করোনা আতঙ্কে ফাঁকা ঢাকা | Nobobarta

আজ বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
প্রথম রাতে ৩৭শ পরিবার পেলো খাদ্যসামগ্রী : সিসিক বস্তিতে ভরা দুপুরে কন্ঠশিল্পী নয়ন দয়া ও হাজী আরমান ৬৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সিসিক ভালুকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাদিকুর রহমান ঝালকাঠি করোনা প্রতিরোধে রক্ত কণিকা ফাউন্ডেশন জীবাণুনাশক স্প্রে করোনাঃ দুস্থদের খাদ্য দিলো কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজাপুরে সাইদুর রহমান এডুকেশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্ট’র হতদারিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ রাজাপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতির গরীব মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ রাজাপুরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউপি সদস্য
করোনা আতঙ্কে ফাঁকা ঢাকা

করোনা আতঙ্কে ফাঁকা ঢাকা

Rudra Amin Books

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পাল্টে দিয়েছে ব্যস্ততম শহর ঢাকার চিরচেনা দৃশ্য। শো-সাঁ গাড়ির শব্দ, যানজট, রাস্তাঘাটে মানুষের উপচেপড়া ভিড়- বর্তমান চিত্র দেখে মনে হয় এসব যেন মিছে কথা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা উত্তরা, বনানী, কারওরান বাজার, কলাবাগান, শাহবাগ, ফার্মগেট, বাংলামোটর, নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় আগের মতো যানজট নেই, নেই মানুষের উপচেপড়া ভিড়। যারা জরুরী কাজে রাস্তায় বের হয়েছেন করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মাঝে।

ভাড়ায় চালিত পাঠাও প্রাইভেটকার চালক আবু সাঈদ বলেন, সারাদিনে যেখানে ভাড়া মারতাম ৩-৪ হাজার টাকা। আজ এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০০ টাকার ভাড়া পেয়েছি। গতকাল বুধবার কোন ভাড়া মারতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, উত্তরা থেকে যেখানে ফার্মগেটে যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা, সেখানে যাচ্ছি মাত্র ২০ মিনিটে। বুঝতেই পারছেন অবস্থা। রাস্তায় গাড়ি নেই বললেই চলে। রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন কমে যাওয়ায় যানজটও কমে গেছে রাজধানীতে। সবার মাঝে বিরাজ করছে করোনা নামক এক আতঙ্ক। ফাঁকা রাজধানীর রাস্তায় যেন কোনো প্রকার অপরাধ না হয় সেদিকে সচেতন রয়েছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী।

রাজধানীর খিলক্ষেতে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিনের মতই দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কাজের চাপ কমে গিয়েছে কারণ রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা খুবই কম। তিনি আরো বলেন, রাজধানীর রাস্তা ফাঁকা থাকার কারণে অপরাধীরা যেন কোন প্রকার অপরাধ সংঘঠিত করতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, দেশের মানুষের মাঝে বেশ কয়েকদিন ধরেই করোনা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে রাজধানীতে মানুষের কারনে ফুটপাতে হাটতে কষ্ট হতো সেখানে কয়েকদিন থেকেই রাজধানী ফাঁকা। আমাদের উচিত নিজেকে পরিষ্কার রাখা। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

ফুতপাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। মানুষ আগের মত আর বের হচ্ছে না। সবাই যতটা পারছে বাসায় থাকার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দোকান বন্ধ করে দিয়ে বাসায় বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। মেঘলা খান নামের একজন চাকরিজীবী বলেন, শান্তিনগর থেকে গুলশান-১ অফিসে আসার জন্য এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। তিনি আরো বলেন, রাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমানে বাস না থাকায় সবাই গাদাগাদি করে এক বাসেই উঠেছি। কারো সঙ্গে করোনার ভাইরাস রয়েছে কি না কে জানে। আমি নিজেই চিন্তিতো। আমার কারনে পরিবার যেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়, সেই চিন্তাই করছি এখন।

ট্রাফিক উত্তর ডিসি সাইফুল হক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ফাঁকা রাজধানীর রাস্তায় নিরাপত্তা দিতে আমাদের ট্রাফিক সদস্যরা তৎপর রয়েছে। যানবাহনের কাগজ দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দেশে নতুন করে আরো তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন। এর মধ্যে বুধবার একজন মারা গিয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। আর তিনজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta