বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

English Version
অন্ত:সত্তা হলেন নারী মাঠকর্মী, বিপাকে এনজিও পরিচালক!

অন্ত:সত্তা হলেন নারী মাঠকর্মী, বিপাকে এনজিও পরিচালক!



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বগুড়া অফিস: সৃষ্টি সমাজ উন্নয়ন শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিঃ নামের একটি এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ছদ্মদাম আক্তার (২২)।

সে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের গামড়া গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে। ওই এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম নাজেম সেও একই উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের ছাতড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। এনজিও পরিচালকের নজর পড়ে মাঠকর্মী আক্তারের ওপর।

নারী দেহে লোভ করে হঠাৎ একদিন মাঠকর্মী আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ওই এনজিও পরিচালক। একই এনজিওতে কাজ করতে হয়, যেকারণে প্রায়ই বিয়ের প্রস্তাব দিতেন আব্দুর রহিম নাজেম। একপর্যায়ে দুজনের মনের মিলন হয়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্নস্থানে দফায় দফায় যৌনকর্মে লিপ্ত হয় দুজন। এনজিও পরিচালকের মিথ্যা প্রলোভন আর প্রতারণার রক্ষা পায়নি মাঠকর্মী আক্তার (ছদ্মনাম)। দৈহিক মেলামেশার পুরস্কার হিসেবে ওই মাঠকর্মী এখন ৩ মাসের অন্ত:সত্তা।

গত ১৪ অক্টোবর বিয়ের জন্য এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম নাজেমকে চাপ দেয় সেই মাঠকর্মী। এরপর ফের বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সম্প্রতি গর্ভবর্তী মাঠকর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয় জয়পুরহাট। সেখানে নারী মাঠকর্মীর গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত এনজিও পরিচালক। জয়পুরহাটে এনজিও পরিচালকের এক বন্ধুর বাসায় গর্ভপাতের চেষ্টা করলে সেখান থেকে কৌশলে নিজ বাড়ি শিবগঞ্জে পালিয়ে আসে আক্তার (ছদ্মনাম)।

পরের দিন ১৫ অক্টোবর ওই এনজিও অফিসে গিয়ে আবারও অভিযুক্ত পরিচালককে বিয়ের জন্য চাপ দেয় ওই নারী। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নারী মাঠকর্মীর তোপের মুখে পড়ে তালবাহানা করে এনজিও থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত পরিচালক। পরে বিয়ে না করার জন্য গ্রাম্য মোড়ল ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে লম্পট এনজিও পরিচালক।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) অন্ত:সত্তা ওই নারী আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, প্রলোভন দেখিয়ে মধু খাওয়ানোর মাধ্যমে আমার গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করেছে ওই লম্পট। আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম। আমি আমার গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই। ওই এনজিও পরিচালক আমাকে বিয়ে না করে তালবাহানা করছে। টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে, সৃষ্টি সমাজ উন্নয়ন শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অফিসটি তালাবদ্ধ। মোবাইল ফোনে এনজিও’র অভিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম নাজেমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এপ্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম আলম জানান, বিষয়টি তিনি মেয়ের (মাঠকর্মী) কাছ থেকে অভিযোগ আকারে বিষয়টি জেনেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এপ্রসঙ্গে শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এধরণের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com