ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : বিধ্বস্ত ৫ হাজার ঘর-বাড়ি, ১২ জনের প্রাণহানি – Nobobarta

আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
মিথিলার আগে সৃজিতের যত প্রেম! রাজাপুরে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ রাজাপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ অনুষ্ঠিত মহিউদ্দিন সভাপতি, আবু বকর সম্পাদক উদয় সমাজ কল্যান সংস্থার ১২ তম ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন ১০ ডিসেম্বর উপাচার্যের দুর্নীতির ক্ষতিয়ান প্রকাশ করবে আন্দোলনকারীরা মার্শাল আর্ট ‘বিচ্ছু’ নিয়ে আসছেন সাঞ্জু জন আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : বিধ্বস্ত ৫ হাজার ঘর-বাড়ি, ১২ জনের প্রাণহানি

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : বিধ্বস্ত ৫ হাজার ঘর-বাড়ি, ১২ জনের প্রাণহানি

উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে অতি দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। উপকূলে বুলবুলের তাণ্ডবে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে উপকূলীয় জেলাগুলোর চার থেকে পাঁচ হাজার ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) মধ্যরাতে সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানে ‘বুলবুল’। শক্তি হারিয়ে রবিবার (১০ নভেম্বর) সকালের দিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। সন্ধ্যার দিকে আরও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপ আকারে বরিশালের উপকূল অঞ্চল অতিক্রম করছে।

খুলনা : খুলনার দাকোপ উপজেলায় প্রমিলা মন্ডল (৫২) নামে এক নারী ঝড়ের সময় গাছ চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া দিঘলিয়া সেনহাটি গ্রামের আলমগীর হোসেনও (৩৫) গাছ চাপায় নিহত হয়েছেন। এছাড়াও রূপসা উপজেলায় আব্দুর রহমান (১০০) নামের আরও এক জনের মৃত্যু হয়।

গোপালগঞ্জ : গেপালগ‌ঞ্জের কোটালীপাড়ার বান্ধাবা‌ড়ি‌তে গাছচাপা প‌ড়ে ছে‌কেন হাওলাদার (৭০) না‌মে এক বৃদ্ধ এবং সদর উপ‌জেলার গোলাবা‌ড়িয়া গ্রা‌মে ম‌তি কেগম (৬৫) ঝ‌ড়ের সময় গাছ চাপা প‌ড়ে নিহত হ‌য়ে‌ছেন।

বাগেরহাট : রবিবার সকাল ১০টার দিকে বাগেরহাটের রামপালের উজোলপুর ইউনিয়নের ভরসাপুর এলাকায় বুলবুলের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া গাছচাপায় ছামিয়া আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছে।

পটুয়াখালী : শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গাছ উপড়ে বসত ঘরের ওপর পড়ে হামেদ ফকির নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন জানান।

বরগুনা : বরগুনা সদর উপজেলার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে হালিমা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে এর কারণে তিনি উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ডিএম কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

পিরোজপুর : দমকা হাওয়ায় গাছ চাপা পড়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে নাজিরপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান। নিহত ননী শিকারীর বাড়ি নাজিরপুর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের লড়া গ্রামে।

মাদারীপুর : মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঝড়ো হাওয়ায় ঘর চাপা পড়ে সালেহা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন গিয়াস জানান। মৃত সালেহা বেগম সদর উপজেলার ঘটমাঝি গ্রামের আজাদ খাঁয়ের স্ত্রী।

শরীয়তপুর : রবিবার দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিকের দেওজুড়ি এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ভেঙে পড়া গাছ চাপায় মো. আলীবক্স ছৈয়াল (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

ভোলা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মেঘনা নদীতে ২৪ জন জেলে নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়ছে। এরই মধ্যে ১০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ জেলে।

পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত : এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, লক্ষীপুরসহ উপকূলের জেলাগুলোর বিভিন্ন উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় উপজেলায় তাণ্ডব চলেছে ‘বুলবুল’র। এতে শত শত কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে চার থেকে পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দুপুরের দিকে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

৩ লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট : এছাড়াও দেশের অন্তত ১৬ জেলায় এই বুলবুলের তাণ্ডব চলেছে ফসতি ক্ষেতে। এসব জেলাগুলোতে নষ্ট হয়েছে অন্তত ৩ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল। ১৮ ধরনের ফসলের মধ্যে রোপা আমন ও সরিষা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও খেসারি ডাল ও শীতকালীন সবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক চান্দি দাস কুণ্ড।

ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family
Design & Developed BY Nobobarta.com