আজ মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

কীভাবে এলো ঈদুল আজহা

কীভাবে এলো ঈদুল আজহা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

ঈদুল আজহা মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম। এটি ঈদ আল-কুরবান বা ঈদ আল-নাহ্র নামেও অভিহিত হয়। বাংলাদেশে এটি কোরবানীর ঈদ, বাকরা ঈদ নামেও পরিচিত। ঈদ ও আজহা দুটিই আরবি শব্দ। ঈদ এর অর্থ উৎসব বা আনন্দ। আজহার অর্থ কোরবানী বা উৎসর্গ করা।

ইতিহাস
হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহ তা’লার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে প্রাণপ্রিয় জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত ইসমাঈলকে (আ.) তার (হযরত ইসমাঈলের) পূর্ণ সম্মতিতে কোরবানি করতে উদ্যত হন (৩৭: ১০২, ১০৭)। মক্কার নিকটে ‘মীনা’ নামক স্থানে ৩৮০০ ( সৌর) বছর আগে এ মহান কোরবানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার ঐকান্তিক নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ হযরত ইবরাহীমকে (আ.) তার পুত্রের স্থলে একটি পশু কোরবানি করতে আদেশ দেন। আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য ও নজিরবিহীন নিষ্ঠার এ মহান ঘটনা অনুক্রমে আজও মীনায় এবং মুসলিম জগতের সর্বত্র আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পশু কোরবানির রীতি প্রচলিত রয়েছে।

কোরবানি
উৎসর্গকরা পশু, যা এক আল্লাহর উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়। পশুর গোশতো আত্মীয়-স্বজন বিশেষত দুস্থ দরিদ্রজনের মধ্যে বিতরণ করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করা হয়। সে সার্থক প্রচেষ্টার যে আত্মিক আনন্দ তাই ঈদুল আযহা। এ দিনে মীনায় হযরত ইবরাহীমের (আ.) অনুপম কোরবানির অনুসরণে কেবল হাজীদের জন্য নয়, বরং মুসলিম জগতের সর্বত্র সকল সক্ষম মুসলমানদের জন্য এ কোরবানি করা ওয়াজিব (মতান্তরে সুন্না: মুআক্কাদা)।

ঈদুল আজহার দিন জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র হজ্জব্রত পালনকালে হাজীরা মীনা প্রান্তরে কোরবানী করেন। পরবর্তী দুদিন মতান্তরে তিন দিনও (আয়্যাম-আল-তাশরীকে) অনুষ্ঠিত হয়। নকোরবানির পশু নির্ধারিত বয়সের হতে হবে ও কতকগুলি দৈহিক ত্রুটি (কানা, খোঁড়া, কান-কাটা, শিং-ভাঙা, ইত্যাদি) থেকে মুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঈদের নামাজের পর থেকে কোরবানির সময় শুরু হয়। পরবর্তী দুদিন (মতান্তরে তিন দিন) স্থায়ী থাকে এবং শেষ দিনের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়।

উট, গরু, মহিষ অনধিক সাতজনের পক্ষে এবং মেষ, ছাগল, দুম্বা শুধু একজনের পক্ষে কোরবানি দেয়া জায়েজ। বাংলাদেশে প্রধানত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেয়া হয়। কখনও কখনও আমদানি করা স্বল্পসংখ্যক উটও কোরবানি দেয়া হয়।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানেরাও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন। এ সময় মুসলমানরা নতুন পোশাক পরে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যায়। কুশল বিনিময় করে। প্রত্যেক বাড়িতেই উন্নতমানের খাবার প্রস্তুত করা হয়। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নিমন্ত্রিত হয়ে এ উৎসবে যোগদান করে। এ উপলক্ষে কয়েকদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

প্রবাসীদের অধিকাংশই নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঈদ উদযাপন করে। বিভিন্ন মসজিদ-ময়দানে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কয়েকদিন  রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। পত্র-পত্রিকাসমূহে ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরে মূল্যবান নিবন্ধ প্রকাশিত হতে দেখা যায়।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply

Nobobarta.com
Design & Developed BY Nobobarta.com