যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে সাকিব | Nobobarta

আজ রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে সাকিব

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে সাকিব

Rudra Amin Books

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন সাকিব আল হাসান। আর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই নিজেকে হোটেলে ‘আইসোলেটেড’ করে রেখেছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। সচেতনতা থেকেই নিজে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাকিব। একই সঙ্গে ভক্তদের উদ্দেশ্যেও দিয়েছেন বার্তা। শনিবার রাতে সাকিব নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। সেখানে নিজে আইসোলেশনে থাকার পাশাপাশি সবার উদ্দেশ্যে বার্তা দেন তিনি। সাকিবের বলা কথাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করনা ভাইরাসকে মহামারি রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আপনারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন বাংলাদেশেও বেশ কিছু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছে। আমাদের এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের সতর্কতাই পারে দেশকে সুস্থ রাখতে, আমাদের সুস্থ রাখতে।

কিছু সিম্পল স্টেপ ফলো করলে আমার ধারণা এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারব এবং আমাদের দেশকেও মুক্ত রাখতে পারব। যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। সোশ্যাল ডিসটেনস মেইন্টেন করা। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় সঠিক শিষ্টাচার মেনে চলা। যদি কেউ বিদেশ ফেরত থাকেন তাহলে অবশ্যই নিজেকে ঘরে রাখা। ঘর থেকে যেন বাইরে যাওয়া না হয় সে সম্পর্কে খেয়াল রাখা। সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে, যেন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী এসে আপনার সাথে দেখা করতে না পারে। ১৪ দিন আপনাকে ঘরে থাকতে হবে যেটা খুবই জরুরি।

আমি নিজের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আমি মাত্রই ইউএসএ (যুক্তরাষ্ট্র) এসে পৌঁছালাম। যদিও প্লেনে সব সবময় ভয় কাজ করেছে একটু হলেও। তারপরও চেষ্টা করেছি কীভাবে নিজেকে হাইজিন রাখা যায়, পরিষ্কার রাখা যায় এবং জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। এরপর যখন আমি ইউএসএতে ল্যান্ড করলাম। আমি সোজা একটি হোটেলে রুমে উঠেছি। ওদেরকেও আমি অবগত করেছি, আমি এখানে থাকব কিছুদিন। আমি যেহেতু ফ্লাই করে এসেছি, আমার একটু হলেও রিস্ক আছে। এ জন্য আমি নিজেকে আইসুলেটেট করে রেখেছি। যে কারণে আমি নিজের বাচ্চার সাথেও দেখা করিনি।

এখানে এসেও নিজের বাচ্চার সাথে দেখা করছি না। অবশ্যই আমার জন্য কষ্টজনক একটা ব্যাপার। তারপরও আমার মনে হয় এই সামান্য সেক্রিফাইসটুকু করতে পারলে আমরা অনেক দূর এগোতে পারব। এ কারণেই আমাদের দেশে যারা বিদেশ ফেরত এসেছেন, অনেকেই এসেছেন আমি জানি। নিউজের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আমাদের দেশে অনেক মানুষ এসেছে বিদেশ থেকে। আমাদের দেশেরই মানুষ তারা। যেহেতু তাদের ছুটির সময় কম থাকে। অনেক সময় চায় তারা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, ঘোরাফেরা করতে, খাওয়া দাওয়া করতে, আড্ডা দিতে বা কোনো অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে।

যেহেতু সময়টা অনুকূলে না, আমি সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যেন এই নিয়মগুলো মেনে চলেন। কারণ আমাদের এই সামান্য সেক্রিফাইসটুকু পারে আমাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে, সুস্থ রাখতে এবং আমাদের নিজেকেও সুস্থ রাখতে। আশা করি আপনারা আমার কথাগুলো শুনবেন এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, এদের থেকে যে ধরনের দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে অবগত হবেন। সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন নিজেদের।

আরেকটা জিনিস বলতে চাই। কেউ প্যানিক হবেন না। প্যানিক হলে আমার কাছে মনে হয় না ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে। আমরা প্যানিক যেন না হই। আমরা নিউজে দেখেছি যে, অনেকেই আছে তিন মাস, চার মাস, পাঁচ মাস, ছয় মাস পর্যন্ত খাবার সংগ্রহ করছে। আমার ধারণা খাবারের ঘাটতি কখনো হবে না ইনশা আল্লাহ। আমরা কেউ না খেয়ে মারা যাব না। তাই আমরা এ রকম প্যানিক না করি।

সঠিক সিদ্ধান্তই আমাদেরকে পারে এই বিপদ থেকে মুক্ত করতে। সেটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব। আরেকটা জিনিস বলতে ভুলে গেছি। খুব প্রয়োজন ছাড়া আশা করি আপনারা ট্রাভেল অথবা ঘরের বাইরে বের হবেন না। সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন। নিজের যত্ন নেবেন, আপনার পরিবারের যত্ন নেবেন। পরিবার এবং আপনার নিজের সম্পর্কে খেয়াল রাখবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।’


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta