কবি সুফিয়া কামালের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীনের – Nobobarta

আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৭ অপরাহ্ন

কবি সুফিয়া কামালের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীনের

কবি সুফিয়া কামালের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীনের

পাকিস্তানের শোষণ-শাসন-নির্যাতনের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু যখন বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন সেই মুহুর্তে নারীদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কবি বেগম সুফিয়া কামাল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সচিব ও ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর আবার যিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন, নেতৃত্ব দেন, নারী জাগরণ সৃষ্টি করেন তিনি হলেন বেগম সুফিয়া কামাল।

বুধবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানার নির্মল সেন মিলনায়তনে ভাষা সংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নারী জাগরণের পথিকৃৎ কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বেগম সুফিয়া কামাল বঙ্গবন্ধু পরিষদের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা, মহিলা পরিষদসহ মহিলাদের ও সাংস্কৃতিক যত সংগঠন বাংলাদেশে আছে প্রায় সবকটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বেগম সুফিয়া কামাল। আমরা তার কাছে চির কৃতজ্ঞ। আজকের এই সভা থেকে আমরা বলতে চাই বেগম সুফিয়া কামালের নামানুসারে বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

তিনি আরো বলেন, আজ নারীরা যেভাবে ক্ষমতায়ন হচ্ছে তার পিছনে যিনি কাজ করেছিলেন তিনি হলেন কবি বেগম সুফিয়া কামাল। কবি বেগম সুফিয়া কামাল এমন একজন সাহসী নারী ছিলেন যিনি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেছেন। তার কাছে বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যাবে কিন্তু সুফিয়া কামাল থেকে যাবেন বাঙালির প্রেরণাদাত্রী হয়ে সবার মনে। সুফিয়া কামালের নিছক একটি কবিতা নয়, এর মাধ্যমে বিধৃত হয়েছে যেন তার নিজের পরিচয়টিও। এ যেন তার প্রকৃত জীবন সংগ্রামের মুলকথা। এ কথা তিনি শুধু কবিতায় বলেননি, তার ১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণেও উল্লেখ করেছেন এই বলে, “বেঁচে আছি ঘরে বাইরে, অন্তরে বাইরে, দেহ মনে, সংসারে সমাজে নানা সংগ্রামে বিক্ষত হয়ে।”

তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু মানুষ আছে, যাদের কথা ও কাজ তাদের চলার পথে চারপাশের মানুষের মাঝেও প্রাণসঞ্চার করে এবং তাদের কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। সুফিয়া কামাল ছিলেন তেমনই একজন আলোর দিশারী। যদি কাউকে ডেকে বলা হয় যে-“শোনো, তুমি হচ্ছো মেয়ে, তুমি তো বাইরে যেতে পারবে না”। তখন কি আর সেই ঘরের কোণে বসে বসে ভাবা যায় জ্ঞান অর্জনের কথা নাকি সেইসব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে কেউ পড়ালেখা করতে পারে!

বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সহ-সভাপতি কবি নাহিদ রোখসানার সভাপতিত্বে ও জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভাপতি কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন গনি মিয়া বাবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ.স.ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রোকনউদ্দিন পাঠান, আলোকিত কুমিল্লা নিউজের সম্পাদক মো. মহসিন ভুইয়া, সাংবাদিক নসরুল হক, বরিশাল বিভাগ সমিতির অন্যতম নেতা মো. শহীদুন্নবী ডাবলু, সংগঠনের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family
Design & Developed BY Nobobarta.com