কাবিনে দেনমোহর বেশি মানেই কি নারীর নিরাপত্তা? – Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কাউখালীতে ৪০ যাত্রীসহ খেয়া ট্রলার ডুবি, পিএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ পাকিস্তান থেকে এলো ৮২ টন পেঁয়াজ রহমতপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ড আ’লীগের সম্মেলন, সভাপতি সুলতান, সম্পাদক স্বপন তারেক রহমানের জন্মদিনে জাবি ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ আগৈলঝাড়ায় পেঁয়াজ, চাউল ও লবণ নিয়ে গুজব, ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাসের অভিযান অব্যাহত কাউখালীতে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ পিইসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার কবি সুফিয়া কামালের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীনের জাবির হল খুলে দেওয়াসহ ৭দফা দাবি শিক্ষার্থীদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শুরু হল বুড়ি তিস্তা খনন নলছিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
কাবিনে দেনমোহর বেশি মানেই কি নারীর নিরাপত্তা?

কাবিনে দেনমোহর বেশি মানেই কি নারীর নিরাপত্তা?

আমিনুল ইসলাম রুদ্র : মেয়েরাও যৌতুক নেয়, বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সুস্থ্য মাথায় ভেবে দেখুন, আমি পুরুষ বলে শুদ্ধ সমালোচনা থেকে দূরে থাকবেন না। আপনার কি মনে হয়, আজকাল কাবিনে উল্লেখিত দেনমোহরের পরিমান কি যৌতুক নয়? সত্যিই আজকাল কাবিনে দেনমোহর এক ধরনের যৌতুক হয়ে যাচ্ছে বা গেছে।

ছেলে মাসে ইনকাম করে ৩০,০০০/- হাজার টাকা কিন্তু কাবিন করতে হয় ১০ লক্ষ! এই কাবিন পরিশোধ করে তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে কতো বছর অপেক্ষা করতে হবে বলতে পারেন? যদি বিবাহকে আপনি ধর্মীয় রীতিনীতি হিসেবে গণ্য করেন। ধরি, প্রতি মাসে ঐ ছেলে জমা করে ২০,০০০/- হাজার টাকা, বিয়ের খরচ বাদ দিলাম , তার মানে প্রায় পাঁচ বছর ধরে টাকা জমালে ছেলে শুধু কাবিনের টাকা জমাতে পারবে! আর বিয়ের খরচ জমাতে গেলে ছেলের তো, নিজের ছেলে বিয়ে দেবার বয়সে বিয়ে করা লাগবে!

কিন্তু কাবিনে দেনমোহর স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয় যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয় যা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না।

মনে রাখতে হবে স্বামী যেহেতু দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য- তাই তার পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা করে তা নির্ধারণ করা উচিৎ। এমন কোনো সিদ্ধান্ত তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া আদৌ উচিৎ হবে না- যাতে সে তা পরিশোধ না করতে পেরে গুনাহগার হয়। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মেয়েকে দেনমোহর দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু দেনমোহর দেওয়ার ইচ্ছে নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ব্যাভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।”- মুসনাদে আহমাদ

অনেকেই বলে কাবিনে দেনমোহরের পরিমান বেশি মানেই মেয়ের নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা! প্রশ্ন হলো তাহলে বিয়ে নাকি বেচাকেনা? বিয়ে তো একটা সম্পর্ক, সেখানে লেনদেন করে কিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় বলতে পারেন? টাকা বেশি মানে মেয়ে সুখী এবং নিরাপদ, এধারণার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন? বিয়ের পরে যদি ছেলে স্বামী হিসেবে ভাল না হয়, থাকতে না চায় তখন সেই সিকিউরিটি মানি দিয়া কি অন্য একটা ভালো স্বামী কেনা যায় যাবে?

কোনোদিনই সেটা সম্ভব নয়। ভালোবাসা থাকলে, আত্মবিশ্বাস থাকলে ১০১/- টাকা দেনমোহর কাবিনে উল্লেখিত বিয়ে হতে পারে কিংবা ছেলের যা ক্ষমতা সেই অনুযায়ীও হতে পারে। মূল কথা হলো বন্ধন, বিশ্বাস, ধর্মের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু আজকাল বিয়ের মধ্যে এই আর্থিক লেনদেন গলার কাটা হয়ে যাচ্ছে। উপহারের নামে যৌতুক যেন বৈধ হয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি সামাজিকতার নামে আজকাল সাধ্যের বাইরে কাবিনে দেনমোহর বৈধ হয়ে গেছে।

মেয়ে যদি মনে করে , কাবিনে দেনমোহরের পরিমান বেশি হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে তাহলে বিয়ে না করে বরং আয় রোজগার করার বিভিন্ন উপায় ভাবা উচিৎ। আর ছেলের যদি সামাজিকতা দেখানোর জন্য মেয়েকে সাধ্যের বাইরে কাবিন দিয়ে বিয়ে করা লাগে, তবে তার বিয়ে না করে আজীবন একা থাকাই ভাল।

যদিও বিবাহের ক্ষেত্রে কাবিন আবশ্যক। তথাপিও কাবিন বিবাহের কোনো অংশ নয়। কাবিন ছাড়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে সে বিবাহ বৈধ হবে। দাম্পত্য জীবনে এক সঙ্গে বসবাস করা যাবে। এ বিষয়ে ইসলামে কোনো অসুবিধা নেই। মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য দেশের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী বিবাহের নিবন্ধন অত্যন্ত জরুরি। কেননা দেশে রাষ্ট্রকর্তৃক নির্ধঅরিত মুসলিম বিবাহ আইন রয়েছে। আর বিবাহের এ নিবন্ধনকেই বলা হয় কাবিন।


Leave a Reply