তসলিমা নাসরিনের ৫৭তম জন্মদিন আজ - Nobobarta

আজ রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না : খন্দকার লুৎফর জাবি উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে কালো পতাকা প্রদর্শন আন্দোলনকারীদের মোহামেডানসহ ৪ ক্লাবে জুয়ার বর্ণাঢ্য আয়োজন জবিতে শুরু হচ্ছে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন আবৃত্তিকার কামরুল হাসান মঞ্জু’র মৃত্যুতে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির শোক দুর্নীতি দমনে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী : জিএম কাদের বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করবেন নার্গিস ফাখরি পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে হাইকোর্টে মিন্নি
তসলিমা নাসরিনের ৫৭তম জন্মদিন আজ

তসলিমা নাসরিনের ৫৭তম জন্মদিন আজ

আলোচিত ও নির্বাসিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    4
    Shares

আজ ২৫ আগষ্ট। ১৯৬২ সালের আজকের এই দিনে ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন বহুল আলোচিত ও নির্বাসিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আজ তার ৫৭তম জন্মদিন। নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ৫৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৬২ সালের ২৫ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এ গুণী সাহিত্যিক।

বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করে তসলিমা এই শতকের শেষের দিকে নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি তাঁর রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী উগ্র মতবাদ প্রচার করায় ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের রোষানলে পড়েন।

এর ফলে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন তসলিমা। কিছুকাল যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে বর্তমানে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ভারতে অজ্ঞাতবাসে অবস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তসলিমা সাহিত্য জীবন শুরু করেন ১৩ বছর বয়স থেকে কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। কলেজে পড়ার সময় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেঁজুতি নামক একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। ১৯৭৫ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তসলিমার কবিতা প্রকাশিত হয়।

১৯৮৬ সালে শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা নামক তসলিমার প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে ‘নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে’ ও ১৯৯০ সালে ‘আমার কিছু যায় আসে না’ কাব্যগ্রন্থগুলি প্রকাশিত হয়। এই সময় তসলিমা ঢাকা হতে প্রকাশিত নাঈমুল ইসলাম খান দ্বারা সম্পাদিত খবরের কাগজ নামক রাজনৈতিক সাপ্তাহিকীতে নারী অধিকার বিষয়ে লেখা শুরু করেন।

১৯৯৩ সালের মধ্যে অতলে অন্তরীণ, বালিকার গোল্লাছুট ও বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা নামক আরও তিনটি কাব্যগ্রন্থ; যাবো না কেন? যাব ও নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প নামক আরো দুইটি প্রবন্ধসঙ্কলন এবং অপরপক্ষ, শোধ, নিমন্ত্রণ ও ফেরা নামক চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে লজ্জা নামক তাঁর পঞ্চম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে বাংলাদেশের মুসলিমদের দ্বারা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা করা হয়। এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবী জানানো হয়।

সে সময় গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ তসলিমাকে মেলায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। একই বছর অক্টোবর মাসে কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স নামক এক সংগঠন তসলিমার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও ভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। ১৯৮২ সালে তসলিমা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তাঁর বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়।

নির্বাসিত এ সাহিত্যিক বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় লেখালেখির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাময়িকী এবং পত্রপত্রিকায়ও নিয়মিত লেখালেখি করছেন। প্রতিবারের মতো এবারও তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন উপলক্ষে পরিবাগের সংস্কৃতি বিকাশকেন্দ্রে সাহিত্য সভা ও জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেছে ‘তসলিমা পক্ষ’ নামের একটি সংগঠন।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply