ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, সরকারের পদত্যাগ চাই : সাবেক ডাকসু নেতারা – Nobobarta

আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, সরকারের পদত্যাগ চাই : সাবেক ডাকসু নেতারা

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, সরকারের পদত্যাগ চাই : সাবেক ডাকসু নেতারা

সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক নেতারা। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ চান তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এই সব দাবি তোলেন তারা।

জেএসডির সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আব্দুর রব সভাপতির বক্তব্যে বলেন, “আবরারকে হত্যার মাধ্যমে পুরো জাতিকে হত্যা করা হয়েছে। অবৈধ সরকারের এজেন্ডা হচ্ছে আমাদের কথা বলতে দেবে না, বিরোধী মতবাদকে কথা বলতে দেবে না। আজকে কেউ কেউ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে চান। ছাত্র রাজনীতি অপরাধ নয়। এটা না থাকলে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হতো না।” আরও বলেন, “ছাত্র রাজনীতি না থাকলে এ দেশের গরিব শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারতো না, গণশিক্ষা হতো না। ছাত্র রাজনীতি না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে কেউ ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে পারে নাই।”

রব বলেন, “রাষ্ট্রকে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করতে হবে। ১৩ তারিখ আবরারকে নিয়ে শোক মিছিল করতে দেয় নাই। এই দেশের জনগণ সরকারের শোক মিছিল করবে, সেটার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।” তিনি আরও বলেন, “এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। আপনাদের বিচার হবে, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এটার পরিকল্পনা হিসেবে আমরা দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চাই না। আপনারা যা করেছেন, সুযোগ পেলে জনগণ আপনাদের পিঠের চামড়া রাখবে না।”

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আবরারের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে কীভাবে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এটা সবাই দেখেছেন। তার চাইতে সংকটের বিষয় হলো এই হত্যাকে এখন সমগ্র জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত নয়, শুধু ছাত্রলীগ। এ রকম একটি খুনি ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কৌশলে সরকার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছে। মাথা ব্যথার জন্য মাথাই কেটে ফেলার উপক্রম।”

তিনি আরও বলেন, “যারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা বলে তাদের বলি- আবরারকে ডেকে নিয়ে কবর সময় যদি বুয়েটে ছাত্রদল থাকতো, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন থাকতো, তাহলে ওই ছেলেকে বাঁচানো যেতো। ১১ বছর ধরে এই নরকের মতো অবস্থা কারা তৈরি করেছে? আজকে এই কথা বলার সময় হয়েছে যে এই সরকার নিজে ছাত্রদের হত্যা করে। এই সরকারকে আমরা চাই না। বিশ্বজিৎ হত্যার মামলার ফলাফল দেখেছেন, এখন মানুষের চোখে পাথর, বুকের মধ্য আগুন, মানুষের মনে বারুদ জ্বলে। এ জন্য ঠান্ডা করার জন্য মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে। আমরা ডাকসুর ভিপিরা ভুলবো না। আমরা বিচারের শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়বো।”

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, “বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে যেভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তার মানে এই সরকারের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নেই। এই সরকার ছাত্রসমাজকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। মেধাবী যারাই আছে তাদের খুঁজে খুঁজে এই সরকার প্রধানের নির্দেশে হত্যা করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের জন্য আজকে খালেদা জিয়া কারাগারে। গণতন্ত্রকে বন্দী রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে এবং আবরার ফাহাদের হত্যার বিচার করতে হলে জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে।”

মানববন্ধনে ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, “আবরার হত্যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। যেভাবে ছাত্রলীগ সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাতে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। বুয়েটের আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা স্বীকার করেছে বড় ভাইয়ের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই বড় ভাই কারা তা খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করে নাই, তাই ভাইস চ্যান্সেলরকে পদত্যাগ করতে হবে। বুয়েটের একজন মেধাবী ছাত্র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না সে জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।”

বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। ৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবরার হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতা-কর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।


Leave a Reply