গর্ভেই নির্ধারিত হয় সন্তানের ব্যক্তিত্ব - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

গর্ভেই নির্ধারিত হয় সন্তানের ব্যক্তিত্ব

গর্ভেই নির্ধারিত হয় সন্তানের ব্যক্তিত্ব

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    7
    Shares

গর্ভাবস্থায় কোনো নারী যদি অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, ওই সন্তান ৩০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই সে ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ বা ব্যক্তিত্ব বৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারে। আর এই ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই উঠে এসেছে।

ফিনল্যান্ডে ৩,৬০০ গর্ভবতী নারী ও তাদের সন্তানদের ওপর ওই গবেষণা চালানো হয়। গর্ভাবস্থায় ওই নারীদের মানসিক চাপ নিরূপণ করা হয়। পরে তাদের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর, সন্তানদের মানসিক বিকাশের ওপর নজর রাখা হয়। এমনকি গর্ভাবস্থায় মাঝারি মাত্রার মানসিক চাপ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলেও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ বা ব্যক্তিত্ব বৈকল্য : ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ এমন একটি মানসিক অবস্থা যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের জীবন তো বটেই, অন্যের জীবনেও বড় ধরণের সঙ্কট তৈরি করে। এরা অনর্থক এবং অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন হতে পারে, আবেগের ওঠানামার পেছনে কোনো যুক্তি থাকে না, অতিমাত্রায় সন্দেহ-প্রবণ হয়ে পড়ে। এ ধরনের মানুষ প্রায়শই মানসিক চাপে ভোগে। অনেক সময় এরা মাদক এবং মদে আসক্ত হয়ে পড়ে।

যেভাবে হয়েছিল এই গবেষণা: এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মনোবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি’তে। গবেষণায় ৩,৬০০ গর্ভবতী নারীকে তাদের গর্ভাবস্থায় প্রত্যেক মাসে কিছু প্রশ্ন করে তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে মানসিক চাপের মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা করা হয়। এই নারীরা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি এবং আশপাশে থাকতেন। তারা ১৯৭৫ এবং ১৯৭৬ সালে সন্তানের জন্ম দেন। ওই সন্তানদের বয়স তিরিশে পৌঁছানোর পর দেখা যায় তাদের ৪০ জনের মধ্যে মারাত্মক ব্যক্তিত্বের সংকট তৈরি হয়েছে । তাদের মানসিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

ফলাফল : গবেষণায় দেখা যায় যে সব মায়েরা গর্ভাবস্থায় দীর্ঘদিন বড়রকম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন, প্রধানত তাদের সন্তানরাই মানসিক সংকটে পড়েছে। যে সব মায়েদের গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ কম ছিল, তাদের সন্তানদের চেয়ে চাপে থাকা মায়েদের সন্তানদের ব্যক্তিত্ব বৈকল্য হয়েছে অনেক বেশি- প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। মায়েদের চাপের কারণগুলোর মধ্যে ছিল – সম্পর্কের সংকট, সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কট।

ব্রিটেনের রয়াল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টের অধ্যাপক ড. ট্রুডি সিনিভারত্নে বলেন, গর্ভধারণ করলে অনেক নারী মানসিক চাপে পড়েন। তাদের জন্য সাহায্য খুবই জরুরি। তিনি বলেন, যদি এই মানসিক চাপ ঠিকমতো নিরসন না করা হয়, তার পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, তাদের জন্য এবং সন্তানদের জন্য।

যেভাবে গর্ভাবস্থায় মাসনিক চাপ কমাবেন : ড. সিনিভারত্নে বলেন, গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই বাড়িতে এবং কাজের জায়গায় সাহায্য করতে হবে। চাপ তৈরি হলে, কীভাবে সে তা সামলাতে পারে – সে ব্যাপারে তাকে পরামর্শ দিতে হবে। গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ এবং যথেষ্ট ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply