আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা সময়ের দাবি
ডেঙ্গু মহামারি থেকে বাঁচাতে ও বাঁচতে উদ্যোগ নিন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা সময়ের দাবি

প্রতীকী ছবি

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    2
    Shares

সফিউল্লাহ আনসারী : বাংলাদেশে এ বছর আগের তুলনায় ভয়াবহ এবং মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। প্রথমদিকে শহরের অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হলেও তা এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যা কেবল আতংকের বিষয়ই নয় কেড়ে নিচ্ছে অনেক জীবন। ইতিমধ্যে ডাক্তার, শিক্ষার্থী, শিশুসহ সাধারন মানুষ এই প্রাণঘাতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন। এর ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখনই ডেঙ্গু ঠেকানো না গেলে তা আরো ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত জ্বর “স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোর‌্যাজিক ফিভার-এ পর্যবসিত হয়”। এই মরণব্যাধি ডেঙ্গু আবারও আতংক এবং মৃত্যু ভয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ডেঙ্গু এই জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে সাথে জনগনকে অজানা শংকা ভাবিয়ে তুলেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সকল বয়সের মানুষ। যোগাযোগ মাধ্যমে জানা গেছে এবার ডেঙ্গুর লক্ষন দেখা না দিয়েও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অসচেতনতা আর নিজেদের এ বিষয়ে না জানার কারনে সহজেই অনেক মানুষ মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ছে। আক্রান্ত হয়ে গেলে সচেতন-অসচেতন কাউকেই রেহাই দিচ্ছেনা ডেঙ্গুতে মৃত্যু। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ২৮জনের মত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশি হয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাস কোমলমতি বিশেষ করে শিশুদের বেশি পরিমানে আক্রমণ করার ফলে এর তীব্র প্রকোপে শিশুরা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এবারের ভয়াবহতায় অনেকের মৃত্যুর কারন হচ্ছে এই ডেঙ্গু জ্বর। তবে আতংকিত হয়ে ডেঙ্গুকে ভয়ের কারন হিসেবে না নিয়ে আমাদের প্রতিরোধের উপায় ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর সতেচনতার সাথেই দ্রুত সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহন এ ভয়ানক জ্বর থেকে আমাদের সন্তান ও স্বজনদের রক্ষা করতে পারে। দ্রুত এই ডেঙ্গু আক্রান্তকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে হবে। খবরে প্রকাশ ঢাকার এক হাসপাতালে বেশ কয়েকজন ভাগ ডাক্তার ও নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত, যা ভয়ের কারন হয়ে দাড়িছে।

ভাইরাস জনিত অন্য রোগের মতো সরাসরি ডেঙ্গুর প্রতিষেধক নেই এবং এখনও কোন টিকা আবিস্কারের খবর পাওয়া যায়নি। আর এ কারনেই আতংকের আরেক নাম ডেঙ্গু । দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর সাথে চিকনগুনিয়া ভাইরাসের প্রকোপও দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ এই ডেঙ্গুতে ক‘দিনের মধ্যে শিশু-নারীসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পত্রিকায় এসেছে। মৃত্যু থেকে বাঁচতে সরকারসহ সংশ্লীষ্ট বিভাগকে আরো তৎপর হতে হবে বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোকে। ডেঙ্গু থেকে এডিস মশা প্রতিরোধ করতে হবে, বাঁচতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও ভয়াবহতা থেকে জনগনের সুরক্ষার জন্য দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপও নিতে হবে।

“সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য প্রধানত দায়ী বলে বিজ্ঞমহলের ধারনা। মাঝে-মধ্যে বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা বাড়িয়ে এডিস মশার বিস্তার ঘটিয়ে মশার পরিমান বৃদ্ধি করছে। জানা গেছে, এডিস মশা মশার পরিমান যতো বৃদ্ধি পাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত লোকের হারও বাড়বে। ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে খুঁজে খুঁজে মশার উৎস বন্ধ করতে পারলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।” মূলকথা হলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্লাসিক্যাল ও হেমোরেজিক ডেঙ্গু নামে দু‘প্রকারের ডেঙ্গুর জ্বর রয়েছে। এ জ্বরের ভয়াবহতাকে রক্ষা পেতে, “এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেনো কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। রাজধানীসহ দেশের সবখানে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে- তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী এসব স্থানগুলোকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরিষ্কার রাখতে হবে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কর্তৃক এডিস মশা নিধন এবং এডিসের বংশ বিস্তার রোধে পদক্ষেপ গ্রহন জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গুর প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো স¤পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। ডেঙ্গু হলে করণীয় স¤পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে, রাজধানী ও জেলা-উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সর্বোপরি এডিসমশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।” তবেই সম্ভব ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা ও প্রতিরোধ করা। ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কাউকে কামড়াতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা। এই মূহুর্তে আতংকের নাম ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন ও দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরী ভিত্তিতে করতে হবে।

নগরবাসীসহ সারাদেশের মানুষের দাবী এবং প্রত্যাশা যতো দ্রুত সম্ভব এডিস মশার বিস্তার রোধ ও মশা ধ্বংস করে, আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে ডেঙ্গু আতংক থেকে সাধারন মানুষের জীবন রক্ষা করা। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে সকলের সচেতনতা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন করে ডেঙ্গু যেনো বৃদ্ধি পেতে না পারে সেদিকে লক্ষ রেখে আমাদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় জরুরী অবস্থা ঘোষনা করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের বাঁচান, এমন আকুতি আজ সকল মানুষের। ডেঙ্গু যেনো আর একটা মানুষের জীবনও কেড়ে না নেয় তার জন্য যা করা দরকার তাই করতে হবে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ও বাঁচাতে সচেতনতা, প্রতিরোধ ও সঠিক চিকিৎসা সময়ের দাবি।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply