কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মবার্ষিকী আজ - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আটোয়ারীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলায় ২ আসামীকে আদালতে হাজির, জামিন না মঞ্জুর হামদর্দ এমডির বিরুদ্ধে যুদ্ধোপরাধের অভিযোগ তোলায় বিস্মিত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আটোয়ারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তি সহ দুটি গরুর মৃত্যু দ্রুত জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি আবির্ভাব: এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে মাদার তেরেসার মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নেতাদের অভিষেক সম্পূর্ন বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ইউপি সম্মাননা পুরস্কার পেলেন দন্ডপাল ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাইফুদ্দীন আহ্মদ কে কেউ মনে রাখেনি!
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মবার্ষিকী আজ

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্মবার্ষিকী আজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

আজ ১৪ জুন, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ৭০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের এই দিনে তিনি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজীপাড়াতে হলেও বাবার চাকরি সূত্রে রাজশাহীতে তার বেড়ে ওঠা। বাবার নাম এ কে মোশাররফ হোসেন এবং মায়ের নাম মরিয়মন্নেসা বকুল। সাত ভাইবোনের মধ্যে সেলিনা হোসেন হচ্ছেন চতুর্থ।

নগরীর নাথ গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বিভাগীয় পর্যায়ে গল্প রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। তারপর থেকেই অবিরাম লিখে চলেছেন।

সেলিনা হোসেনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে। সেখানে কর্মরত অবস্থায় তিনি বাংলা একাডেমির অভিধান প্রকল্প, বিজ্ঞান বিশ্বকোষ, জেন্ডার কোষ, বিখ্যাত লেখকদের রচনাবলী, লেখক অভিধান, চরিতাভিধান, একশত এক সিরিজের গ্রন্থগুলো প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেন। সম্পাদনা করেছেন শিশু-কিশোর পত্রিকা ধান শালিকের দেশ।

উপন্যাস, ছোট গল্পের সংকলন, শিশুতোষ গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও সম্পাদনা মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। তার অনবদ্য সৃষ্টিকর্মের মধ্যে রয়েছে, ভূমি ও কুসুম, পূর্ণ ছবির মগ্নতা, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, যাপিত জীবন, নীল ময়ূরের যৌবন, কাঁটাতারে প্রজাপতি, কাঠ কয়লার ছবি, নুন পান্তার গড়াগড়ি ও অন্যান্য। তার উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ এ নামেই চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ও গল্পে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি যেমন উঠে এসেছে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখ-দুঃখের উপাখ্যান হয়ে উঠেছে তার লেখনিতে। তার রচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গণমানুষের সংগ্রাম হিসেবে চিত্রায়িত হয়েছে। যা মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক ধারণা দেয়। তিনি বাঙালি জীবনের সমাজ-সংকট ও সম্ভাবনার চিত্র , ছিটমহলের মানুষের জীবন, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনকে উপন্যাসে রূপ দিয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও কর্ম নিয়েও তিনি তৈরি করেছেন অনবদ্য উপন্যাস।

কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ এবং শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য এ বছর আনন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ লাভ করেন। ২০১০ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। তিনি ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা।

সেলিনা হোসেন ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জননী। বড় মেয়ে লাজিনা মুনা বর্তমানে ইউএসএতে কর্মরত। ছেলে সাকিব আনোয়ার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে কর্মরত। ছোট মেয়ে ফারিয়া লারা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রশিক্ষক বৈমানিক, যিনি ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণ বিমানে উড্ডয়নকালে নিহত হন। সেলিনা হোসেনের স্বামী মোঃ আনোয়ার হোসেন একজন বৈমানিক কর্মকর্তা।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply