে যুদ্ধোপরাধের অভিযোগ তোলায় বিস্মিত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আটোয়ারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তি সহ দুটি গরুর মৃত্যু দ্রুত জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি আবির্ভাব: এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে মাদার তেরেসার মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নেতাদের অভিষেক সম্পূর্ন বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ইউপি সম্মাননা পুরস্কার পেলেন দন্ডপাল ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাইফুদ্দীন আহ্মদ কে কেউ মনে রাখেনি!
দুমকিতে একদিকে চলে মৎস্য বিভাগের অভিযান অন্যদিকে ইলিশ শিকার

দুমকিতে একদিকে চলে মৎস্য বিভাগের অভিযান অন্যদিকে ইলিশ শিকার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

জসিম উদ্দিন, দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দেদারছে শিকার করা হচ্ছে মা-ইলিশ। একদিকে চলছে মৎস্য বিভাগের অভিযান ঠিক তাঁর উল্টো দিকে জেলেরা নির্বিঘেœ শিকার করছে মা-ইলিশ। ধীর গতির অভিযান ট্রলারে নাগাল পাচ্ছে জেলেদের। মান বাঁচাতে ঘাটের পরিত্যক্ত নৌকা-জাল জব্দ করার প্রতিযোগিতা করছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ৮দিনের এমন ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৪০হাজার মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং ৪০কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং জব্দকৃত ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য জানায়, উপজেলার পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশের অভয়ারণ্য খ্যাত রাজগঞ্জ-চান্দখালী, আলগির হাজিরহাট, লেবুখালী, পশ্চিম আংগারিয়া, বাহেরচর, কদমতলা, পাংসিঘাট, সন্তোষদি, চরগরবদি ও কলাগাছিয়ার জেলে পল্লীগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বইছে। নৌকা-জাল ঠিকঠাক করে দিনে-রাতে সমান তালে চলছে ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। চোখ-কান সবার খাড়া। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা যেন তাদের কাছে থোরাই কেয়ার। মানছে না কেউ- মোবাইল ফোনের সংকেতে ভিন্ন ভিন্ন যায়গায় লুকানো নৌকা-জাল নিয়ে দ্রæত নদীতে নেমে পড়ছে। অভিযানের ট্রলার দেখা মাত্র নদীর তীরে ওঠে সাধারন পথচারী হয়ে যায়। এভাবেই চলছে নিষেধাজ্ঞাকালীণ ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। সূত্রটি জানায়, নিষিদ্ধকালীণ সময়ে জেলেদের আহরিত শ’ শ মন ইলিশ প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্দিষ্ট পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।

পাইকারদের নিকট স্বজনের বাড়িতে বাড়িতে ককশেডে বরফজাত করে মওজুদও করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময় কেটে গেলে তা খোলা বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যেই মওজুদ করছে। অভিযান প্রশ্নে সূত্রটি জানায়, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের প্রতিটি অভিযানের আগাম খবর নিশ্চিত হয়েই জেলেরা নৌকা জাল নিয়ে নদীতে যায়। অভিযানের ট্রলারের গতিবিধি লক্ষ্য রেখেই জেলেরা জাল ফেলে এবং সময় মতো তুলে নেয়। ট্রলার যে দিকে যায় তার বিপরীত দিকের জেলেরা তখন নদীতে নিশ্চিন্তে জাল ফেলে। মাত্র ১ থেকে দেড় ঘন্টা সময়ের মধ্যেই জালে মাছে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য বিভাগের দু’একজন অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সখ্যতা ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট জেলের মোবাইল ফোনে আগাম মেসেজ দিয়ে পেয়ে যায়। আর এ কারনেই বিশেষ অভিযানে ওইসব জেলেরা ধরা পড়ছে না। বাধ্য হয়ে অভিযানে নামা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা মান বাঁচাতে জেলেদের ঘাটে বাঁধা পরিত্যক্ত নৌকা এবং ডাঙ্গার জাল টেনে হেচড়ে নিয়ে জব্দ করেন। উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ৭ অক্টোবর রাত থেকে টানা সাত দিনের বিশেষ অভিযানে ২৪হাজার ৬মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং ৪টি জেলে নৌকা আটক করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পায়রা তীরবর্তি লেবুখালী ফেরী ঘাটের বাসিন্দা আবদুল রশিদ প্যাদা, মনির হোসেন হাওলাদার, সহিদুলসহ অনেকেই ক্ষোভের সাথে জানান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের নেতৃত্বে মৎস্য বিভাগের অভিযান টিম লেবুখালী ঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে আলগি-রাজগঞ্জ অভিমুখে রওয়ানা দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই ওইসব এলাকার জেলেদের মোবাইলে মেসেজ পৌছে যায়। অপরদিকে বিপরীত দিকে কোন অভিযান নেই সে মেসেজও একই লোক মারফত পৌছে যায়। ফলে অভিযানে নামা ট্রলারের সামনের জেলেরা সটকে পড়ে আর পেছনের জেলেরা নিশ্চিন্তে রাতভর মা-ইলিশ শিকারের উৎসবে মেতে ওঠে। দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান এ প্রসঙ্গে বলেন, নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, গত ৮দিনের অভিযানে ৪০হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১টি ট্রলার ও ২টি নৌকা আটক করা হয়েছে। পায়রা নদীতে অভিযান সত্তে¡ও জেলেরা প্রকাশ্যে ইলিশ শিকারের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন জনবল সংকট ও দ্রæত গতির যানবাহনের অভাব থাকায় সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন দুর্বল ক্ষমতার নৌকা বা ট্রলার দিয়ে একার পক্ষে জেলেদের আটকানো অসম্ভব। ট্রলার নিয়ে নদীতে অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, মাত্র ১টি টিমের পক্ষে ২০/৩০কি.মিটার নদী একই সময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই দু:সাধ্য ব্যাপার। যে দিকে অভিযান চলে, বিপরীত দিকে ফাঁকা থেকে যায়। তবে অভিযানে ৪টি নৌকা ২৪/২৫হাজার মিটার জাল জব্দ করার পর অনেকাংশেই জেলেদের জাল ফেলার প্রবণতা কমেছে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply