গোপালগঞ্জ-১ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আশালতা বৈদ্য - Nobobarta

আজ সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জ-১ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আশালতা বৈদ্য

গোপালগঞ্জ-১ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আশালতা বৈদ্য

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব, মুক্তিযুদ্ধকালীন একমাত্র মহিলা কমাণ্ডার শ্রীমতি আশালতা বৈদ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী।ইতোমধ্যে তিনি মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য আবেদনপত্র জমাও দিয়েছেন।

আশা লতা বৈদ্যর  পিতা হরিপদ বৈদ্য।তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ার কারণে স্বাধীনতা পূর্ব সময় থেকে আওয়ামী পরিবারের সাথে ছিলেন। বাবা ও মায়ের উৎসাহ সাহস, নীতি আদর্শ থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে আজ অবধি একই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সৃতি স্মরণ করে বলেন,১৯৭১  মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ আমার জীবনের শ্রেষ্ট অর্জন। মাতৃভূমি স্বাধীন করার লক্ষ্যে জীবন বাজী রেখে হেমায়েত বাহিনীতে যোগদান করি। মহান মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র দেশের মধ্যে একমাত্র হেমায়েত বাহিনীতেই আমার নেতৃত্বে সশস্ত্র মহিলা কমান্ড গঠিত হয় এবং সশস্ত্র মহিলা কমান্ডার এর দায়িত্ব পরিচালনা করার গৌরব অর্জন  করি।

 

পঁচাত্তরের কথা বলতেই তিনি আপ্লুত হয়ে বলেন,১৫ই আগস্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে ১২ ঘণ্টা অজ্ঞান থাকি। তখন পাঁচতলা ভবনের ছাদে পানির টেঙ্কির নীচে ২০দিন কাটাতে হয়। সেখানেও বন্ধু নূরজাহানই সার্বিক তত্তাবধান করে। পরবর্তৗ সময়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ফনীভুষণ মজুমদার, মোল্লা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, আব্দুর রাজ্জাক,ওবায়দুর রহমান, মোমেন তালুকদার, সোহরাব হোসেন, শেখ আ. আজিজ সহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা ও থানার নেতৃবৃন্দের সাথে অসংখ্য মামলার আসামী ছিলামছাত্রলীগের সভানেত্রী হিসেবে রোকেয়া হলে পুলিশি তল্লাশির কারণে সহপাঠি বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরজাহান বেগমের আন্তরিক সহযোগিতায় তার কক্ষে আত্ম¡গোপনে থাকি।

ছদ্মবেশে গ্রামের বাড়ী গিয়েও রক্ষা হয়নি। আকস্মিক ফরিদপুর জেলা পুলিশী আক্রমনে কোটালী পাড়াস্থ শেখ আব্দুল আজিজ, বাবু চিত্ত রঞ্জন গায়েন, পঞ্চানন ওঝা সহ প্রমুখ  নেতৃবৃন্দের সাথে বন্দী করে ফরিদপুর জেলহাজতে নিয়ে একটানা চার দিন রিমান্ড করে। সকল বন্দীর পক্ষ থেকে বাবু চিত্ত রঞ্জন গায়েনই জবাব প্রদান করায় সাতদিনে সকলকে মুক্তি দিলেও সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল আজিজকে বেধরক শারীরিক নির্যতনসহ জেলহাজতে রেখে দেয়।

রোকেয়া হলে ফিরে এসে আত্মগোপনকালীন অবস্থায় ছদ্মবেশেই ‘বঙ্গবন্ধুর রক্ত বৃথা  যেতে দিব না’ ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার চাই’ বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল লিখন, দলকে উজ্জীবিত রাখার কঠিন দায়িত্ব পালন করি। এ সময়ের প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী ছিলেন সাহারা খাতুন, আব্দুর রাজ্জাক, সাজেদা চৌধুরী, শহীদ আইভি রহমান, বাবু ফনী ভূষণ মজুমদার, মোল্লা জালাল উদ্দিন, রাশেদ মোশাররফ সহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

৩রা নভেম্বর জেল হত্যার পর ৪ঠা নভেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু এবং জেল হত্যার প্রতিবাদে আমার উদ্দ্যোগে, নেতৃত্বে প্রথম ৪ঠা নভেম্বর রোকেয়া হল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল বের করি। নিলক্ষেত যাবার আগেই আমাদের মিছিলে শরীক হন আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহম্মেদ, রাশেদ মোশাররফ এবং রাশেদ মোশাররফ সাহেবের মা, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিনের সচেতন সাহসী ছাত্রী বৃন্দ।

 

রোকেয়া হল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর যাত্রা পথে নীলক্ষেত পর্যন্ত পৌঁছালে সেনা সদস্য এবং পুলিশবাহিনী আমাদের বাধা প্রদান করলে সাথে সাথে কঠিন ভাবে প্রতিবাদ করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা আব্বুর রাজ্জাক তোফায়েল আহম্মদ, এবং রাশেদ মোশারফ মোকাবিলা করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত পৌঁছানোর সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে পড়ি এবং নেতৃবন্দের সঙ্গে মিছিল নিয়ে রোকেয়া হলে ফিরে আসি।

স্মরনীয় হল- রোকেয়া হলের প্রভোষ্টের অনুমোদন না নিয়ে হল থেকে ফুল তুলে ফুলের তোড়া বানানোর এবং ঔ তোড়া ‘বঙ্গবন্ধুর’ স্মৃতি উপলক্ষে প্রদান করায় রোকেয়া হলের প্রভোষ্ট নিলীমা ইব্রাহিম আমার হলের সিট বাতিল করে দেন।

আজকে যে আপনি মনোনয়ন চাচ্ছেন ৯১ নির্বচানে আপনি কী ভূকিা রেখেছিলেন জানতে চাইলে বৈদ্য বলেন,নির্বাচনে ভূমিকা   ১৯৯১ সনের জাতীয় নির্বাচনে (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়নে কাজী আকরাম উদ্দিনকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যার বিপরীতে কোটালীপাড়ার বাবু চিত্তরঞ্জন গাইন, অনিল চন্দ্র হালদার, নরেন্দ্রনাথ বারই, চিত্তরঞ্জন বল, লালমোহন বিশ্বাস, হরগোবিন্দ বিশ্বাস, অরুন বালা, ডাক্তার রেনুভূষণ বাড়ৈ সহ ১২টি ইউনিয়নের নেতা-কর্মীবৃন্দ আমার অফিস কার্যালয় দিলকুশায় জমায়েত হন। মির্টিংয়ে সকলে মিলে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী প্রদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী বাবু হেমন্ত অধিকারী ঐসময়ের সভাপতি এবং বর্তমান সভাপতি বাবু সুভাস জয়ধর,  কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। আমি তাদের কথা শুনে একটু সময় নেই এবং এর বিপরীতে আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত যে আমি বিদ্রোহী প্রার্থী না দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রার্থী হিসেবে রাজি করালেই দলের জন্য ভাল হবে। কিছু নেতাদের সংগে নিয়ে ধানমন্ডি সুধাসদনে যাই। সেখানে জননেত্রীর নামে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় ২নং ফরম কিনি। সে ফরম জননেত্রীর সামনে নিয়ে একপ্রকার ভালোবাসার অধিকার থেকে বঙ্গবন্ধুর বুড়ি আর নেত্রীর পাগলী হিসেবে জোর করেই তার স্বাক্ষর নেই এবং নেত্রী গোপালগঞ্জ-৩ থেকে নির্বাচন করতে রাজী হন। ১৯৯১এর জাতীয় নির্বাচনে আমাদের নেত্রী ৫টি আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং শুধু ১টি আসন গোপালগঞ্জ-৩ আসনেই বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। যার ফলশ্রুতিতে নির্বচনের দিনে সন্ধ্যা নাগাত আমার বাড়ীর চতুর্দিকে অসংখ্য বোম্বিং হয়। এ নির্বাচনে আমাকে প্রতক্ষ জেলার নেতৃবৃন্দ ও কোটালীপাড়ার বিক্ষুদ্ধ জনগণ। বিজয়ের পরে নেত্রী প্রথম কোটালীপাড়া গিয়ে আমাকে আমার গ্রাম থেকে   লোক পাঠিয়ে আমাকে নিয়ে আসেন। সেই দিন নেত্রীর আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন তুই আমার পাগলীই নয় শুধু তুই বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের বুড়ি। ঐ আসনের বিজয়ের কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯১ সনে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী হন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনায় উজ্জীবিত থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতেপ্রাতভাবে জড়িত। নিজস্ব কর্মগুণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সূর্যমুখী সংস্থার কর্ণধার হিশেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্তমানবতাবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যেই বহু দেশী-বিদেশি পদক লাভ করেছেন ।

আপনার জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি কী জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার সমগ্র জীবনে বড় প্রাপ্তি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য লাভ,তাঁরই ¯স্বস্নেহে বেড়ে ওঠা এবং তাঁর নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে পারা।অপ্রাপ্তি বলতে বন্ধবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আত্মউৎসর্গ করেও  মাটি মানুষের জন্য মহান জাতীয় সংসদে অংশগ্রণ করতে না পারা।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply