জয়প্রকাশ সরকারের ৫টি প্রেমের কবিতা - Nobobarta

আজ রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না : খন্দকার লুৎফর জাবি উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে কালো পতাকা প্রদর্শন আন্দোলনকারীদের মোহামেডানসহ ৪ ক্লাবে জুয়ার বর্ণাঢ্য আয়োজন জবিতে শুরু হচ্ছে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন আবৃত্তিকার কামরুল হাসান মঞ্জু’র মৃত্যুতে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির শোক দুর্নীতি দমনে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী : জিএম কাদের বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করবেন নার্গিস ফাখরি পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে হাইকোর্টে মিন্নি
জয়প্রকাশ সরকারের ৫টি প্রেমের কবিতা

জয়প্রকাশ সরকারের ৫টি প্রেমের কবিতা

  • 84
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    84
    Shares

আশালতা বসু

আশালতা বসু,
তুমি কি বেঁচে আছো আজও?
একবুক কষ্ট নিয়ে-
আজও কি বেঁচে আছো?

কত মাস, কত বছর, চলে গেলো!
উঠোনে যে আগাছাগুলো জন্মেছিল,
আজ সেগুলো বৃহৎ বৃক্ষ।
পশ্চিমের আবাদি ভূমিগুলো-
বসতবাড়ী হলো;
কর্দমাক্ত রাস্তাটা-
কংক্রিটের আস্তরে ঢেকে গেলো।

মনে পড়ে তখনকার সময়গুলো?
মেঠো পথের দু’ পাশের সবুজে দৃষ্টি হারাতো;
ফেরাতে কি পারতে দু’নয়ন?
না তুমি,না আমি।

উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিতাম-
ছোট্ট ট্রলারে বসে। ভারী ঢেউয়ে-
আতঙ্কিত তুমি হাতটা জড়িয়ে থাকতে;
সেখানে চর জেগেছে আজ,
বৃহৎ সাকো গড়েছে ওরা।

কত মিথ্যেই না সাজাতে-
বাবা-মায়ের কাছে!
মনে পড়ে?
সেই দিনগুলোর কথা?

তুমি আর আমি খোলা মাঠে শুয়ে-
চলে গেছে কতো দিন,কতো সন্ধ্যা;
কখন চলে গেছে প্রভাত,
শরতের কুয়াসায় ভিজে গেছে মন!
সময়ের স্রোত মনে ছিলো না কারো?
না তোমার, না আমার।

মনে পড়ে তোমার?
যেদিন দুজনের মাঝে-
চৈনিক প্রাচীর গড়ে উঠল,
নিরবে কতই না কেঁদেছিলে!
কারো কান্না থামেনি যে আজও,
না তোমার, না আমার।

কত মাস, কত বছর, চলে গেছে!
অনেকেই ছেড়ে গেছে-
আমাদের সুখী করে!
আশালতা বসু,
তুমি কি আজও বেঁচে আছো?
একবুক কষ্ট নিয়ে?

কষ্ট মুছেনি যে কারো-
না তোমার,না আমার।

ছোয়া

দেহ তোমার ছুঁই না আমি,
মনটা কেবল ছুঁই;
দেহের মাঝেই মন যদিও,
দুষ্টু বিকল রুই।

ধরার বাইরে ছোঁয়া আমার
অনুভূতিতে থাকে,
তুমি ছাড়া কেউ যে তা
টের পাবে না ঝাঁকে।
দু’চোখ দিয়ে মনটা দেখি
দেহ দেখি না,
এমন প্রেমিক এই জগতে
আছে কয় জনা?

চিতল বোয়াল খবরদারি
টেংরা-পুঁটি পেটে,
শেষ করে দেয় জলের সবই,
আহার নাহি জোটে।

আত্মা যদি আমার হয় তো
আত্মীয়ে কি হবে?
দেহ ভোগের আনন্দে মজে!
মন পেয়েছে কবে?

কেউ পাবে না

তোমাকে যেভাবে পেয়েছি আমি
কেউ পাবে না আর,
প্রাণেতে আমার গগন বিদারী
বিধ্বংসী হুংকার।

বলে দেই আমি চিৎকার করে
জনসন্মূখে এসে,
অতি নিংঢ়ানো শেষটুকু তাঁর
সাগরের জলে ভেসে,
নিকটে আসে;লুফে নেই তা
নিজের মনে করে;
সাগরের ঢেউ পাড়ের সখ্যতায়
যেভাবে প্রাণ ভরে।

তোমাকে যেভাবে পেয়েছি আমি
কেউ পাবে না আর,
যদি চায়,তো নিঃস্ব ভান্ড
কপালে আছে তাঁর।

কৃপনের খাতা

তোমার কৃপনতা গুলো মুহুর্তেই
নিচু করে দেয় মস্তক আমার।
যতো ধুলো বালি ছাই লেপটে পড়ে-
মাথার উপর; কালোচুলগুলো সাদা
ধুসরাভ রংয়ে জানান দেয়।

কষ্টে ;পাবার আশাগুলো
বায়ুতে চক্রাকারে ঘুরে,
আর বলতে থাকে-
ভালোবাসনি,কখনও ভালোবাসনি;
কৃপনের খাতায়-
শুধুই ছলনার পাগলামি।

স্বপ্নের মোড়কে

অনেকক্ষণ অবধি,
সে ই!
রাস্তার মোড়ে।
পূর্ব পাশটায়
বিস্তৃত খেলার মাঠ;
বামে শেওলাধরা অট্টালিকাগুলো
বোধহয় স্কুলের,
দক্ষিনে গুটিকতেক দোকান,
পেছনে পুকুর;
যার পশ্চিম পাড়ে কতগুলো
ফলন্ত গাছে অসংখ্য কদবেল
লালায়িত চেয়ে আছে।

পূর্বদিকে দৃষ্টি আমার;
তুমি যাবে মোড় থেকে
সোজা পশ্চিম দিকে;
দুইপাশে বুড়ো আমগাছের
ছায়ানিবিড় সমারোহ;
ইট বিছানো রাস্তার পাশে
তোমাদের বাড়ী।

দাঁড়িয়ে আছি আমি,
ফারুকের চায়ের দোকানে,
চা পান করি।
এক পেয়ালার পর এক পেয়ালা।
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে;
দেখা নাই তোমার।

কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন আমি,
ক্লান্ত বিকেলের পড়ন্ত রোদে-
জনা তিনেক মানুষ দেখা যায়,
গন্তব্য পশ্চিমেতে;
চলনে-
দাম্পত্য শোভা পায়।

একজন বোধহয় পুরুষ সেখানে?
আর, একজন কি শিশু?
ঝাঁপছা দেখছি বোধ হয়!

এইতো কিছুক্ষণ ধরে
দাঁড়িয়ে আমি!
তন্দ্রা চোখে আমি
তোমার স্বপ্ন দেখি;
দাঁড়িয়ে আছি হয়তো বা?
এক যুগেরও বেশী!

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply