আজ রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

একান্ত সাক্ষাৎকারে হেলাল উদ্দিন
জাতীয় পার্টির মহাসচিব তৃনমূলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন

একান্ত সাক্ষাৎকারে হেলাল উদ্দিন

মো: হেলাল উদ্দিন
মো: হেলাল উদ্দিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার: রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে লাঙ্গলের বড় জয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে হতাশা নেমে এলেও জাতীয় পার্টি উজ্জীবিত। রংপুরে জাতীয় পার্টির এ বিপুল জয়ের নেপথ্য কারণ ভোটারদের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই ফুটে উঠেছে। রংপুরবাসী মনে করেন ‘আগামীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আরও ক্ষমতায়িত হবেন। আগামীর জাতীয় রাজনীতির নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হবেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। রংপুরবাসী সেই চিন্তা মাথায় রেখেই রংপুর সিটিতে লাঙ্গলে ভোট দিয়েছেন।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এরশাদ ক্ষমতায়িত হলে দেশের উন্নয়ন হবে। রংপুর সিটির বিজয় শুধু রংপুরেই থেমে থাকবে না, এটা ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন ঘটবে। পরবর্তী সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এরশাদের অবস্থান আরও সুসংহত হবে। এরশাদই হবেন রাজনীতির প্রভাবশালী নিয়ামক। বর্তমানে অনেক বেশী শক্তিশালী জাতীয় পার্টি। দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রচেষ্টায় তৃনমূলে বেড়েছে সাংগঠনিক তৎপরতা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ব্যক্তি ইমেজ নেতাকর্মীদের আরও সাহসী করে তুলেছে। জাতীয় পার্টি এখন রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করছে জাতীয় পার্টি। আগামী ২৪ মার্চে রাজধানীতে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ। এ উপলক্ষে সারাদেশের কর্মীরা উজ্জীবিত। জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশে জনসমুদ্রে পরিনত হবে বলেও দাবি করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার এম নজরুল ইসলামের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক তৎপরতা সম্পর্কে জানালেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও সমবায় ব্যাংকের পরিচালক মো: হেলাল উদ্দিন।

নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় পার্টি কি প্রস্তুত ?
হেলাল উদ্দিন : দেশে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যখনই নির্বাচন হোক জাতীয় পার্টি অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। রাজনীতিতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা কিন্তু অস্থির নেই। দেশবাসী পল্লীবন্ধু এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। রাজনীতি একটি প্রত্যাশার জায়গা। প্রত্যাশা ছাড়া রাজনীতি করা যায় না। আমাদের কর্মীদের মধ্যে একটি প্রত্যাশা জাগ্রত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে অবশ্যই এর প্রতিফলন ঘটবে।
নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার: আপনারা আগাম নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন, তৃনমূল নেতাকর্মীদের কেমন আগ্রহ দেখছেন?

হেলাল উদ্দিন : আগেও বলেছি, সারাদেশের সকল স্তরের কর্মীরাই উজ্জীবিত। হতাশা কেটে গেছে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ব্যাপক উজ্জীবিত। নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন প্রাণসঞ্চার হয়েছে, তেমনি সাংগঠনিকভাবেও জাতীয় পার্টি শক্তিশালী।

নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অধিকাংশ জেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল, নেতাকর্মীদের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে আপনার মতামত কি ?

হেলাল উদ্দিন : জাতীয় পার্টিতে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দল ছিল না। আমরা এক ছিলাম, এক আছি। জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। বড় একটি পরিবারে মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে আগামী নির্বাচনে জাপা নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করছেন পল্লীবন্ধু এরশাদ। সাংগঠনিকভাবে জাতীয় পার্টি এখন শক্তিশালী। তৃনমূলের যেখানে নেতৃত্বে দুর্বলতা রয়েছে, সেদিকে পার্টির সফল মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার স্যার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন।

নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার: আগামী নির্বাচনে কি শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসতে পারবে ?

হেলাল উদ্দিন : দেখুন, ক্ষমতা পাওয়া বা না পাওয়া সবই মহান আল্লাহ’র ইচ্ছে। তবে রাস্তাঘাট, অফিস-আদালতসহ দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পল্লীবন্ধু এরশাদ যে উন্নয়ন করেছেন, তা আর কেউ করতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় দেশের মানুষ। পল্লীবন্ধু ৯ বছরের শাসনামলে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন তা এখনো দৃশ্যমান। যে যাই বলুক জাতীয় পার্টি দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এ দুটো দলের প্রতি জনগনের আর কোনো আস্থা নেই। তাদের উপর জনগন আস্থা পাচ্ছে না। সে কারণে এ শূন্যতা পুরণ করতে পারে একমাত্র জাতীয় পার্টি।

নববার্তা স্টাফ রিপোর্টার: শুনেছি গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি ঢাকা-১০ আসনে জাপার প্রার্থী ছিলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি কেন ?

হেলাল উদ্দিন : ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আমাকে দলের প্রার্থী করেছিলেন পল্লীবন্ধু এরশাদ। তিনি নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলেছিলেন। পল্লীবন্ধু যেদিন নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, একই সময় আমিও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলাম। স্যারই যদি নির্বাচন না করেন, তাহলে আমি নির্বাচন করবো কেন’ প্রশ্নই আসেনা।

আমাদের প্রতিবেদক এম নজরুল ইসলামের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ঢাকা-১০ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হেলাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় পার্টি জ্বালাও পোড়াও পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জাতীয় পার্টি জনগনের ভালবাসা এবং তাদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। পল্লীবন্ধু এরশাদ স্যার যদি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে ঢাকা-১০ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেন, আসনটি স্যারকে উপহার দিতে আমি চেষ্টা করবো। আমি এলাকা ও এলাকার মানুষের ব্যাপক উন্নয়ন করব এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছিনা। নির্বাচন তো জনগনের মতামত। সাধারন জনগন চাইলে আমি নির্বাচিত হব। জনগণ আমাকে যেভাবে ভালবেসে আপন করে নিয়েছেন, আশা করি জনগণ ঠিক অনুরূপভাবেই আমাকে ভালবেসে আপন করে নিবেন।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply

Nobobarta.com
Design & Developed BY Nobobarta.com