আজ সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

ঈদযাত্রায় চাঁদার খপ্পরে লোকাল বাস

ঈদযাত্রায় চাঁদার খপ্পরে লোকাল বাস

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    4
    Shares

ঈদযাত্রায় ট্রেন ও কাউন্টার বাসের টিকিট যারা পায়নি তাদের একমাত্র ভরসা লোকাল বাস সার্ভিস। এসব লোকাল বাসকে ঈদ সালামির নামে পদে পদে দিতে হচ্ছে চাঁদা। এই চাঁদার মাশুল যাত্রীদের পকেট থেকেই গুণতে হচ্ছে।

ঈদের ১৫ দিন আগ থেকেই রাজধানীসহ মহাসড়কের বাস স্টপেজে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। আর এসব ঈদ সালামি/বকশিসের নামে চাঁদাবাজির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে লোকাল বাসগুলো। চাঁদা দিতে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। কোন লোকাল বাস চাঁদা দিতে না চাইলে ঘটছে মারামারির ঘটনা। মহাসড়কে এসব চাঁদাবাজদের প্রভাব এতোটাই শক্তিশালী যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিহত করতে পারে না। তবে ভিন্ন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কাউন্টার সার্ভিস বাসগুলোর। এখানে চাঁদাবাজরা বাস স্টপেজের সামনে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ লোকাল বাস স্টপেজ- গাবতলী, সায়দাবাদ ও আব্দুল্লাপুর। এসব বাস স্টপেজে প্রতিনিয়ত চাঁদা তুলছে একশ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে চাঁদা নিলেও অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া যেন কোনো উপায় নেই। রোজিনা লোকাল বাস সার্ভিসের (গাবতলী টু মাওয়া) বাসটি গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিলো। তৎক্ষণাৎ একজন লোক এসে বাসের সুপারভাইজারের কাছ থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা চাইলে লেগে যায় তর্কবিতর্ক। সুপারভাইজার সুমনের বক্তব্য হচ্ছে, ৫ মিনিট হলো বাসটি স্ট্যান্ডে দাঁড় করে যাত্রী তুলছেন। এখনও বাসে ২০ জন যাত্রী হয়নি এরমধ্যেই ২৫০ টাকা চাঁদা চাইছে। ঈদ এলে এমনিতেই চাঁদা বাড়িয়ে দেয়া হয়। একই অবস্থা সায়দাবাদ বাস স্টপেজেও। উত্তরবঙ্গ গামী লোকাল বাস সৌখিন। সায়দাবাস বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো মাত্রই আব্দুল মতিন নামে এক ব্যক্তি চাঁদা চেয়ে বসেন।

মহাসড়কে ঈদ সালামির নামে চাঁদা নেয়ার বিষয়ে উত্তরবঙ্গের সৌখিন লোকাল বাসের সুপারভাইজার হানজালা রহমান বলেন, ঈদের সময় বাস চালাতে গিয়ে পদে পদে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে ড্রাইভার, সুপারভাইজার এমনকি হেলপারকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। ফলে উপায় না পেয়ে চাঁদা দিতে হচ্ছে। পুলিশ যদি মহাসড়কে ঈদের সালামি নেয়া বন্ধ করতে পারতো তাহলে যাত্রীদের কাছ থেকে অল্প টাকা ভাড়া নিলেও লোকাল বাসে লাভ হত। কিন্তু এই চাঁদার কারণে ঈদযাত্রীদের কাছ থেকে ৫শ’ টাকার ভাড়া ৮শ’ কিংবা এক হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সায়দাবাদ, আব্দুল্লাপুর, কামারপাড়া, আশুলিয়া, চাঁনদুরা ও টাঙ্গাইল পর্যন্ত প্রায় ৭ থেকে ৮টি স্থানে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। এমনকি মহাসড়কে মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে চাঁদা নিচ্ছে। একই কথা বলেন ময়মনসিংহ ও খুলনাগামী লোকাল বাস সার্ভিসের সুপারভাইজাররা।

খুলনাগামী লোকাল বাসের সুপারভাইজার মোবারক বলেন, ঈদের সালামির নামে যে চাঁদা দেয়ায় হচ্ছে এতে বাসে কাজ করে কোনো লাভ নেই। প্রথম গাবতলী বাস স্টপেজে চাঁদা দেয়া শুরু হয়। গোয়ালন্দ ফেরিঘাট, ফরিদপুর মোড়, মধুখালী, মাগুরা, যশোর বাস স্ট্যান্ডে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া মধুখালী থেকে খুলনা পর্যন্ত মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে সড়কে চাঁদা আদায় তো রয়েছেই। এসব কারণে আগামী ঈদের পর থেকেই তিনি এই বাস সার্ভিসে থাকবে না বলে জানান। নেত্রকোনাগামী একটি বাস মহাখালী বাস টার্মিনালের ভেতর থেকে ছেড়ে মূল সড়কে ওঠার আগেই বাসের দরজার পাদানিতে উঠে দাঁড়ালেন একজন। ওই বাসের একজন কর্মীর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে তিনি বিদায় হলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসমালিক বলেন, ‘মালিক সংগঠনের নামে চাঁদা তোলা হয়, তবে আমরা কখনো ওই টাকার হিসাব নিতে যাই না। কখনো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে নেতারা এগিয়ে আসেন, সহযোগিতা করেন। আমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট। আমরা ধরেই নিয়েছি, ব্যবসা করতে হলে গচ্চা তো কিছু যাবেই। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, চাঁদা দেই, এটা আমরা যাত্রীদের ওপর থেকে তুলে নেই। গড়ে তো লোকসান নাই।

মহাসড়কে ঈদ সালামির ব্যাপারে ইউনিক সার্ভিসের সুপারভাইজার বক্কর হোসেন বলেন, ঈদ কিংবা অন্য কোন সময় কাউন্টার বাস মহাসড়কে আটকিয়ে সালামি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বাসের মালিকপক্ষ আমাদের শুধু ব্রিজের টোল ভাড়া দেয়। এছাড়া বাড়তি কোনো টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। ফলে কোথাও বাস থামিয়ে চাঁদা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে বাসের মালিকপক্ষকে জানানো হয়। ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে সড়কে চাঁদা দেয়া হয়েছে বলে কোনো রেকর্ড নেই। একই কথা বলেন সোহাগ বাসের হেলপার ফখরুজ্জামান।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

কে এই যুবক? টিস্যু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি পরিস্কার করছে



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com